অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ৪ঠা এপ্রিল ২০২৬ | ২১শে চৈত্র ১৪৩২


ভোলায় মেঘনায় ডুবে যাওয়া ট্রলারের নিখোঁজ ৯ জেলের লাশ উদ্ধার


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ই নভেম্বর ২০১৯ রাত ০১:০৪

remove_red_eye

৮৪১

 

কামরুল ইসলাম :ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে ভোলার ইলিশায় উত্তাল মেঘনায় ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ আরো ৯ জেলের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১১ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৯টায় বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের মেঘনার বাহাদুরপুর রোকনদি এলাকা থেকে পুলিশ ও কোস্টগার্ড যৌথ চেষ্টা চালিয়ে তাদের উদ্ধার করেছে। রাত ১১ টায় নিহতদের লাশ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ নিয়ে গত ২ দিনে ১০ জন মৃতসহ ২০ জন জেলেকে উদ্ধার করা হলো । এদিকে নিহতের পরিবার প্রতি মঙ্গলবার জেলা প্রশাসনের পক্ষ ২৫ হাজার টাকা বিতরন করা হবে।
স্থানীয়রা জানান, ভোলার চরফ্যাসন উপজেলার আবদুল্লাহপুরের তোফায়েল মাঝির ট্রলার ২৪ জেলেসহ একটি ট্রলার চাঁদপুর থেকে মাছ বিক্রি করে ভোলার চরফ্যাসনে ফিরছিলো। কিন্তু রবিবার সকালে ভোলা ইলিশা রাজাপুর এলাকার উত্তাল মেঘনা নদীতে ওই ট্রলার উল্টে ডুবে যায়।
ভোলা পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, ডুবে যাওয়া ১০ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কোস্টগার্ড রবিবার রাতে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার মেঘনা নদী থেকে খোরশেদ নামে এক জেলেকে ট্রলারসহ উদ্ধার করে। রাতেই ওই জেলের মৃত দেহ পরিবারের স্বজনদের কাছ থেকে হস্তান্তর করা হয়। সোমবার দিন ভর কোষ্টগার্ড নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে মেঘনা নদীতে চেষ্টা চালায়। এদিকে ডুবে যাওয়া ট্রলারটি উদ্ধারের পর তার ভিতর থেকে স্থানীয় এলাকাবাসী,পুলিশ ও কোস্টগার্ড যৌথ চেষ্টা চালিয়ে পাম্পদিয়ে পানি সেচ করে রাত ১০ টার দিকে ৯ জেলের মরদেহ উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃতরা হলো চরফ্যাসনের আবু বকর পুরের মৃত নুরুল হকের ছেলে কামাল দালাল(৩৫), উত্তর শিবার মজিবল হক মুন্সির ছেলে আব্বাস মুন্সি (৪৫), নুরাবাদের কাদের মোল্লার ছেলে হাসান মোল্লা (৩৮), উত্তর শিবার মৃত জামাল বিশ্বাসের ছেলে রফিক বিশ্বাস (৪৫),নুরাবাদের কাদের ব্যাপারীর ছেলে নুরনবী ব্যাপারী (৩০),দুলার হাটের সলেমান মাতব্বরের ছেলে মফিজ মাতাব্বর (৩৫),ফরিদাবাদের ইয়াসিন পাটোয়ারির ছেলে নজরুল ইসলাম(৩৫),ফরিদাবাদের মোসলেউদ্দিন মাঝির ছেলে কবির হোসেন(৪০),আবদুল্লাহপুরের ইসমাইল খানের ছেলে মো: বিল্লাহ (৩২)।
মেহেন্দিগঞ্জ থানার ওসি আবিদুর রহমান জানান, রাতে মেঘনা নদীর বাহাদুরপুর এলাকা থেকে ৯ জেলের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় বলে নিশ্চিত করা হয়। পরে রাতেই উদ্ধার করা জেলেদের মরদেহ ও ট্রলার তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে ওই ট্রলারে থাকা জেলে নাসিমের ছেলে আবির রহমান শাহিন জানান,তার পিতা এখনো নিখোঁজ রয়েছে। তার কোন সন্ধান তিনি পাচ্ছেন না।
ভোলা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক মঙ্গলবার সকালে তিনি চরফ্যাসনে গিয়ে নিহতের পরিবার প্রতি নগদ ২৫ হাজার টাকা বিতরন করবেন বলে জানান।