অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, রবিবার, ২৫শে জুলাই ২০২১ | ১০ই শ্রাবণ ১৪২৮


ভোলায় কোরবানীর হাটে পশুর দাম চড়া হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ই জুলাই ২০২১ রাত ১১:৫৫

remove_red_eye

৬৪



বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক : আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে  কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে জমে উঠেছে ভোলায় কোরবানীর পশুর হাট। প্রতিদিন হাজার হাজার দেশীয় গরু-ছাগল নিয়ে বিক্রেতারা ছুঁটে আসছেন পশুর হাটে । বিক্রেতা বলছেন এবছর গো খাদ্যের দামবৃদ্ধি ও  পশু মোটা তাঁজা করণে অধিক খরচ হলেও গত বছরের চেয়ে দাম কম চাইলেও ক্রেতারা দাম আরো কম বলে চলে যাচ্ছেন। এতে দুচিন্তায় রয়েছেন তারা। অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন বিক্রেতারা চড়া দাম হাঁকিয়ে বসে থাকায় সামর্থ অনুযায়ী গরু-ছাগল কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
জানা যায়, ভোলায় ছোট বড় ২ হাজার ৯শত ৭৫ জন গবাদী পশুর খামারী রয়েছে। সারা বছর দেশীয় পদ্ধতিতে ভোলার খামারীরা গরুকে খাবার খাইয়ে লালন পালন করে রিষ্টপুস্ট করে তুলে। এসব খামারীরা প্রতি বছর পবিত্র ঈদুল আযহার কোরবানি জন্য তাদের পশু বিক্রির অপেক্ষায় থাকে। কোরবানির পশুর হাটে গরু বিক্রি করতে পারলে তারা অধিক লাভবান হয়। ঈদের সময় দাম বেশী পাওয়া হাটে বিক্রির জন্য এবছর প্রস্তুতি শুরু করলেও করোনা সংক্রামন বিপত্তি হয়ে দাড়িয়েছে। করোনা মহামারী ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ায় লকডাউনের কারনে ঈদেও ২/৩ সপ্তাহ আগে থেকে পশু হাটে পশু বিক্রি করতে পারেনি। ১৫ জুলাই লক ডাউন উঠে গেলে ভোলার হাট গুলোতে ব্যাপক লোক সমাগম হয়। এতে করে স্বাস্থবিধি বা সামাজিক দূরুত্ব প্রায় ছিলোনা বলল্ েচলে।

ভোলা সদরের ইলিশা,পরাগঞ্জ,ভোলাসহ কয়েকটি পশুর হাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিটি পশুর হাটে বিপুল পরিমাণ গরু, ছাগল, বিক্রির জন্য হাটে নিয়ে আসছেন বিক্রেতারা। তবে পশুর হাটে স্বাস্থ্য বিধির কোন বালাইন নেই।  পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ব্যাপক সমাগম রয়েছে।
বিক্রেতা মোঃ আমির হোসেন, বাবুল মিয়া ও  মোঃ বশির জানান, গত বছরের চেয়ে এবছর দেশীয় পদ্ধতিতে আমরা গরু, মহিষ, ছাগল মোটা-তাঁজা করতে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। তাই কোরবানীর হাটে দাম একটু বেশি। কিন্তু আমরা যদি গরুর দাম দেড় লাখ চাই তাহলে ক্রেতারা তার দাম বলে ৮০/৯০ হাজার, আর যদি ১ লাখ চাই তাহলে ক্রেতারা বলে ৬০/৭০ হাজার। কোন কোন ক্রেতা দাম বেশি দিয়ে কিনে আবার কোন কোন ক্রেতা দাম শুনে চলে যায়।তারা আরো জানান, বেশি দামে যদি বিক্রি করতে না পারি তাহলে আমাদের অনেক লোকসান গুনতে হবে। এ নিয়ে আমরা কিছুটা দুচিন্তায় রয়েছি।ক্রেতা  মোঃ রুবেল, মোঃ ইব্রাহীম, মোঃ মাহাবুব ও মোঃ আবুল বাশার জানান, কোরবানীর জন্য হাটে এসেছি। কিন্তু বিক্রেতারা গত বছরের চেয়ে এবছর পশুর দাম অনেক বেশি হাঁকিয়ে বসে আছেন। আমাদের সামর্থ অনুযায়ী পশু কিনতে হিমশিম খাচ্ছি।তারা আরো জানান, আরো ১/২ দিন হাটে যাবো। যদি দাম কিছুটা কমে তাহলে ভালো আর না হলে বেশি দামেই কিনতে হবে।
সদরের ধনিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম ধনিয়া বালিয়া কান্দি মসজিদ সংলগ্ন পশুর হাটের পরিচালক মোঃ দুলাল জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর দুইটা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত এ হাটে ৮০টি গরু ও ৫০ টি ছাগল বিক্রি হয়েছে। আমাদের এ পশুর হাটে কোন প্রকার খাজনা আদায় করা হয় না। তাই এ হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সমাগম বেশি। এছাড়াও খাজনা না নেওয়ার কারণে হাটে পশুর দামও কম রয়েছে।
ভোলা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ কুমার মন্ডল জানান, ভোলায় এবছর কোরবানির জন্য ১ লক্ষ ২ হাজার ৬০টি পশুর চাহিদা থাকলেও তার চাইতে বেশী ১ লক্ষ ৬ হাজার ৭৫৪টি গবাদী পশুকে রিস্টপুষ্ট করা হয়েছে।  জেলার ৭ উপজেলায় ৭টি ও জেলায় ১টি অনলাইন প্লাটফরর্ম গঠন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিধি মেনে ভোলার সাত উপজেলায় ৯৩ টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাট বসেছে।  কোরবানীর পশুর হাটে জেলায় ২২ টি ভ্যাটেনারী মেডিকেল টিম রয়েছে। অবৈধ উপায়ে মোটা-তাঁজা করণ ও অসুস্থ্য গরু নিয়ে আসলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।