অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বুধবার, ২২শে সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৭ই আশ্বিন ১৪২৮


ভোলায় জোয়ারের পানিতে লঞ্চ ও ফেরি ঘাট প্লাবিত,ফেরি চলাচল ব্যহত


অচিন্ত্য মজুমদার

প্রকাশিত: ১৩ই সেপ্টেম্বর ২০২১ ভোর ০৪:০১

remove_red_eye

৬১

অচিন্ত্য মজুমদার : উজান থেকে নেমে আসা ঢলে মেঘনার জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে ভোলার ইলিশা ফেরি ও লঞ্চঘাট। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। লঞ্চ কিংবা ফেরির পন্টুনে ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছেন যাত্রীরা।   
অপরদিকে, দিনে দুইবার অন্তত ৬ ঘন্টা জোয়ারের পানিতে ঘাটের গ্যাংওয়ে তলিয়ে যাওয়ায় ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটের ইলিশা ঘাট থেকে ফেরিতে ওঠা-নামা করতে পারছে না কোনো যানবাহন। পাশাপাশি জোয়ারের পানির চাপ ও ডুব চরের কারণে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে যেতে পারছেনা কোনো যানবাহন বা পণ্যবাহী ট্রাক। এতে চরমভাবে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী ও শ্রমিকরা।
ভোলা পাউবোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বাবুল আখতার জানান, মেঘনার পানি ২৭৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উজান থেকে নেমে আসা ঢলে মেঘনার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও জানান তিনি।
সরেজমিনে রবিবার দুপুরে ইলিশা ফেরি ঘাটে গেলে দেখা যায়, লঞ্চ ঘাটের পন্টুন থেকে উঠতে ও নামতে গিয়ে যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ। জোয়ারের পানির কারণে সিঁড়ি ডুবে যাওয়ায় বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। হাঁটু পরিমাণ পানিতে ভিজে ঘাট থেকে ওঠা-নামা করতে হচ্ছে তা যাত্রী আশরাফুল হক জানান, লক্ষ্মীপুর মজুচৌধুরী ঘাট থেকে তিনি ভোলার ইলিশা ঘাটে এসেছেন। কিন্তু পুরো ঘাট প্লাবিত হওয়ায় ভিজে নামতে হয়েছে। একই ভাবে সব যাত্রীকে কষ্ট করে ওঠা-নামা করতে হচ্ছে।
অপরদিকে, একই অবস্থা ইলিশা ফেরি ঘাটের। জোয়ারে পানিতে অন্তত তিন/চার ফুট পানিতে ডুবে আছে গ্যাংওয়ে। এতে যানবাহন ওঠা-নামা বন্ধ থাকায় ফেরি থেকে হাঁটু পানিতে নেমে ভিজে পন্টুনে উঠছেন যাত্রীরা। আবার কেউ কেউ নৌকায় করে উঠছেন।  
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের দীর্ঘতম নৌরুট ভোলা-লক্ষ্মীপুর ফেরি সার্ভিস। কিন্তু ঘাটে জোয়ারের পানির কারণে বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দুপুর থেকে ঘাটে যানবাহন ওঠা-নামা করতে পারছে না। এতে ঘাটে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন পড়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গন্তব্যে যেতে পারছে না যানবাহনগুলো।
পণ্যবাহি ট্রাক চালক জামাল উদ্দিন জানান, চট্টগ্রাম যাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি ভোর রাতে ফেরি ঘাটে এসেছেন। কিন্তু জোয়ারের পানিতে দীর্ঘ যানজট থাকায় বিকেল পর্যন্ত ফেরিতে উঠতে পারেননি। শুধু জামাল হয় এমন অভিযোগ আরো অনেকের। ফেরি চলাচলে বিলম্ব হওয়ায় ভোগান্তির পাশাপাশি থাকা খাওয়া বাবদ বাড়তি টাকা ব্যয় হচ্ছে বলে জানান তারা।
ভোলা-লক্ষ্মীপুর ফেরি সার্ভিসের মেরিন অফিসার মোঃ হারুনুর রশিদ জানান, ডুবচর ও পানির প্রবল স্রতে ফেরি চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এছাড়া জোয়ারের পানিতে প্রতিদিন অন্তত ৬ ঘণ্টা বন্ধ থাকছে ফেরি চলাচল। এতে করে ফেরি চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে বলেও তিনি স্বীকার করেন।