অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, রবিবার, ২৫শে জুলাই ২০২১ | ১০ই শ্রাবণ ১৪২৮


ভোলার কামার পাড়ায় হাতুড়ির টুং-টাং শব্দে ঈদের আমেজ বইছে


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯শে জুলাই ২০২১ ভোর ০৫:০৯

remove_red_eye

৯৩

 

এম ইসমাইল : কঠোর লকডাউন শিথিল হওয়ার পরে পবিত্র (ঈদুল আযহা) কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে শেষ সময়ে ব্যস্ত সময় পাড় করতে দেখা গেছে ভোলার কামারশালাগুলোতে। কামার শালার হাতুড়ির টুং-টাং শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে ভোলা শহরের এবং হাট বাজারের কামারশালা গুলো। দীর্ঘ সময় ঝিমিয়ে থাকার পর ভোলার  কামারদের  মাঝে কর্মচঞ্চল্যতা দেখা দিয়েছে।

ঈদকে সামনে রেখে দম ফেলানোর সুযোগ নেই তাদের। তাদের সারা বছর আয় না হলেও এই সময়ে বাড়তি আয়ের আশায় প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। রবিবার (১৮ জুলাই) সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, শহরের  কালিনাথ রায়ের বাজারের কামার পট্রি, পরানগঞ্জ বাজারের  কামারশালা, ইলিশা হাট কামারশালায় কামাররা ব্যস্ত সময় পার করছেন কামারগন।  পবিত্র ঈদুলআজহা  উপলক্ষে ক্রেতারা কোরবানির পশু জবাইয়ের জন্য ছুরি, দা, বটিসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম শান দেয়া কেনা নিয়ে ব্যস্ত।

  কালিনাথ বাজারের পরিমহল কর্মকার জানান,  লকডাউন থাকার কারনে বিভিন্ন গ্রামের মানুষ দা, বটির কাজ করাতে আসতে পারেনি এই দুইদিন মোটামুটি কাস্টমারের চাপ আছে। কিন্তু চাপ থাকলে কি হইবো কামারদের কোনো সংগঠন না থাকায় দাম পাচ্ছিনা। কাজেরও নেই নির্দিষ্ট কোনো রেট। ফলে কঠোর পরিশ্রম করেও ক্রেতাদের কাছ থেকে  উপযুক্ত  মূল্য পাওয়া যায়না।

 পরানগঞ্জ বাজারের শিপু কর্মকার বলেন, লকডাউনের কারনে দীর্ঘদিন দোকান বন্ধ থাকার ফলে বর্তমানে ঈদ সামনে রেখে কাজের চাপ বেশি থাকলেও বিদ্যুতের দাম, যন্ত্র তৈরির জ্বালানি কয়লার দামও বাড়তি। বর্তমানে এক মণ কয়লার মূল্য ৬০০-৭০০ টাকা। যন্ত্রপাতি তৈরির কাঁচামাল কিনতে হয় প্রতি কেজি ২০০-৩০০ টাকায়। এক কেজি লোহার তৈরি একটি দা বিক্রি হয় ৫০০ টাকায়। কারিগর কালাচান বলেন, পেশায় পরিশ্রমের চেয়ে মুনাফা অনেক কম। দিন-রাত আগুনের পাশে বসে কাজ করতে হয়। তারপরেও ক্রেতারা নায্য মূল্য দিতে চান না।

 ইলিশা বাজারের তপন কর্মকার বলেন, দীর্ঘদিন সরকারি লকডাউন থাকার কারনে দোকান বন্ধ ছিলো কাজ করতে পারেনি খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাইছি। এহন একটু স্বস্তি লাগে লোকজন দা বটি শান দিতে আসে। লকডাউন থাকায় দীর্ঘদিন দোকান বন্ধ থাকার কারনে আজ দুইদিন কাজের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।