অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বুধবার, ৩রা জুন ২০২০ | ১৯শে জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭


ভোলায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন করোনা রোগী: এলাকায় আতংক


অচিন্ত্য মজুমদার

প্রকাশিত: ১২ই মে ২০২০ সন্ধ্যা ০৭:১৪

remove_red_eye

৩৩৮০

অচিন্ত্য মজুমদার:: ভোলায় করোনা আক্রান্ত দৌলতখান হাসপাতালের ল্যাব এসিসটেন্ট এর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে হোম আইসোলেশনে থাকতে বলার পাশাপাশি তার বাড়ি লকডাউন করা হয়। কিন্তু প্রশাসনের সেই নির্দেশ অমান্য করে করোনা আক্রান্ত ওই ব্যক্তি বাহিরে ঘুরাঘুরি করায় এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সচেতন লোকজন তাকে ঘুরে বেড়াতে নিষেধ করায় তিনি উল্টো তাদের উপর চড়াও পর্যন্ত হচ্ছেন। তবে ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

ভোলা সিভিল সার্জন রতন কুমার ঢালী জানান, ভোলার দৌলতখান হাসপাতালের ল্যাব এসিসটেন্ট কামরুজ্জামান মজনু নমুনা পরীক্ষার পর গত ১০ মে তার রির্পোট পজেটিভ আসে। তার পর তাকে  ভোলা জেলা শহরের টাউনস্কুল মাঠ সংলগ্ন বাসায় হোম আইসোলেশনে থাকতে বলা হয়। পাশাপাশি ওই রাতেই প্রশাসনে পক্ষ থেকে এলাকায় মাইকিং করে তার বাড়ি লকডাউন করা হয়।

কিন্তু স্থানীয়রা এলাকাবাসী জানায়, মজনু লকডাউনের শর্ত ভঙ্গ করে ১১ মে সোমবার থেকে জন সম্মুখে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তিনি সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নের দক্ষিণ চরনোয়াবাদ হাওলাদার মার্কেটের তার ঔষধের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে বিভিন্ন লোকজনের সাথে লেনদেনসহ দেখা সাক্ষাত করেছেন।

দক্ষিণ চরনোয়াবাদ হাওলাদার মার্কেটের ব্যবাসায়ী মো: কবির ও স্থানীয় বাসিন্দা ফজলুর রহমান,  বশির আহমেদ, ওয়াসিমসহ স্থানীয় লোকজন জানান, কামরুজ্জামান মজনু করোনা আক্রান্ত হওয়ার পরদিন সন্ধ্যায় মোটরসাইকেলে এক ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে ওই মার্কেটে তার ঔষধের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আসেন। এসময় তিনি ওই এলাকার পার্শ্ববর্তী এক ব্যবসয়ীর পাওনা টাকা পরিশোধ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা লাল মিয়া জানান, করোনা আক্তান্ত হওয়ায় মজনুকে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে নিষেধ করলে তিনি তাদের উপর চড়াও হন। কামরুজ্জামান মজনুর দাবি তিনি করোনা আক্রান্ত নন। তার বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানো হয়েছে।  

এলাকাবাসী আরো জানান, তিনি ৯ মে পর্যন্ত ওই এলাকায় তার ঔষদের দোকানে নিয়মিত বসতেন। রোগীদের কাছে ঔষধ বিক্রি করতেন। এসব কারনে ওই এলাকার মানুষ এখন চরম আতংকে রয়েছে। তারা বলছে, করোনা আক্রন্ত হওয়ার পরও তিনি ২০/২৫ জনের সাথে দেখা সাক্ষাত করেছেন। তাদের যদি এখন কিছু হয় এর দায় ভার ওই মজনুকেই নিতে হবে।

ভোলার সিভিল সার্জন ডাক্তার রতন কুমার ঢালী জানান, লকডাউন ভেঙে ঘুরে বেড়ানোর ব্যাপারে কামরুজ্জামান মজনু কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি অস্বীকার করেছে। তবে তিনি যদি এলাকায় ঘুরে থাকেন তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে ভোলা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক জানান, তার বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। এখন তিনি যদি লক ডাউনের শর্ত ভঙ্গ করে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ান তা হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।




আজকের সাহরীর ও ইফতারে সময় সূচী ভোলা জেলার জন্য