যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হত্যার অঙ্গীকার করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। রোববার (১৫ মার্চ) বাহিনীর নিজস্ব ওয়েবসাইট ‘সেপাহ নিউজে’ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
বিবৃতিতে আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা পূর্ণ শক্তি দিয়ে নেতানিয়াহুকে ধাওয়া করবে এবং তাকে হত্যার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।
উল্লেখ্য, দুই সপ্তাহ আগে ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতনের ডাক দিয়ে দেশটিতে যৌথ অভিযান শুরু করেন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
যুদ্ধের প্রথম দিন অর্থাৎ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে হামলায় ইরানের দীর্ঘকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। তার মৃত্যুর পর দ্বিতীয় পুত্র আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি স্থলাভিষিক্ত হয়ে নতুন সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
সম্প্রতি মোজতবা খামেনি ও হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশ্নে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, তিনি এই নেতাদের কারও জীবনের নিরাপত্তা বা ‘বিমার’ নিশ্চয়তা দেবেন না। আইআরজিসির সাম্প্রতিক এই হুমকিকে তারই পাল্টা জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে ইরানের অভ্যন্তর থেকে ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। রোববার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, আকাশপথের এই হুমকি মোকাবিলায় তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে। নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিএনএন’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেল আবিবের বেশ কিছু স্থানে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বোমা বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
অপরদিকে ভোরে বাহরাইনের রাজধানী মানামায় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। বাহরাইন কর্তৃপক্ষের দাবি, ইরানের হামলা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত তারা ১২৫টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২০৩টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এসব হামলায় বাহরাইনে ২ জন এবং পার্শ্ববর্তী উপসাগরীয় দেশগুলোতে আরও ২৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন।