অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শুক্রবার, ১৮ই জুন ২০২১ | ৪ঠা আষাঢ় ১৪২৮


ধর্ষণের ঘটনাগুলো ভাবিয়ে তোলার মতো: প্রধান বিচারপতি


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮ই জুন ২০২১ রাত ০৯:১২

remove_red_eye

৩২

 

বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক : আমাদের সোশ্যাল কনটেক্সট (সামাজিক পরিস্থিতি) খুব খারাপ। যে কোনো বয়সের নারী ও শিশুরা ধর্ষণের শিকার হচ্ছে—এটা ভাবিয়ে তোলার মতো বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

 

নেত্রকোনার মদনে ৫ বছরের এক শিশু ধর্ষণের মামলার আসামির যাবজ্জীবন দণ্ডের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানিতে মঙ্গলবার (০৮ জুন) এ মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধান বিচারপতি বলেন, সবচেয়ে মুখ্য বিষয় হলো কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর তার বিচার হওয়া। অপরাধ সংঘটনের পর অপরাধীর বিচার হবে না—এরকম পরিস্থিতির যেন সৃষ্টি না হয়। সেজন্য যে কোনো অপরাধের বিচারটাকেই বড় করে দেখা হয়। বিচারহীনতা যেন না থাকে।

আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ। তিনি জানান, ১৯৯৯ সালের জুলাই মাসে নেত্রকোনার মদনে পাঁচ বছরের এক শিশু ধর্ষণ মামলায় আসামি হুমায়ুন কবির রজতকে ২০০২ সালে মৃত্যুদণ্ড দেন নেত্রকোনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত। ওই রায়ের পর আসামির মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতকরণে ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

শুনানি শেষে ২০০৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট বয়স বিবেচনায় আসামির সাজা মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন করে দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে ২০০৬ সালে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। আপিলে আসামির মৃত্যুদণ্ড বহালের আবেদন জানানো হয়।

শুনানিতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ বলেন, ৫ বছরের একটি শিশুকে ধর্ষণ করেছেন এই আসামি। এর চেয়ে জঘন্য আর কী হতে পারে?

আদালত বলেন, ঘটনার সময় আসামির বয়স তো দেখছি ২৪/২৫ বছর। বয়স কম হলে এবং পূর্ববর্তী কোনো অপরাধের রেকর্ড না থাকলে সে ক্ষেত্রে সাজা কমানোর বিষয়ে আপিল বিভাগের বেশ কিছু রায় রয়েছে।

বিশ্বজিৎ দেবনাথ বলেন, সমাজে ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে গেছে। সাজা হ্রাসের বিষয়টি নিয়ে এখন নতুন করে চিন্তাভাবনার সময় এসেছে।

এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, যে কোনো অপরাধে বিচার হতেই হবে। বিচারহীনতার সৃষ্টি যেন না হয়।

তিনি বলেন, এই আসামির দোষী সাব্যস্তকরণ নিয়ে আমাদের কোনো দ্বিমত নেই। শুধু সাজা আরোপ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এরপরই আপিল বিভাগের সব বিচারপতি রাষ্ট্রপক্ষের সাজা বৃদ্ধির আপিল খারিজ করে দেন।

শিশু ধর্ষণ মামলার ওই আসামি হুমায়ুন কবির রজত পলাতক রয়েছেন।