অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, রবিবার, ৩১শে মে ২০২৬ | ১৭ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


জিয়াউর রহমানের আদর্শে দেশ গঠনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩১শে মে ২০২৬ বিকাল ০৩:৪১

remove_red_eye

৪১

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় তিনি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে দেশ গঠনের আহ্বান জানান।  

গতকাল শনিবার (৩০ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ সংলগ্ন রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ কর্মসূচি শুরু হয়। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে রাজধানীর ১৬টি স্থানে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী একে একে সবগুলো স্থানে উপস্থিত হয়ে এ কার্যক্রমে অংশ নেন। এর মধ্যে ছিল মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, শ্যামলী স্কয়ার, সরকারি বাংলা কলেজ এলাকা, পল্লবী মেট্রো স্টেশন, ইসিবি চত্বর, কুড়িল বিশ্বরোড, ফুজি ট্রেড সেন্টার, বাড্ডা, জোড়পুকুর খেলার মাঠ, বাংলাবাজার, যাত্রাবাড়ী, জুরাইন ও ধানমন্ডি এলাকা। 

এছাড়া নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে আয়োজিত পৃথক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী দুস্থদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ করেন।  

জিয়াউর রহমানের আদর্শে দেশ গঠনের শপথ

বিভিন্ন স্থানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, শহীদ জিয়ার আদর্শে দেশ গঠনের শপথ নিতে হবে। কারণ তার রাজনীতি ছিল মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং দেশ গঠন করা। তাই আমাদের আজও তার আদর্শ অনুসরণ করে এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ গঠনের কাজে সবাইকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। 

সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার আহ্বান

রাজধানীর ইসিবি চত্বরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেহেতু আজকের এই অনুষ্ঠান রাস্তার মধ্যে আয়োজন করা হয়েছে, দেখুন কত গাড়ি চলাচল করছে, মানুষের কিছুটা কষ্ট হচ্ছে। সে কারণে আমরা কর্মসূচিটি সংক্ষিপ্ত করেছি।  

তিনি বলেন, আমরা অঙ্গীকার করি, সমাজের সবাইকে বিভিন্নভাবে একে অপরের সাহায্য-সহযোগিতা করবো। একজন নাগরিক হিসেবে যদি আমরা সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে একে অপরের পাশে দাঁড়াই, তাহলেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হবে।  

নেতাকর্মীদের অসহায় মানুষের পাশে থাকার আহ্বান

নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দুস্থদের মধ্যে বস্ত্র ও শুকনো খাবার বিতরণের পর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বিএনপির নেতাকর্মীদের অসহায় মানুষের পাশে থাকার আহ্বান জানান। 

তিনি বলেন, আপনারা যারা দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে যুক্ত আছেন তারা জানেন, শহীদ জিয়ার শাহাদাতবার্ষিকীতে আমরা সবসময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী আমরা তাদের সহায়তা করার চেষ্টা করেছি। আপনাদের কাছেও আমার আহ্বান থাকবে, শুধু দলের পক্ষ থেকে নয়, ব্যক্তিগত উদ্যোগেও যেন আপনারা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। এটাই শহীদ জিয়ার শিক্ষা।  

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আসুন, আমরা শপথ গ্রহণ করি, আমাদের যার যার অবস্থান থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবো। আজকের দিনে এটিই হোক আমাদের প্রত্যাশা, এটিই হোক আমাদের সাফল্য।

শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ

খিলগাঁওয়ের জোড়পুকুর মাঠে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর জোর দেন এবং এ কাজে সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, আমরা যারা ঢাকা শহরে বসবাস করি, আমরা যারা বাংলাদেশের নাগরিক, এটি আমাদের দেশ, এটি আমাদের শহর। অবশ্যই সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব রয়েছে, তারা তাদের কাজ করছে। কিন্তু নাগরিক হিসেবে আমাদেরও দায়িত্ব আছে, আমরা যেন যতটা সম্ভব কম ময়লা করি। তাহলেই শহর আরও পরিচ্ছন্ন থাকবে।  

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহর পরিষ্কার থাকলে নাগরিকদের চলাফেরায় যেমন সুবিধা হবে, তেমনই পরিবেশও ভালো থাকবে। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজও সহজ হবে।  

রাজধানীর জুরাইনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, টিভির পর্দায় যখন অন্যান্য দেশের ছবি দেখেন, সুন্দর রাস্তাঘাট দেখেন, পরিষ্কার রাস্তাঘাট দেখেন, তখন একটু হিংসা হয় না মনের মধ্যে? ভাবেন আমাদের রাস্তাঘাট কেন এত ময়লা হয়? যে দেশের রাস্তাঘাট পরিষ্কার, সে দেশের সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা যেমন পরিষ্কার করে, একইভাবে সে দেশের জনগণও কিন্তু যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলে না। এখন আপনি সরকারের কেউ না। এই কাজটি করার জন্য কিন্তু সরকারের কেউ হওয়ার দরকার নেই। এমপি হওয়ার দরকার নেই। মন্ত্রী হওয়ার দরকার নেই। মেয়র হওয়ার দরকার নেই। ওয়ার্ড কমিশনার হওয়ার দরকার নেই। একজন নাগরিক হিসেবে আপনি এই কাজটি করতে পারেন।

বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান

অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের নাগরিক হিসেবে সচ্ছল ব্যক্তিরাও যদি একইভাবে এগিয়ে আসেন, তাহলে আমরা দ্রুতই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে পারবো।

তিনি বলেন, শুধু রাজনৈতিক দল বা সরকারের ওপর নির্ভর না করে সমাজের প্রতিটি সামর্থ্যবান মানুষ যদি নিজের অবস্থান থেকে একজন অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসে, তাহলে ধীরে ধীরে দেশের চেহারা এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা সম্ভব।  

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশটি কারও একার না। দেশটি যেমন কোনো সরকারের একার না, দেশটি যেমন কোনো রাজনৈতিক দলের একার না, দেশটি কোনো পরিবার বা কোনো ব্যক্তির একার না। দেশটি হচ্ছে লাখো-কোটি মানুষের, আমরা যারা বাংলাদেশে বসবাসকারী ২০ কোটি মানুষ, প্রত্যেকের। প্রত্যেকেই এই দেশের মালিক। তাই এই দেশকে যদি গড়ে তুলতে হয়, তাহলে আমাদের প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে।  

সকালে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জিয়া উদ্যানে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করেন এবং ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় তার সঙ্গে বিএনপির জাতীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।