অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ৪ঠা এপ্রিল ২০২৬ | ২১শে চৈত্র ১৪৩২


চরফ্যাসনে উপজেলা পরিষদের পরিত্যক্ত আঙিনায় সবজি চাষ


চরফ্যাসন প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৯ই মার্চ ২০২৬ দুপুর ০১:৪৩

remove_red_eye

২৯

এআর সোহেব চৌধুরী, চরফ্যাশন : পরিত্যক্ত ভূমি, ময়লা আবর্জনার স্তুপ, যেন ময়লার ভাগাড়! কারো নজর দেওয়ার ফুসরত নেই, সেখানেই নজর দিলেন চরফ্যাসন উপজেলা কৃষি  কর্মকতা কৃষিবিদ নাজমুল হুদা। দৃষ্টি সবার ফিরিয়ে নিলেন সেখানে। সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করলেন। পরিত্যক্ত ভূমি এখন সবুজের চত্বর। শীতকালীন  লাল-সবুজ সবজির সমারোহ। সবার দৃষ্টি  এখন উপজেলা পরিষদের নির্জন আঙিনা ঘিরে।  অনুকরণীয় -অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত রাখায় অনেকেই এখন নিজ বাসার অব্যবহৃত আঙিনায় সবজি চাষে এগিয়ে এসেছেন। 
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণের সরকারি কোয়ার্টারের আশপাশের ভূমিতে রয়েছে শীত মৌসুমের নিরাপদ পুষ্টি সমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর নানা সবুজ  সবজির মিতালি।  ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, টমেটো, পেঁয়াজ, শিম, মরিচ, আলু, শসা, পিয়াজ, কুমড়ো, রসুন ও ব্রকলিসহ নানা জাতের সবজি বাগান। নিরাপদ ও স্বাস্থ্য সমৃদ্ধ পরিচর্যায় সবজি বাগানে এলাকার পরিবেশের মান বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকের এসব বাগান এখন অলস সময় কাটানোর মাধ্যম হয়েছে।
 উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার নিজস্ব উদ্যোগে গড়ে উঠা পরিকল্পিত সবজির বাগান ইতোমধ্যে এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সরকারি কয়েকজন কর্মকর্তা তাঁদের সরকারি বাসার আঙিনায় সবজি চাষে নিজেদের মনোনিবেশ করেছেন। তারাও ফলাতে শুরু করেছেন শিম, বরবটি, শশা, আলু, মরিচ, ফুলকপি, ব্রকলি। প্রাথমিকভাবে তাদের বাগানেও সবজির ভাল ফলন হয়েছে। আগামিতে আরো অনেকে এভাবে বাসার আঙিনার অব্যবহিত অংশে সবজির চাষের আগ্রহ দেখিয়েছেন।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা পরিষদের পতিত জমিতে ৩ টি ছোট ছোট প্লট মিলে প্রায় ৫ শতাংশ জমিতে সারাবছর সবজি চাষ করে নিজেদের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করছেন। সূত্র আরো জানায়, এখানে কৃষির আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে পরিকল্পিতভাবে। সবজি ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে কালিকাপুর মডেল বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি হিসেবে মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ করা হয়েছে। এছাড়াও নিরাপদ ফসল উৎপাদনের জন্য জৈব সার ব্যবহার, বালাই দমনে জৈব বালাইনাশকের ব্যবহারের পাশাপাশি সেক্স ফেরোমন ফাঁদের ব্যবহার করা হচ্ছে। ৩ টি ছোট ছোট প্লটে প্রায় ৫ শতাংশ জমিতে এই মৌসুমে পাওয়া গেছে; আলু- ৮৫ কেজি শিম ৬০ কেজি আদা ১৫ কেজি পেঁয়াজ -২৪ কেজি টমেটো ১২০ কেজি বেগুন ৪৫ কেজি ব্রোকলি ২৫ টি ফুলকপি ২০ টি রঙিন ফুলকপি ১০ টি বাধাঁকপি ৬৫ টি শশা ১৫ কেজি এছাড়াও অন্যান্য অনেক সবজি।
এছাড়াও চরফ্যাশন কৃষি বিভাগের আওতায় একটি নান্দনিক ছাঁদবাগান করা হয়েছে কৃষি বিভাগের গোডাউনের ছাঁদে। সেখানে আম, পেঁয়ারা, সফেদা, আনার, ড্রাগন ফল, মাল্টা, লেবু, চেরী ফল, আনারস সহ নানারকম ফল গাছ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা, উপজেলা এলজিইডি’র হিসাবরক্ষক মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, আমরা ভাবতেই পারিনি এই জায়গা থেকে এত সুন্দর সবজি উৎপাদন সম্ভব। তার এই উদ্যোগ আমাদেরও নিজ নিজ আঙিনায় সবজি চাষে উৎসাহিত করেছে।
‎উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাজমুল হুদা বলেন, চরফ্যাশন উপজেলার অধিকাংশ বাড়িতে অনেক জমি পরিত্যাক্ত পড়ে আছে। সঠিক পরিচর্যায় এসব জমিকে যে ফসলি জমিতে পরিনত করা যায় এবং সেখান থেকে আশানুরূপ পুষ্টিকর সবজি উৎপাদন করা যায় তা বুঝাতেই আমি এ উদ্যোগ নিয়েছি। আমি আশাবাদি এখান থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে অনেকে বাড়ির পরিত্যক্ত জমিতে সবজির চাষাবাদ করে নিজেদের পুষ্টির চাহিদা মিটানোর পাশাপাশি তা স্থানীয় হাটবাজারে বিক্রি করে লাভবান হবেন। ইতোমধ্যে ইউএনও বাংলো, এলজিইডির হিসাব রক্ষক নাজমুল হোসেন,  ত্রাণ কার্যালয়ের মো:  মুসা এবং জনস্বাস্থ্য প্রৌকশলী মো: কামাল হোসেন নিজেদের পরিত্যাক্ত আঙিনায় চাষাবাদ শুরু করেছেন।