অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বুধবার, ১৩ই মে ২০২৬ | ৩০শে বৈশাখ ১৪৩৩


পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোলায় রবিশস্যের ব্যাপক ক্ষতি


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ই মে ২০২৬ রাত ০৯:০৯

remove_red_eye

বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক : নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে শতশত একর জমির রবিশস্য। এতে   মুগ, মরিচ, সয়াবিন, চিনা বাদামসহ বিভিন্ন রবি শস্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কোন কোন কৃষক একটু ফসলও ঘরে তুলতে পারেননি। কৃষি বিভাগ বলছে পনি নিষ্কাশনের জন্য খালগুলো সংষ্কার প্রয়োজন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদেরকে সরকারি প্রণোদনার আওতায় এনে সহায়তা করা হবে। 
কৃষকরা জানান, গত সপ্তাহে ভোলায় কালবৈশাখীসহ টানা তিনদিন ভারি বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় জেলার ৭টি উপজেলার রবি রবিশস্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।   

সদর  উপজেলার ধনিয়া, শিবপুর, আলিনগর, চর সামাইয়া সহ ১৩টি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকার গিয়ে দেখা যায় অধিকাংশ ফসলের ক্ষেতে পানি জমে আছে।  এতে করে সয়াবিন, চীনা বাদাম, মরিচ, মুগডালসহ অন্যান্য রবি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। 

সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামের কৃষক নুরে আলম, শাহজাহান মাহফুজ  জানান, মৌসুমের শুরুতে ভালো ফলনের আশায় সয়াবিন  চাষাবাদ করেছি । কেউ কেউ কিছু ফসল ঘরে তুলতে পারলেও বেশিরভাগ কৃষক এখনও ফসল তুলতে পারেননি। পানি নিষ্কাশন  ব্যবস্থা না থাকায় জমিতে পানি জমে গেছে। এতে  সয়াবিন বাদাম মুগডালসহ অন্যান্য শস্যগুলো পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এখন পানি পঁচে দুর্গন্ধ হয়ে গেছে।  

সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের আলগী, কালাসুরা, বলরামসুরা, গুলি, নাসির মাঝি, দরিরাম শংকর একালায় গিয়ে দেখা যায় সড়কের উপর চার পাঁচটি ছোট ব্রিজ এবং কালভার্ট রয়েছে। কিন্তু নিচে রয়েছে মাত্র তিন ফুট চওড়া ড্রেন। স্থানীয়রা জানান, ওই এলাকায় ১০ থেকে ১৫ ফুট চওড়া খাল ছিল। গত পাঁচ বছর আগে খালটি ভরাট করে ৩ ফুট চওড়া একটি ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। ওই সরু ড্রেন দিয়ে ৫/৬ টি গ্রামের পানি নামতে পারে না। এছাড়া ড্রেনটি অনেক স্থানে মাটিতে ভরে গেছে। ফলে গ্রামগুলোর প্রায় এক থেকে দেড় হাজার একর জমিতে পানি আটকে আছে। এতে কয়েক শত কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। 
স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে এই এলাকার অনেক বাড়িঘরে পানি জমে যায়। স্থানীয়দের দাবি, অতি দ্রুত অকেজো ড্রেনটি বাতিল করে খাল করা হোক।


পানি নিষ্কাশনের জন্য খাল বা নালাগুলো সংষ্কার করা প্রয়োজন উল্লেখ করে জেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. শামিম আহমেদ জানান, পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কৃষকদের ক্ষতি হয়েছে। তাদের এই ক্ষতি পুষিয়ে দিতে প্রণোদনার আওতায় এনে কৃষকদেরকে সহায়তা করা হবে।