অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, রবিবার, ৩১শে মে ২০২৬ | ১৭ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


গণতন্ত্রে ফিরে এসেছে দেশ, কিন্তু অপপ্রচারের রাজনীতি থামেনি: রিজভী


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩১শে মে ২০২৬ বিকাল ০৩:৩৫

remove_red_eye

৪০

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশে এখন গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এসেছে। রাজনৈতিক দলগুলো স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করতে পারছে, সরকারের সমালোচনা করতে পারছে।

কিন্তু দুঃখজনকভাবে অপপ্রচার ও মিথ্যাচারের রাজনীতি এখনও থামেনি।

 

রোববার (৩১ মে) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ‘সাংস্কৃতিক অঙ্গনে জিয়াউর রহমানের অবদান’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

রিজভী বলেন, গণতন্ত্রের আবহে সবাই কথা বলবে, সরকারের সমালোচনাও করবে।

তবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা কিংবা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে অপপ্রচার চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

 

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক ও জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্রনায়ক।

তার সততা, দেশপ্রেম, নেতৃত্বগুণ ও রাষ্ট্র পরিচালনার দক্ষতা নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষও কখনো প্রশ্ন তোলেনি। তিনি এমন এক নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, যা আজও দেশের রাজনীতিতে অনুসরণীয়।

 

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, জিয়াউর রহমান দেশের কৃষি ও খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছিলেন। তার খাল খনন কর্মসূচি নিয়ে বিরোধীরা নানা কটাক্ষ করলেও বাস্তবে সেই খাল দেশের কৃষি উৎপাদন বাড়িয়েছে, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করেছে এবং খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথ সুগম করেছে।

রিজভী বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও তার পিতার উন্নয়ন দর্শন অনুসরণ করে খাল, নদী ও জলাশয় পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছেন। দায়িত্ব গ্রহণের আগেই তিনি এসব বিষয়ে পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন এবং এখন তা বাস্তবায়ন শুরু করেছেন।

সাংস্কৃতিক অঙ্গনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, কোনো পরাশক্তি যখন একটি দেশের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে চায়, তখন প্রথমেই সে দেশের সাংস্কৃতিক ভিত্তিকে দুর্বল করার চেষ্টা করে। তাই জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ সাংস্কৃতিক কর্মীদের দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রক্ষায় আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

কয়েকটি দলের নেতাদের সাম্প্রতিক মন্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র এ নেতা বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপির অবস্থান সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। অথচ সরকারপ্রধান নিজেই বলেছেন, জুলাই সনদের বিষয়গুলো বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ঈদের দিন থেকেই সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা মাঠে কাজ করেছেন। পরদিন প্রধানমন্ত্রী নিজে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং যেখানে গাফিলতি পেয়েছেন, সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপি কোনো ধরনের অনিয়ম বা চাঁদাবাজিকে প্রশ্রয় দেয় না। দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ইতোমধ্যে শত শত নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ হলেও ধর্মের নামে ব্যবসা কিংবা রাজনৈতিক সুবিধাবাদকে সমর্থন করে না বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব। বলেন, দেশের মানুষ যেমন ধর্মবিরোধী উগ্রতা পছন্দ করে না, তেমনি ধর্মকে ব্যবহার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টাও গ্রহণ করে না।

রিজভী বলেন, জান্নাতের টিকিট বিক্রির রাজনীতি যেমন মানুষ গ্রহণ করে না, তেমনি ধর্ম নিয়ে কটূক্তি বা অবমাননাকেও মেনে নেয় না। বাংলাদেশের মানুষের অবস্থান সবসময় মধ্যপন্থায়, সহনশীলতায় ও জাতীয় স্বার্থের পক্ষে।

জাসাসের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক শক্তিকে আরও সুসংগঠিত করতে হবে। কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, সংগীতশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশীয় সংস্কৃতি ও জাতীয় চেতনাকে সমুন্নত রাখতে কাজ করতে হবে।

সভায় জাসাসের কেন্দ্রীয় নেতারা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।