অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, রবিবার, ৫ই এপ্রিল ২০২৬ | ২২শে চৈত্র ১৪৩২


চরফ্যাশনের তরমুজে স্বপ্ন বুনছে কৃষক


চরফ্যাসন প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৫ই এপ্রিল ২০২৬ সকাল ০৭:৪৬

remove_red_eye

৪৩

এআর সোহেব চৌধুরী, চরফ্যাশন থেকে : চলতি মৌসুমে চরফ্যাশনের তরমুজে স্বপ্ন বুনছে কৃষক, প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার তরমুজ বাণিজ্যের আশা করছে চরফ্যাশন কৃষি অফিস। উপজেলায় ১২ হাজার ৮শ ৭৫ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ করা হয়েছে।
যা অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবছর তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে।
উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকরা একসময় আমন ধান চাষে নির্ভরশীল হলেও বর্তমানে তরমুজ চাষের দিকে ঝুঁকছেন এখানকার কৃষকরা। চরফ্যাশন উজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন চোখে পড়ে তরমুজের সমারোহ। অধিক মুনাফার আশায় কৃষকরা ধান ও অন্যান্য ফসলের আবাদ কমিয়ে তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়েছেন। চরফ্যাশনে এবার তরমুজের বাম্পার ফলন হলেও  ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন কৃষকরা। বাজারে খুচরা দাম তুলনামূলক বেশি হলেও পাইকারি পর্যায়ে আশানুরূপ মূল্য পাচ্ছেন না চাষিরা।
নজরুলনগর ইউনিয়নের তরমুজ চাষি জাহাঙ্গীর পেদা বলেন, কীটনাশক,বীজ,সার ও শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে। সেই অনুপাতে তরমুজের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছি না। হাটবাজারে খুচরা মূল্য বেশি হলেও তরমুজ মাঠে পাইকারি বিক্রিতে তেমন লাভ হচ্ছে না।’
চরকলমীর কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন, রমজানের শুরুতে যারা আগাম তরমুজ বাজারে এনেছেন তারা ভালো দাম পেয়েছেন। তবে বর্তমানে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কমেছে। এরপরও তিনি আশা করছেন, উৎপাদন খরচের তুলনায় কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করতে পারবেন।
চরমানিকা ইউনিয়নের তরমুজ চাষি  মো.রাকিব বলেন, ডিজেল পেট্রোলসহ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণ দেখিয়ে তরমুজ পরিবহনে ট্রাক ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। যারফলে পরিবহন ব্যয় বেড়ে গিয়ে আমাদের লাভ কমে যাচ্ছে। বাজারে বর্তমানে তরমুজের দাম কমে গিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। 
এ বিষয়ে চরফ্যাশন কৃষি অফিসার নাজমুল হুদা বলেন, এবছর উপজেলায় ১২হাজার ৮শ ৭৫ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষাবাদ হয়েছে, যা অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও হয়েছে বেশ ভালো।
নাজমুল হুদা আরও বলেন, উৎপাদন থেকে বিপণন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় তরমুজকে ঘিরে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার বাজার সৃষ্টি হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে এ অঞ্চলে তরমুজ চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে। এতে করে চাষিরা  অর্থনৈতিকভাবে বেশি লাভবান হবে। আমরা কৃষকদের তরমুজ উৎপাদনে প্রশিক্ষণসহ সকল প্রকার সহায়তা প্রদান করছি। জ্বালানি তেল মূল্য কমে গেলে আশা করা যাচ্ছে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পেতে পারেন।

মোঃ ইয়ামিন