অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বুধবার, ২২শে সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৭ই আশ্বিন ১৪২৮


ভোলার ৬ উপজেলায় ঝিমিয়ে পড়েছে করোনার নমুনা সংগ্রহ কার্যক্রম


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩শে আগস্ট ২০২১ রাত ০৯:০০

remove_red_eye

১৭১


প্রকৃত চিত্র থেকে যাচ্ছে আড়ালে

 অমিতাভ অপু : ভোলায় জেলা সদর ব্যতিত ৬ উপজেলায়  করোনার পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছে।  গ্রামের মানুষ আক্রান্ত হলেও  পরীক্ষা না করায় করোনায় আক্রান্তের প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না। জেলা সদর ছাড়া অপর ৬ উপজেলায় করোনার নমুনা সংগ্রহের ক্ষেত্রেও রয়েছে এক ধরনের অনিহা। স্বাস্থ্য বিভাগের গত তিন মাসের পরিসংখ্যান যাচাই করে এমন ভয়াবহ চিত্র লক্ষ করা যায়। সর্বশেষ  সোমবার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে  ১৬ মাসে ( এ পর্যন্ত) করোনার  সেম্পল ( নমুনা) সংগ্রহ করা হয়েছে ২৬ হাজার ৫৪৪টি। এর মধ্যে জেলা সদরে সংগ্রহ ছিল  ১৭ হাজার ১৬৬টি। দৌলতখানে ১ হাজার ৫৭১টি , বোরহানউদ্দিনে ২ হাজার ৭৮৭টি, লালমোহনে এক হাজার ৭২২টি, চরফ্যাশনে ১ হাজার ৬৮০টি, তজুমদ্দিন উপজেলায় এক হাজার ৮৩টি ও মনপুরা উপজেলায় নমুনা সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ৫৩৫টি। প্রথম দিকে নমুনা পরীক্ষার বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিদের প্রচারনা থাকলেও  এ বছর তেমন প্রচারনা ছিল না। বাঁধা না থাকায়  করোনার উপসর্গ নিয়ে গ্রামের মানুষ  নানা কাজে শহরমুখি হন। শহরে করোনার বিস্তার লাভের এটিও অন্যতম কারণ বলে মনে করেন সাবেক সিভিল সার্জন ডাঃ রথীন্দ্র নাথ মজুমদার ও সাবেক সিভিল সার্জন ডাঃ ফরিদ আহম্মদ।  ১৩ মাস আগে  প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের চেষ্টায় জেলা সদরের ২৫০ শয্যার হাসপাতালে স্থাপিত হয় আরটিপিসিআর ল্যাব । এ ছাড়া গ্রাম থেকে করোনার  নমুনা সংগ্রহের জন্য রয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগের এক ঝাঁক কর্মী। অপরদিকে র‌্যাপিড এ্যান্টিজেন্ট পরীক্ষার জন্য রয়েছে এনজিও ব্র্যাকের কর্মীরা। গেল বছর সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে জেলাৈ সদওে একটি ও দৌলতখানে একটি ,  ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুনবী চৌধুরী শাওনের উদ্যোগে  লালমোহন ও তজুমদ্দিন উপজেলায় নিরাপদে করোনারর নমুনা সংগ্রহের জন্য পৃথক সেইফটি ডক্তর চেম্বার তৈরী করা হয়।  দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন উপজেলার জন্য একই উদ্যোগ গ্রহণ করেন  ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মুকুল, চরফ্যাশনে উদ্যোগ নেন ভোলা-৪ আসনের এমপি আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব। ওই সময় এতে ব্যাপক সাড়াও পড়ে। কিন্তু এক বছরের মাথায় এমন উদ্যোগে ভাটা পড়ে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীদের মধ্যে। এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিভাগের গেল ২৪ ঘন্টার  নমুনা সংগ্রহ হয় ২৩৪টি। এর মধ্যে ভোলা সদরে ১৮৬টি, দৌলতখানে ১৫, বোরহানউদ্দিনে ১টি, লালমোহনে ৯টি, চরফ্যাশনে কোন নমুনা সংগ্রহ নেই, তজুমদ্দিনে ১০ ও মনপুরায় ৩টি। এর আগের দিন নমুনাসংগ্র করা হয় জেলায়  ১৯৮টি। এর মধ্যে ভোলা সদরে  সংগ্রহ ছিল ১৬৩টি।  পজেটিভ ছিল ৪১টি। দৌলতখানে নমুনা সংগ্রহ নেই। বোরহানউদ্দিনে সংগ্রহ ২টি। প্রজেটিভ ২টি। লালমোহনে কোন নমুনা সংগ্রহ ছিল না । চরফ্যাশনে সংগ্রহ ছিল ৩৩টি। এতে পজেটিভ ১১টি। তজুমদ্দিন ও মনপুরা উপজেলায় কোন নমুনা সংগ্রহ ছিল না। এর আগের তথ্য ছিল প্রায় একই রকম। বলা যায় জেলা সদও ব্যতিত ৬ উপজেলায়  উপজেলা পর্যায়ে কোন নমুনা সংগ্রহ হয় না।  উপসর্গ নিয়ে যারা হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি হয়, তাদের নমুনা পরীক্ষা  করা হয়। এমন তথ্যও জানা যায়, ভর্তি হওয়া রোগীদের স্বজনদের।
 জেলায় মৃত্যুর সংখ্যা ৭৬ । এর মধ্যে ভোলা সদরে ৫৮ । দৌলতখানে ৫, বোরহানউদ্দিনে ২, লালমোহনে ৫টি, চলফ্যাশনে ৫, তজুমদ্দিনে মৃত্যু নেই। মনপুরায় একজন। ভোলার সিভিল সার্জন ডাঃ কেএম শফিকুজ্জামান জানান, পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ভোলা জেলা সদর উপজেলার মানুষই করোনার উপসর্গ দেখা দিলে বেশি সংখ্যাক নমুনা পরীক্ষা করছে। সেভাবে অন্যান্য উপজেলায় হচ্ছে না বলেও স্বীকার করেন এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। তিনি সবাইকে উপসর্গ দেখা দিলেই  হাসপাতাল বা নমুনা সংগ্রহ সেন্টারে যাওয়ার পরর্মশ দেন।