অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ৪ঠা এপ্রিল ২০২৬ | ২১শে চৈত্র ১৪৩২


তেঁতুলিয়া নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন নদী রক্ষা বাঁধ বিলীন হওয়ার আশঙ্কা


চরফ্যাসন প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০ই মার্চ ২০২৬ রাত ১০:০২

remove_red_eye

৭৯

ইসরাফিল নাঈম, চরফ্যাশন  : ভোলার চরফ্যাশনে বাবুরহাট লঞ্চঘাট সংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ছাত্রদল নেতাসহ একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। এতে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নদী রক্ষা বাঁধ বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে নদী ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে নজরুলনগর ও মুজিবনগর ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নজরুলনগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুরহাট লঞ্চঘাট সংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদীতে দিনের আলোতেই অবাধে চলছে বালু উত্তোলন। এ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে অন্তত ৭ থেকে ৮টি বড় ড্রেজার জাহাজ। এসব ড্রেজারের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ফলে নদীর তলদেশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে এবং নদী শাসনের জন্য ফেলা কংক্রিট ব্লকগুলো ধীরে ধীরে নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে।
বাবুরহাট লঞ্চঘাটের ব্যবসায়ী রিয়াজ হোসেন ও সমাজকর্মী জাহিদ হোসেনসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, নজরুলনগর ইউনিয়নের  মাহমুদুল হাসানসহ একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ বালু উত্তোলন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ড্রেজার চালক জানান, প্রতিটি ড্রেজার জাহাজ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার টাকা করে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। এ চাঁদার বিনিময়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সুযোগ করে দিচ্ছেন ছাত্রদল নেতা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ছাত্রদল নেতা মাহমুদুল হাসানের বড় ভাই নজরুলনগর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য জাহিদুল শিকদার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এই অবৈধ বালু উত্তোলন কার্যক্রম পরিচালনায় সহযোগিতা করছেন।
বাবুরহাট লঞ্চঘাট এলাকার বাসিন্দা আনিসুর রহমান জুলফিকার বলেন, “অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদী শাসনের জন্য ফেলা বড় বড় ব্লকগুলো ধীরে ধীরে নদীর গভীরে তলিয়ে যাচ্ছে। এতে করে আমাদের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।”
স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী হাসান মুন্সি বলেন, “ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তলদেশে বড় বড় গর্ত তৈরি হচ্ছে। সামনে বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙন তীব্র হলে নজরুলনগর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই এখনই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা জরুরি।”
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত  মাহমুদুল হাসান মুঠোফোনে বলেন, “বালি উত্তোলনের সঙ্গে আমি জড়িত নই। ইতোমধ্যে আমি বালি উত্তোলনের বিরুদ্ধে কথা বলেছি।” নদী থেকে তাহলে কে বালি উত্তোলন করছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি নিজেই জানি না কারা আসলে বালি উত্তোলন করছে।”
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড ভোলা-২ এর সহকারী প্রকৌশলী আহসান হাসান বলেন, “অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি শুনেছি। বিষয়টি দ্রুত যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে জানানো হবে।”
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এমাদুল হোসেন বলেন, “অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”