অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, রবিবার, ২০শে জুন ২০২১ | ৬ই আষাঢ় ১৪২৮


হঠাৎ অস্থির পেঁয়াজের বাজার, বিক্রি হচ্ছে দ্বিগুণ দামে


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২রা জুন ২০২১ রাত ১১:৪৩

remove_red_eye

৬৫

বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক : ঢাকাসহ সারাদেশে হঠাৎ অস্থির হয়ে উঠেছে পেঁয়াজের বাজার। কয়েক দিনের ব্যবধানে খুচরা বাজারে দ্বিগুণ দামে ৫৫-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি পেঁয়াজ। বাজেট ঘোষণার আগে মসলা জাতীয় এ পণ্যটির দাম বেড়ে যাওয়ায় ভোক্তারা অস্বস্তিতে রয়েছেন। সামনে কোরবানির ঈদ। ওই সময় পেঁয়াজের চাহিদা আরও বাড়বে। এ কারণে এখনই পেঁয়াজের দামে লাগাম টেনে ধরার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া চাল ও ভোজ্যতেলের দামও বেড়ে গেছে। অথচ নতুন বাজেটে ভোগ্যপণ্যের দাম কমাতে কর ও ভ্যাট ছাড় দেয়া হবে। বাজেট ঘোষণার পর ভোগ্যপণ্যসহ সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম কমে আসবে বলে প্রত্যাশা করছে সাধারণ মানুষ। গত বছর বাজেট ঘোষণার পর জিনিসপত্রের দাম কমে এসেছিল।

 

জানা গেছে, ভারত থেকে আমদানি বন্ধ থাকায় দেশে পেঁয়াজের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসলে আবার ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এরমধ্যে সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাইকারি ও খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। এছাড়া সরকারী বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা টিসিবির ট্রাকসেল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। দ্রুত টিসিবির ট্রাকসেল কার্যক্রম শুরু করে পেঁয়াজ বিক্রি করা হলে দাম দ্রুত কমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজধানীর কাওরানবাজার, ফকিরাপুল বাজার, কাপ্তান বাজার, মুগদা বড় বাজার এবং যাত্রাবাড়ী বাজার ঘুরে দেখা যায়, দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে মসলা জাতীয় এই পণ্যটি। এবার রোজার ঈদেও পেঁয়াজের সরবরাহ ও দাম স্বাভাবিক ছিল। ওই সময় প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৩০-৩৫ টাকায়। কিন্তু এখন সেই মানের পেঁয়াজ কিনতে ভোক্তাকে ৫৫-৬০ টাকা গুনতে হচ্ছে।

ক্রেতাদের আশঙ্কা দাম যেভাবে বাড়ছে তাতে আবার ১০০ টাকার ঘরে পৌঁছে যেতে পারে পেঁয়াজের দাম। এ কারণে এখন দামের লাগাম টেনে ধরতে সব ধরনের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। পুরান ঢাকার বাসিন্দা আসলাম আলী বাজার করছিলেন কাপ্তানবাজার থেকে। তিনি জানান, বাজেট ঘোষণার আগে পেঁয়াজ, চাল ও ভোজ্যতেলের মতো নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে গেছে। অথচ শুনেছি করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে আগামী বাজেটে জিনিসপত্রের দাম কমানোর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, তাহলে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে কেন? পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ হওয়ার কোন কারণ নেই। এবছর সারাদেশে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। এছাড়া ধানের বাম্পার ফলন ও বিপুল পরিমাণ আমদানির পরও দাম বাড়ছে, যা কাম্য নয়। ফকিরাপুল বাজারের মুদিপণ্যের ব্যবসায়ী জাহিদ হাসান বলেন, বাজেট ঘোষণার পর জিনিসপত্রের দাম কমে আসবে এটাই প্রত্যাশা করছি। তিনি বলেন, একজন ব্যবসায়ী হলেও তাকেও পণ্যসামগ্রী কেনাকাটা করতে হয়। ভোগ্যপণ্যের দাম কমলেও বাজারে স্বস্তি থাকে বলে জানান তিনি। যাত্রাবাড়ী এলাকায় রিক্সা চালান, কাজলা পাড়ের বাসিন্দা তোতা মিয়া। তিনি বলেন, ‘বাজেট আবার কি? আমরা মুখ্য মানুষ, এগুলো বুজনের সময় নাই।’ চাইল-ডাইলের দাম কমবে এটাই আমরা চাই।’

পেঁয়াজের দাম কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা বেড়েছে ॥ রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে এক সপ্তাহের কম সময়ের ব্যবধানে অস্থির হয়ে উঠেছে পেঁয়াজের বাজার। প্রতিকেজিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে থেকে ২০-২৫ টাকা। পাইকারি ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা বলছেন, এই সময়ে দেশী পেঁয়াজের পাশাপাশি ভারত থেকেও পেঁয়াজ আসত। কিন্তু কয়েক মাস ধরে দেশটি থেকে পেঁয়াজ আসছে না। আবার পাবনা, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, মাগুরা, ফরিদপুরসহ যেসব জেলায় পেঁয়াজের উৎপাদন বেশি হয়, সেসব এলাকার হাটে এখন বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে, যা বাজারে প্রভাব ফেলছে। রাজধানীর শ্যামবাজার পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাজেদ বলেন, সরকার পেঁয়াজ আমদানির সুযোগ বন্ধ করে রেখেছে। আমদানির অনুমোদন দেয়া হলে কয়েক দিনের মধ্যে দাম স্বাভাবিক হবে। আর যদি না দেয়, তাহলে দাম আরও বাড়তে পারে।

ভারত থেকে পেঁয়াজ আনার ক্ষেত্রে আমদানিপত্র আইপি (ইম্পোর্ট পারমিট) বন্ধ থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা। পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশী পেঁয়াজ দিয়ে দেশের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। চট্টগ্রামের চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানান, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। নতুন করে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) খুলতে দেয়া হচ্ছে না। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির যে অনুমতি ছিল, তার মেয়াদ গত ২৯ এপ্রিল শেষ হয়ে গেছে। এরপর আর নতুন করে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি পাওয়া যায়নি। অনেক আমদানিকারক আমদানির অনুমতি চেয়ে আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত অনুমতি পাননি। ভারতীয় পেঁয়াজ যতক্ষণ আমদানি হচ্ছে না ততক্ষণ দাম কমার কোন সম্ভাবনা দেখছেন না তারা। তবে মিয়ানমার থেকে সীমিত আকারে পেঁয়াজ আমদানি করছেন কিছু কিছু আমদানিকারক। মিয়ানমার থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪০ টাকার বেশি দামে। সূত্র : জনকণ্ঠ