অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, মঙ্গলবার, ১৯শে মে ২০২৬ | ৫ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


ভোলার কৃষকের উৎপাদিত পণ্যে জমজমাট কৃষক বাজার


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯শে মে ২০২৬ সকাল ১০:২৬

remove_red_eye

৫০

বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক : স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিতে ভোলায় আয়োজন করা হয়েছে কৃষক বাজার। ইকোলজিক্যাল ফার্মিং সংশ্লিষ্ট এগ্রো-ইকোট্যুরিজম উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আয়োজিত এ বাজারে কৃষিপণ্য কেনাবেচার পাশাপাশি ছিল আলোচনা সভা, শিশুদের সাংস্কৃতিক আয়োজন ও গ্রামীণ খেলাধুলা।
সোমবার (১৮ মে) ভোলা সদর উপজেলার ব্যাংকের হাট কো-অপারেটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস)-এর উদ্যোগে এ কৃষক বাজার অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় কৃষক, উদ্যোক্তা, উন্নয়নকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে মেলা প্রাঙ্গণ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে কৃষক বাজারের উদ্বোধন করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শাহিন মাহমুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান, খামার ব্যবস্থাপক এ এইচ এম জাকির হোসেন, ৬২ নম্বর ব্যাংকের হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ আলম এবং ব্যাংকের হাট কো-অপারেটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাওলানা ইসমাইল।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জিজেইউএস-এর সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির। স্বাগত বক্তব্য দেন সংস্থাটির উপপরিচালক অরুণ কুমার সিংহ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জিজেইউএস-এর সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার আলমগীর হোসেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, কৃষক বাজার স্থানীয় কৃষকদের জন্য ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে ভোক্তারাও তুলনামূলক কম দামে নিরাপদ ও তাজা কৃষিপণ্য সংগ্রহ করতে পারবেন। পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতি ও ইকোলজিক্যাল ফার্মিং সম্প্রসারণেও এ ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মত দেন তারা।
মেলায় আগত ক্রেতাদের মধ্যেও ছিল সন্তুষ্টির ছাপ। ব্যাংকের হাট এলাকার বাসিন্দা নুপুর জানান, বাজারের তুলনায় কম দামে বাদাম কিনতে পেরে তিনি খুশি। একই এলাকার সাহেরা বেগম বলেন, কম দামে তাজা সবজি কেনার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। আনোয়ার হোসেন নামের এক ক্রেতার ভাষ্য, এমন আয়োজন নিয়মিত হলে সাধারণ মানুষ আরও উপকৃত হবে।
অন্যদিকে বিক্রেতারাও ভালো সাড়া পেয়েছেন বলে জানান। শেরে বাংলা বাজার এলাকা থেকে আসা বিক্রেতা সাকিব বলেন, তিনি নিয়ে আসা বাদাম ভালো দামে বিক্রি করতে পেরেছেন। সরবত বিক্রেতা সিয়াম জানান, আনা সব লেবুর শরবত বিক্রি হয়ে গেছে এবং আগের কয়েক দিনের তুলনায় ভালো দাম পেয়েছেন। জিজেইউএস-এর উপপরিচালক অরুণ কুমার সিংহ বলেন, কৃষি খাতের টেকসই উন্নয়ন, গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করা এবং কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এ ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান বলেন, “এটি একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। এতে কৃষক যেমন লাভবান হবেন, তেমনি ভোক্তারাও উপকৃত হবেন।” তিনি ভবিষ্যতে ইউনিয়ন পর্যায়ে এ ধরনের আয়োজন সম্প্রসারণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কৃষক বাজারের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিশুদের অংশগ্রহণে কুইজ, কবিতা আবৃত্তি ও দেশেরগান প্রতিযোগিতা। এছাড়া দড়িলাফ, মেরোগ লড়াই সহ বিভিন্ন গ্রামীণ খেলাধুলার আয়োজন দর্শনার্থীদের বাড়তি আনন্দ দেয়। লোকগানের পরিবেশনা মেলায় আগতদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।
জানা গেছে, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় ইকোলজিক্যাল ফার্মিং সংবলিত এগ্রো-ইকোট্যুরিজম উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এ কৃষক বাজারের আয়োজন করা হয়।