অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, রবিবার, ২৫শে জুলাই ২০২১ | ১০ই শ্রাবণ ১৪২৮


ভোলায় কোরবানির পশু বিক্রির জন্য অনলাইনে খোলা হয়েছে ৮টি পেইজ


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৮ই জুলাই ২০২১ রাত ০৯:২৯

remove_red_eye

৩৩


প্রস্তুত রাখা হয়েছে  ১ লাখ ৬ হাজার  ৭৫৪টি পশু


 হাসনাইন আহমেদ মুন্না : ভোলা জেলায় আসন্ন ঈদ উল আজহা উপলক্ষে করোনা সংক্রমণ রোধে অনলাইনে পশু বিক্রির উদ্দেশ্যে ৮ টি পেইজ খোলা হয়েছে। জেলা সদরে ২টিসহ ৭ উপজেলায় ৮টি হাটের পেইজ খোলা রয়েছে। এসব হাটে পশুর ছবি, ওজন, দাম এবং বিক্রেতার নাম ও মোবাইল নাম্বার দেয়া রয়েছে। পশু পছন্দ হলে নির্দিষ্ট নাম্বারে ফোন করলে পশু বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হবে। ইতোমধ্যে কিছু পশু বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর থেকে প্রস্তুত করা হয়েছে ২২টি ভেটনারী টিম। সকাল ৮ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত সদরে খোলা রয়েছে একটি কন্ট্রোল রুম।
এ বছর জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৭৫৪টি পশু। এর মধ্যে গরু রয়েছে ৭৫ হাজার ৩০৪ টি, মহিষ ২ হাজার ৫৯২, ছাগল ২৭ হাজার ৪৭৪ ও ভেড়া ১ হাজার ৩৮৪ টি। ২ হাজার ৯৭৫টি খামারে বাণিজ্যিকভাবে ২২ হাজার ৪২৮টি পশু ও বাকিগুলো পারিবারিকভাবে পালন করা হচ্ছে। তবে জেলায় কোরবানির জন্য চাহিদা ১ লাখ ২ হাজার ৬০টি পশু। আর চাহিদার চেয়েও সাড়ে ৪ হাজারের অধিক প্রাণী রয়েছে।

জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ কুমার মন্ডল জানান, এখন পর্যন্ত জেলায় ৯৩টি স্পটে পশুটহাট বসার প্রস্তুতি রয়েছে। তবে সব কিছু নির্ভর করছে লকডাউন এবং করোনা সংক্রমণের উপর। হাটের সংখ্যা কমে যেতে পারে। তাই আমরা বিকল্প ব্যবস্থায় পশু বিক্রির জন্য জেলায় ৮টি অনলাইন পশুরহাট খোলা রাখছি। ফেইসবুক পেইজে গিয়ে ‘অনলাইন পশুরহাট ভোলা’  নামে সার্চ করলে অনলাইন পশুরহাট প্রবেশ করে গরু-কেনা বেঁচা করা যাবে বলে জানান তিনি।
তিনি আরো জানান, অনেকেই অনলাইনে পশু অর্ডার করা শুরু করেছেন। যা ঈদের আগের দিন ক্রেতার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে। আমরা ইতোমধ্যে ১৭৫জন খামারিকে প্রশিক্ষণ দিয়েিেছ। এছাড়া কোরবানির পশু সঠিকভাবে জবেহ ও চামড়া ছাড়ানো জন্য ২৭৯ জন কষাইকে প্রশিক্ষণের আওতায় এনেছি।
এদিকে ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারি ও পারিবারিক পালন করা পশুর মালিকরা। তারা প্রকৃতিক উপায়ে পশু মোটাতাজকরণ করেছেন। হাট বসার ঘোষণা এলেই তারা গরু নিয়ে হাটে হাজির হবেন। তবে করোনা প্রদুর্ভাবের কারণে হাটে ক্রেতা কম থাকলে গরুর দাম ভালো পাবেন না বলেও সংসয় তাদের। তাই অনেকেই অনলাইনে ঝুঁকছেন।
সদরের ভেদুরিয়া ইউনিয়নের নয়ার চর এলাকার গরুর খামরি লোকমান হোসেন, ফিরোজ হাওলাদার ও জাবেদ আলী জানান, তারা দেশীয় পদ্ধতিতে প্রকৃতিক উপায়ে খইল, ভুষি, সবুজ ঘাষ খাইয়ে গরু মোটাতাজা করেছেন। এখন তা হাটে বিক্রির অপেক্ষায় রয়েছেন।
লালমোহন উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের খামারি মো: রুবেল হোসেন জানান, তিনি এবার ১০ টি গরু বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছেন। ইতোমধ্যে গরুর ছবি দিয়ে অনলাইনে পোষ্ট করেছেন। তার ফোন নাম্বারে অনেকেই ফোন করেছেন। দর-দাম চলছে। আশা করছেন কয়েকদিনের মধ্যেই এসব গরু বিক্রি করতে পারবেন। একই ইউনিয়নের মো: খোকন জানান, তার ৬টি ছাগল ঈদে বিক্রির জন্য অনলাইনে তোলা হয়েছে। ইতোমধ্যে ২টি বিক্রির অর্ডার পেয়েছেন।