বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩ই আগস্ট ২০২২ রাত ১১:২৫
৪২৯
বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক : সাগরে নিন্ম চাপের প্রভাবে আবার উপকূলীয় দ্বীপজেলা ভোলার নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। শনিবার মেঘনার বিপদসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে। এর ফলে ভোলা জেলায় প্রায় ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে। মেঘনার অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে সকাল বিকাল ২ বেলা ভাসছে ওই এলাকার মানুষ। গত ৪ দিন ধরে জোয়ারের পানিতে ১৯ ছাগল মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ভোলার রাজাপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিন জানান, গত কয়েক দিনের অতি জোয়ারের পানিতে তাদের ইউনিয়নের ৩ নং সামপুর,দাইয়া, মেদুয়া, কন্দকপুর, ৪নং ওয়ার্ড, চর মনোশা একাংশ ও মধ্য সামপুর গ্রাম সকাল ও বিকালে ২ বেলা জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়। বাধের ভিতরে ও বাইয়ে নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে করে ৩/৪ ফুট পানিতে প্রায় ৫/৭ হাজার মানুষ পানি বন্ধি হয়ে পড়ে। মানুষের দুর্ভোগ এখন চরম আকার ধারন করেছে। রাজাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল হক মিঠু চৌধুরী জানান, জোয়ারের পানিতে তার ইউনিয়নে বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেড়ির বাইরে জোয়ার এলেই প্লাবিত হয়। স্থানীয়রা জানান, বহু মানুষের আমন ধানের জালা ক্ষেত নস্ট হয়ে গেছে। রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে মানুষের ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। অসংখ্যা পুকুরে মাছ ভেসে গেছে। গবাদি পশু মারা যাচ্ছে। সূত্র জানায়, রাজাপুর ইউনিয়নে রনি মাতাব্বরের ৬টি , করিমের ৮ টি, বাহাউদ্দিননে ৩টি, রেজাউল ২টি ছাগাল মারা গেছে। এছাড়াও বহু ছাগল অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এছাড়াও মাঝের চর,মদপুরসহ চরাঞ্চল জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন ছোটন জানান, তার ইউনিয়নের ভাংতির খাল থেকে দালাল বাজার, গিরিংগি বাজার পর্যন্ত প্রায় ৫০ চেইন ঝুঁকিপূর্ন অবস্থায় রয়েছে। ভাংতির খাল এলাকায় বালির বস্তা ধ্বসে গেছে। ঝুঁকিপূর্ন এলাকায় শুক্রবার ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মইনুল হোসেন বিপ্লব ও পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন ছোটন পরির্দশন করেন।
ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান জানান, ভোলায় মেঘনার পানি শনিবার বিপদসীমার ৯৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রভাহিত হচ্ছে। তবে বেড়ি বাঁধ ভেঙে বা উপচে কোথাও পানি প্রবেশের ঘটনা ঘটেনি। অপর দিকে ভোলার মনপুরায় পূর্ণীমার প্রভাবে মেঘনার পানি বিপৎসীমার ওপর প্রবাহিত হওয়ায় গত ৪ দিন ধরে ১০ গ্রামের ২০ হাজারের ওপরে মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। এতে রান্না করতে না পারায় দূর্গত এলাকার মানুষ অর্ধহারে-অনাহারে দিনযাপন করছে। এছাড়াও জোয়ারের পানিতে ৫ হেক্টর আমনের বীজতলা ক্ষতি হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন। তবে জোয়ারের পানি বেশিদিন স্থায়ী হলে ক্ষতির পরিমান বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।
এদিকে শনিবার বিকেল ৪ টায় উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের চরফৈজুদ্দিন গ্রামের শেষ মাথায় বন্যা নিয়ন্ত্রন বেড়ীবাঁধ উপচে মেঘনার পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে। এতে নতুন করে ওই এলাকায় জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়।
এদিকে শনিবার বিকেল ৪ টায় মেঘনার পানি বিপৎসীমার ৬৯ সেন্টিমিটার ওপর প্রবাহিত হচ্ছে বলে নিশ্চিত করে পানি উন্নয়ন বোর্ড ডিভিশন-২ এর উপসহকারি প্রকৌশলী আবদুর রহমান। তিনি জানান, বাতাসের প্রভাবে মেঘনার পানি বিপৎসীমার ওপর প্রবাহিত হচ্ছে।
দুর্গত এলাকার স্থানীয়রা জানান, ৪ দিন ধরে জোয়ারের পানিতে বন্দি অবস্থায় রয়েছি। রান্না করতে না পারায় পরিবারের সদস্যরা অনাহারে দিনযাপন করছে। তবে (শনিবার) পর্যন্ত কোন জনপ্রতিনিধি আমাদের খোঁজ খবর নিতে আসেনি।
এদিকে পানিবন্দি জাহানারা, রহিম ও কুলসুম জানান, গত ৪ দিন ধরে রান্না করতে না পারায় শুকনো মুড়ি খেয়ে রয়েছি। পরিবারের অন্য সদস্যদের উপজেলা সদরে আতœীয়দের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে বাড়িতে অবস্থান করছে। তবে জনপ্রতিনিধিরা খোঁজ নিতে না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, গত বুধবার থেকে শনিবার মেঘনার পানি বিপৎসীমার ওপর প্রবাহিত হওয়ায় ৩-৪ ফুট জোয়ারে প্লাবিত অবস্থায় রয়েছে ১০টি গ্রামের বাসিন্দারা। এতে উপজেলার ১নং মনপুরা ইউনিয়নের পূর্ব আন্দিরপাড়, পশ্চিম আন্দিরপাড়, কাউয়ারটেক, ঈশ্বরগঞ্জ, কূলাগাজী তালুক গ্রাম ও হাজিরহাট ইউনিয়নের দাসেরহাট, সোনারচর, চরযতিন, চরজ্ঞান গ্রাম ও উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের আলমনগর ও মাষ্টারহাট এলাকার বেড়ীর বাহিরে ও ভিতরে জোয়ারের পানিতে প্লাবিত অবস্থায় রয়েছে ২০ হাজারের ওপরে মানুষ।
এই ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডিভিশন-২ এর উপসহকারি প্রকৌশলী আবদুর রহমান জানান, পূর্ণীমা ও বাসাতের প্রভাবে মেঘনার পানি বিপৎসীমার ৬৯ সেন্টিমিটার ওপর প্রবাহিত হয়ে ৩-৪ ফুট জোয়ারে নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তবে কত কিলোমিটার বেড়ীবাঁধ ক্ষতি হয়েছে তিনি জানাতে পারেনি।
এই ব্যাপারে ১ নং মনপুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমানত উল্লা আলমগীর জানান, গত ৪ দিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে তার ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকার বাসিন্দারা। সরকারিভাবে ত্রান না আসায় পানিবন্দি দূর্গত এলাকার মানুষদের দিতে পারেননি। তবে সরকারিভাবে সাহায্য আসলে দেওয়া হবে।
এই ব্যাপারে মনপুরা উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, জোয়ারে ৫ হেক্টর আমনের বীজতলা ক্ষতি হয়েছে। তবে জোয়ারের পানি বেশিদিন থাকলে ক্ষতির পরিমান আরও বাড়তে পারে।
এই ব্যাপারে মনপুরা উপজেলার দায়িত্বে থাকা চরফ্যাসন উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আল-নোমান জানান, ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরীতে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারিভাবে সাহায্য এলে ক্ষতিগ্রস্থদের সহযোগিতা করা হবে। এছাড়াও ভোলার মাঝের চর, মদনপুর, ঢাল চরসহ নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন: পুলিশের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী
জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষের সর্বশেষ আশ্রয়স্থল মা: মির্জা ফখরুল
জনগণের আস্থা অর্জন করতে পুলিশ সদস্যদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
পুলিশকে আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়তে যৌক্তিক দাবি পূরণ করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রাথমিকে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ প্রার্থীর তথ্য যাচাইয়ের নির্দেশ
সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহির মধ্য দিয়েই রাষ্ট্র পরিচালনা করছে: রিজভী
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের পদত্যাগ
শপথ নিয়েই ২০০ ইউনিট ফ্রি বিদ্যুতের ঘোষণা বিজয়ের
নাটকীয়তার পর যেভাবে মুখ্যমন্ত্রী হলেন থালাপতি বিজয়
ভোলায় বিষের বোতল নিয়ে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকা
ভোলায় পাঁচ সন্তানের জননীকে গলা কেটে হত্যা
উৎসবের ঋতু হেমন্ত কাল
ভোলার ৪৩ এলাকা রেড জোন চিহ্নিত: আসছে লকডাউনের ঘোষনা
ভোলায় বাবা-মেয়ে করোনায় আক্রান্ত, ৪৫ বাড়ি লকডাউন
ভোলায় এবার কলেজ ছাত্র হত্যা, মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধার
ঢাকা-ভোলা নৌ-রুটের দিবা সার্ভিসে যুক্ত হলো এমভি দোয়েল পাখি-১র
কাশফুল জানান দিচ্ছ বাংলার প্রকৃতিতে এখন ভরা শরৎ
জাতীয় সংসদে জাতির পিতার ছবি টানানোর নির্দেশ
ভোলায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন করোনা রোগী: এলাকায় আতংক