অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ৯ই মে ২০২৬ | ২৬শে বৈশাখ ১৪৩৩


দেশের ক্ষতি হলে নীরবে বসে থাকব না: জামায়াত আমির


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯ই মে ২০২৬ বিকাল ০৪:৪৮

remove_red_eye

সরকার যদি ভালো কাজের উদ্যোগ নেয়, তাহলে সহযোগিতা করা হবে। কিন্তু দেশের কোনো ক্ষতি হলে নীরবে বসে থাকা হবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

 

শনিবার (৯ মে) সকালে জাপান সফর শেষে দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সরকারের কোনো ভুল হলে তা ধরিয়ে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।

 
সরকার যদি ভালো কাজের উদ্যোগ নেয়, তাহলে আমরা সহযোগিতা করব। কিন্তু দেশের ক্ষতি হলে আমরা নীরবে বসে থাকব না।
আমরা আওয়াজ তুলব, প্রতিবাদ করব, প্রয়োজনে প্রতিরোধ গড়ে তুলব। এটাই হবে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে আমাদের কাজ।

 

জাপান সফর প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাপান বাংলাদেশকে নিয়ে অনেক ইতিবাচক চিন্তা করে। বর্তমান সংসদ বিগত সংসদের চেয়ে ব্যতিক্রম বলে তাদের কাছে মনে হচ্ছে। বিরোধী দল যেমন সরকারের সমালোচনা করছে, তেমনি সহযোগিতাও করছে-এটি তাদের নজর কেড়েছে। এভাবে সবাই যদি দেশকে ভালোবাসে, তাহলে জাপানও বাংলাদেশের প্রতি সৌহার্দ্য আরও বাড়াবে।

দেশে ক্যান্সার চিকিৎসার সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের দেশে বিপুল সংখ্যক ক্যান্সার রোগী রয়েছেন, কিন্তু আমরা তাদের জন্য পর্যাপ্ত উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারিনি। দু-একটি ডেডিকেটেড ক্যান্সার হাসপাতাল থাকলেও সেগুলোতে পর্যাপ্ত দক্ষতা না থাকায় সঠিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনেক কষ্ট সহ্য করে রোগীদের বিদেশে যেতে হয়। আর যাদের সামর্থ্য নেই, তারা ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঢলে পড়েন।

এ সংকট উত্তরণে জাপানের কাছে একটি প্রস্তাব রাখার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা জাপানকে আহ্বান জানিয়েছি, তারা যেন আমাদের দেশে একটি বিশ্বমানের ক্যান্সার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল গড়ে তোলে। শুধু হাসপাতাল হলে মানুষ কেবল চিকিৎসা পাবে, কিন্তু ইনস্টিটিউট হলে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি হবে এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে উঠবে। জাপান বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। আমরা আশা করছি, তারা ইতিবাচকভাবেই এগোবে।

দেশে ফেরার পথে থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন গণঅভ্যুত্থানে আহত ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ দেখার অভিজ্ঞতার কথাও জানান তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, থাইল্যান্ডে বর্তমানে ৬৪ জন জুলাই যোদ্ধা অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে কেউ ১০ মাস, কেউ ১১ মাস, আবার কেউ এক বছর ধরে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার, নাগরিক দায়িত্ব ও মানবিকতার জায়গা থেকে তাদের দেখতে গিয়েছিলাম। 

এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।