অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শুক্রবার, ১৮ই জুন ২০২১ | ৪ঠা আষাঢ় ১৪২৮


যেভাবে দেশে আসে ভয়ানক মাদক ‘এলএসডি


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৯শে মে ২০২১ রাত ০৯:৩৫

remove_red_eye

৫০

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমানের ‘আত্মহত্যা’র কারণ খুঁজে বের করার তদন্তে আলোচনায় এসেছে লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাইথ্যালামাইড বা এলএসডি নামে এক ধরনের ভয়ানক মাদক। সম্প্রতি রাজধানী থেকে এই মাদকের ২০০ ব্লট জব্দ করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের রমনা বিভাগ। হাফিজুরের ‘নিজেকে শেষ করে দেয়া’র সঙ্গে এই মাদকের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। যদিও এখনই সরাসরি কিছু বলছেন না তারা।

গত বৃহস্পতিবার (২৭ মে) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি জানান, গত বুধবার (২৬ মে) রাজধানীতে হাফিজুরের তিন বন্ধুকে ২০০ ব্লট এলএসডিসহ গ্রেফতার করা হয়। তারা ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগাযোগ করে টিম নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে নেদারল্যান্ডস থেকে এলএসডি নিয়ে এসেছেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই এলএসডি মাদক জব্দ করা হয়েছে। এলএসডি মাদক অনেক পুরোনো হলেও বাংলাদেশে এর ব্যবহার নতুন। এ মাদক অনেক বেশি ব্যয়বহুল। কয়েক বছর ধরে এলএসডি উচ্চবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্ত তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মাদক কারবারির সঙ্গে যোগাযোগ করে কুরিয়ারের মাধ্যমে এই মাদক দেশে আনা হচ্ছে। স্টিকার বা তরল পানি শোষণ করে রাখে এমন কাগজ ব্যবহার করে এটি দেশে আনা হয়। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এ মাদকের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে।

যেভাবে আসে এলএসডি
গত বুধবার (২৬ মে) রাজধানীর লালমাটিয়া ও ধানমন্ডি থেকে সাদমান সাকিব রুপল (২৫), আসহাব ওয়াদুদ তূর্য (২২) ও আদিব আশরাফ (২৩) নামে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। এরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাফিজুরের বন্ধু। তাদের কাছ থেকেই জব্দ করা হয় এলএসডির ২০০ ব্লট।

সাদমান সাকিব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর বহিষ্কৃত ছাত্র। বর্তমানে তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএতে (শেষ বর্ষ) পড়াশোনা করছেন। তিনিই মূলত বছরখানেক আগে টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে নেদারল্যান্ডস থেকে এ মাদক অর্ডার করেন।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সাদমান জানান, তিনি টেলিগ্রাম অ্যাপে যোগাযোগ করে টিম নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে নেদারল্যান্ডস থেকে এলএসডি আনেন। সেজন্য প্রতি ব্লটে খরচ হয় এক হাজার টাকা। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ওই মাদক দেশে এসেছে।

সাদমান ডিবির কাছে দাবি করেন, তাকে ঢাবি থেকে বহিষ্কার করা হয়নি। সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ার পর তিনি ঢাবি ছেড়ে এসেছিলেন। প্রথমদিকে ‘আপনার আব্বা’ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপ খুলে সাদমান ও তার তিন বন্ধু এলএসডি বিক্রি করছিলেন। পরে ‘বেটার ব্রাউনি অ্যান্ড বিয়ন্ড’ নামে আরেকটি গ্রুপ খোলেন। এসব গ্রুপ থেকে তারা গাঁজার নির্যাস মিশ্রিত কেকও (ব্রাউনি) বিক্রি করেন।

এ বিষয়ে ডিএমপির গোয়েন্দা (ডিবি) রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) এইচ এম আজিমুল হক বলেন, ‘ওই এলএসডি এসেছে নেদারল্যান্ডস থেকে, টিম নামের এক ব্যক্তি কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ওই চালান বাংলাদেশে পাঠিয়েছেন।’

হাফিজুরের অস্বাভাবিক মৃত্যুর নেপথ্যে কি এলএসডি?
হাফিজুরের ‘আত্মহত্যা’র পর থেকে তার বন্ধুরা বলে আসছেন, তিনি একটি নতুন ও অদ্ভুত মাদকে আসক্ত ছিলেন। এরপরই এলএসডির বিষয়ে তথ্য পেয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

হাফিজুরের মৃত্যুর ক্ষেত্রে এলএসডিকে সন্দেহ করা হচ্ছে কি-না, জানতে চাইলে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার হাফিজ আক্তার বলেন, ‘আমরা হাফিজুরের মরদেহের ভিসেরা রিপোর্ট পাওয়ার পর বলতে পারব তিনি এলএসডিতে আসক্ত ছিলেন কি-না।’ সূত্র : জাগো নিউজ