অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ৩রা জানুয়ারী ২০২৬ | ২০শে পৌষ ১৪৩২


ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং: ভোলায় বিধ্বস্ত পরিবার গুলোর চরম দুর্ভোগ


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭শে অক্টোবর ২০২২ রাত ০১:৪২

remove_red_eye

৩০৯


ঘর বাড়ি সংস্কারে  জন্য জরুরী পুনর্বাসনের দাবী




হাসিব রহমান :  হাসান মাঝি। নদীতে মাছ ধরেই  চলে তার সংসার। সোমবার ঘড়ের কারনে স্ত্রী ও তার এক মাত্র সন্তানকে নিয়ে ঘরেই ছিলো। কিন্তু বিকাল থেকে ঝড়োবাতাস বাড়তে থাকে। সন্ধ্যার আগে ঘূর্ণিঝড় সি-ত্রাংয়ের আঘাতে তার ঘর বিধ্বস্ত হয়। কোন রকম কষ্টে তাদের ৩ জনের প্রাণ রক্ষা হলেও ঘর লÐভন্ড হয়ে যায়। তাদের মাথাগোজার ঠাই টুকু হারিয়ে যায়। পড়ে থাকা ঘরে ধ্বংস যোগ্য মালামাল । কিন্তু তার পক্ষে পুনারায় ঘর মেরামত করে ঘুরে দাড়ানো সম্বব হয়নি। বুধবার তার শূণ্য ভিটা মাটি পরে থাকতে দেখা যায়। এ অবস্থা ভোলার চরফ্যাসন উপজেলার হাজারিগঞ্জ ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের চর ফকিরা গ্রামে। বর্তমানের জেলে হাসান তার ঘর হারিয়ে বেড়ি বাধের পাশের  তার পিতা নান্নু মাঝির ঘরে আশ্রয় নিয়েছে।  হাসনানের মতো  ৬ নং ওয়ার্ডে  গাছচাপা ঘর বাড়ি বিধ্বস্ত হয়য়েছে সালাউদ্দিনের ।  টাকার জন্য বিধ্বস্ত ঘর সজিব তুলতে পানছেনা। রফিক,খোকন মাঝি ঘর অর্ধেক বিধ্বস্ত হয়েছে। তারা টাকার মেরামত করতে পারছে। তাদের মধ্যে এখনো কিউ কোন সহায়তা পায়নি বলেও সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ রয়েছে। এমন চিত্র ভোলার বিধ্বস্ত বিভিন্ন এলাকায়। সরকারি ভাবে বলা হয়েছে আনুমানিক প্রায় ৮ হাজার ঘর বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।  ইতো মধ্যে ত্রান বিতরণ কার্যক্রম চলছে।

স্থানীয়রা জানান,  উপকূলীয় দ্বীপ জেলা ভোলার বিধ্বস্ত পরিবার গুলো এখন চরম দুভোর্গে রয়েছে। অনেক পরিবার তাদের মাথা গোজার ঠাই হারিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে। অনেকেই ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টা করছে।  যাদের সামথ্য রয়েছে তারা ভাঙ্গা চুরো ঘর বাড়ির অবশিষ্ট যা রয়েছে তা দিয়ে মেরামতের চেষ্টা করছে। কিন্তু যাদের সামথ্য নেই তাদের কষ্টের শেষ নেই। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আশ্রয় নিয়েছে আতœীয় বা অন্যের বাড়িতে। জরুরী ভিিিত্ততে তাদের পুনবার্সন প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
সরকারি হিসাবে প্রাথমিক ভাবে আনুমানিক এই জেলায় ৭ হাজার ৯২২ টি বাড়ি-ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে পাওয়া তথ্যে জানাগেছে, সোমবার রাতে বয়ে যাওয়া এই ঝড়ে আংশিক ক্ষতি হয়েছে ৫ হাজার ৬৩৯টি ঘরের ও সম্পূর্ণ ক্ষতি হয়েছে ২ হাজার ২৮৩টি বাড়ির। দুর্ভগে পড়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ১৬২ জন মানুষ। ইতোমধ্যে এসব র্দুগত মানুষের মাঝে ৮৪ মেট্রিকটন চাল, নগদ ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা, এক হাজার ৩২০টি সুকনা ও অনান্য খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। এসব খাবারের মধ্যে ১০ কেজি করে মিনিকেট চাল, ডাল এক কেজি, তেল এক কেজি, চিনি এক কেজি, লবন এক কেজি, গুড়া মরিছ, হলুদ, ধনীয়া, ড্রাই কেক ও বিস্কিট রয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা এস এম দেলোয়ার হোসাইন বুধবার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরো জানান,ক্ষতিগ্রস্তের তালিকা তার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক পরিবারকে সহায়তা করতে স্থানীয় প্রশাসন কাজ করছে বলে জানান তিনি।

 সিত্রাংয়ের আঘাতে শুধু ঘর বাড়িই বিধ্বস্ত হয়নি। ভোলায় কৃষকের ফসল,পুকুরে মাছ থেকে শুরু করে বনের গাছ, বিদ্যুতের সঞ্জালন লাইন। এখনো অনেক এলাকায় বিদ্যুতের খুটি উপড়ে পড়েছে। উপজেলা শহরে বিদ্যুৎ চালু হলেও অনেক এলাকায় ৩ দিন পরও বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়নি। ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জি এম জানান, ভোলায় জেলায় ঘড়ে তাদের প্রায় ৬০ লাখ টাকার ক্ষতির হয়েছে। বিদ্যুতের লাইন মেরামতের কাজ চলছে।
এদিকে ভোলা কৃষি বিভাগ জানায়, জোয়ারের পানিতে ৩ হাজার ১৬০ হেক্টর জমির আমন ধান ও ১৫০ হেক্টর শীতকালীন সবজির ফসল ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া জোয়ারের পানিতে ছয় হাজার ২৮০টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। যার বাজার মূল্য প্রায় ৬ কোটি ৫৬ লক্ষ টাকার মাছ ভেসে গেছে বলে জানিয়েছে জেলা মৎস্য বিভাগ।






আরও...