অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ২৩শে অক্টোবর ২০২১ | ৮ই কার্তিক ১৪২৮


ভোলায় প্রতারনা করে হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিলো ইউনাইটেড মাল্টিপারপাস


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০২১ রাত ০৯:৫০

remove_red_eye

১২২




গ্রহকের টাকা ফেরত  পাওয়ার দাবীতে  মানববন্ধন বিক্ষোভ



বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক : ভোলায় ইউনাইটেড মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লি: নামে একটি অর্থলগ্নিকারি প্রতিষ্ঠান প্রতারনা করে প্রায় হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে আতœসাৎ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মূলধন হারিয়ে আড়াই হাজার গ্রাহক এখন  চরম বিপাকে পড়েছে। গ্রাহকের টাকা ফেরতের দাবিতে ও প্রতিষ্ঠানের পলাতক চেয়ারম্যান মঞ্জুর আলম ও তার স্ত্রী রোজিনা আক্তারের গ্রেফতারের দাবীতে বিক্ষোভ ও  মানববন্ধন করা হয়েছে। রবিবার বেলা ১২ টায় ভোলা জজ কোর্ট এলাকা, প্রেসক্লাব ও পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে ঘন্টা ব্যাপী সহ¯্রাধিক নারী পুরুষ মানববন্ধনসহ বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করে।

গ্রাহক বাবুল,হেলাল উদ্দিন, আব্দুল মোতালেব, আবুল কাসেম, সালমা বেগম, রুমা বেগম, শাহনাজ বেগম ,  মোঃ সফিমিয়া , ইয়াছিন   জানান, ২০০৬ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ১৪ বছরে ২ হাজার ৫শ গ্রাহকের কাছ থেকে আমানত হিসেবে ১ হাজার কোটি টাকা নেয় ভোলা জিয়া সুপার মার্কেটে ইউনাইটেড মাল্টিপারপাস লি: নামে অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান । ওই টাকা দিয়ে প্রতিষ্ঠানে চেয়ারম্যান মনঞ্জুর আলম তার শ্বশুর আব্দুল খালেক, স্ত্রী রোজিনা , ভাই ইউছুফসহ কয়েক আত্মীয়র নামে বেনামে ঢাকাসহ বিভিন্ন প্রান্তে অটোরাইস মিল, ইটভাট,া বহুতল ভবন, ভোলা শান্তির হাটে জুট মিলের নামে জমি ক্রয়,এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার প্রসেসিং, দুবাইতে গার্মেন্ট ব্যবসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এক পর্যায়ে লভ্য অংশ দেয়া বন্ধ করে দিলে  গ্রাহকরা তাদের আমানতের টাকা ফেরত চাইলে স্ত্রীসহ পালিয়ে যান প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মঞ্জুর আলম। টাকা ফেরত চাইলে উল্টো গ্রহকদের হুমকি ধামকি দেয়।  ইতিমধ্যে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মঞ্জু ,তার স্ত্রী ও স্বজনদের বিরুদ্ধে গ্রহকরা ১৬টি মামলা  করেন । পুলিশ শ্¦শুর আব্দুল খালেক ও মঞ্জু’র ২ ভাইসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করলেও কিন্তু মূল হোতা চেয়ারম্যান মনঞ্জুর আলম ও তার স্ত্রী পলাতক রয়েছে।

জেলা সমবায় কর্মকর্তা মোঃ হুমায়ুন কবির জানান, ২০০৬ সালে সমবায় থেকে "ইউনাইটেড মালটি পারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি"  নামে নিবন্ধন করা হয়।  সমবায়ের রিপোর্টে দেখা যায় সমতির সদস্য সংখ্যা ২৬৮৭ জন। সমিতির  মোট সেয়ার মূল্য ১১ লক্ষ ৯ হাজার টাকাসহ সর্বমোট ১৮ কোটি ৮ লক্ষ ৭৯ হাজার ৯৬৪ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে সংস্থার কার্য নির্বাহি কমিটির চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম ব্যাক্তিগতভাবে ১১ কোটি ১৭ লাখ ১৩ হাজার ৯৪৭ টাকা  এবং নির্বাহি কমিটির সকল সদস্য ৪ কোরি ১০ লাখ ৫৯ হাজার ৫৮৯ টাকা তছরুপ করেছেন। এর বাইরে  অন্য কোন নামে হাজার কোটি টাকা লেন দেন করেছে কি না তা তাদের জানা নেই।
এদিকে গ্রাহকরা জানান, তারা আমানত হিসেবে টাকা জমা রাখলে তাদেরকে "ইউনাইটেড ফাইনেন্স" নামের একটি সংস্থার টাকা জমার রশিদ দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সমবায় কর্মকর্তা জানান, এনামে তাদের কাছ থেকে কোন নিবন্ধন নেয়া হয়নি। যদি কেউ সমবায় নিয়মের বাইরে গিয়ে লেনদেন করে থাকে এবং তা গোপন করে সেক্ষেত্রে তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে না। এমন হয়ে থাকলে অন্যায় করা হয়েছে।
মানববন্ধনে প্রতারিত গ্রহকরা মনঞ্জুর আলম ও তার স্ত্রীকে দ্রæত গ্রেফতার করে তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে আমানতের টাকা ফেরতের দাবী জানান। পরে  ভোলা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবরে এ ব্যাপারে দ্রæত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্মারক লিপি প্রদান করেন।
বিকালে মোবাইল ফোনে মঞ্জুরুল আলম জানান, গ্রাহকরা  সবাই সমবায় সমিতির সদস্য। তারা আমার কাছে কোন পাওনা নেই। যা পাবে সমিতির কাছে পাবে। তাছাড়া সমিতি লোকসানে নেই। সকলেই তাদের জামানত ফেরত পাবে। এখনো সদস্যদের পাওনা পরিশোধ করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, করোনা মহামারির কারণে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। তা না হলে সমিতি ভালভাবেই চলছিল।










আরও...