অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ২৪শে জুলাই ২০২১ | ৯ই শ্রাবণ ১৪২৮


ভোলার ভেদুরিয়া স্পীডবোট ঘাটের নিয়ন্ত্রক আলাউদ্দিনের রামরাজত্ব অবসান : বেড়িয়ে আসছে নানা অপকর্মের অভিযোগ


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৭ই জুলাই ২০২১ রাত ১১:৪২

remove_red_eye

১৯৪



রুটে বিক্রি থেকে কোটিপতি হওয়ার ঘটনা টক অব দ্যা টাউন

 বিশেষ প্রতিবেদক : ভোলা-বরিশাল রুটের ভেদুরিয়া ঘাটে দীর্ঘ দিনের রামরাজত্ব কায়েম করা আলাউদ্দিনের অবৈধ কার্যক্রমের প্রতিবাদ জানিয়ে  বুধবার বিক্ষোভ করেছেন  ওই ঘাটের লঞ্চ, স্পিডবোট মালিক ও শ্রমিকসহ দোকানীরা। করোনাকালীন পরিস্থিতিতে সভা সমাবেশ বন্ধ থাকলেও  তারা রাস্তায় নামতে বাধ্য হন বলে জানান স্পিডবোট মালিক সনমিতির সম্পাদক ইকরামুল হোসেন ডালিম। খেয়াঘাটে আটার রুটি তৈরী ও বিক্রি করা থেকে থেকে ভেদুরিয়া ঘাট নিয়ন্ত্রক আলাউদ্দিনের কোটিপতি হওয়া এখন টক অব দ্যা টাউনে পরিনত হয়েছে। সম্প্রতি ইয়াবা খাওয়ার একটি ভিডিও সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর আলোচনার তুঙ্গে । বের হতে শুরু করে তার নানা অবৈধ কার্যক্রমের খবর। স্থানীয় এক নেতার নাম ভাঙিয়ে গেল কয়েক বছর রাম রাজত্ব করা, শতাধিক স্পিডবোট নিয়ন্ত্রন , তেলের ব্যবস্থা, মাদক ব্যবসা, জমি দখল নানা অপকর্মের অভিযোগ উঠেছে। আর এতে   মুখ খুলতে শুরু করেছেন ভুক্তভোগিরা।

তবে আলাউদ্দিন  তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ভাইরাল হওয়া ভিডিও  এটি কাটপিস। তার সিগারেট খাওয়া দৃশ্যকে ইয়াবা খাওয়া দেখানো হয়। এটি একটি চক্র করেছে।  মেদুয়া এলাকায় নদী ভাঙনের পর তার বাবা  খেয়াঘাটে আটার রুটি তৈরীর দোকান দেন এটি সত্য। ওই সময় তিনি ছোট ছিলেন। তিনি অনেক পরিশ্রম করে টাকা আয় করেন বলেও দাবি তার। 

  খেয়াঘাটের  নজরুল মেম্বারের তেল ব্যবসা ও টেলিফোন কল সেন্টারে  দৈনিক ২০ টাকা বেতনে কাজ করতেন । এটাও স্বীকার করেন। জেলা সদরের চরসামাইয়া ইউনিয়য়নের ১ নং ওয়ার্ডে  মাত্র দুই শতাংশ জমি কিনে  ছোট ডেড়া ঘর তুলে ওই বাড়িতেই পরিবার পরিজন নিয়ে থাকতেন আলাউদ্দিনের পিতা জয়নাল আবদীন ছিদ্দিক। যাকে খেয়াঘাটের কুলিরা চিনতো রানীর বাপ হিসেবে। ওই সময়ে লঞ্চে রুটি বিক্রি কাজ করা আলাউদ্দিনের ভাগ্য পাল্টাতে থাকে  স্পিডবোট ব্যবসায় নামতেই।   ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডে ৩৩শতাং জমি কিনে একতলা পাকা ভবন  করেন । ওই বাড়িতেও এখন আলাউদ্দিনের থাকা বে-মানান। তিনি জেলা শহরের পৌর ৪ নং ওয়ার্ডে ৫ তলা ফাউন্ডেশনে বাড়ি নির্মান শুরু করেন। যার দুই তলা নির্মান সম্পন্ন হয়েছে। ওই নির্মানাধিন বাড়ির পাশেই তিনি বর্তমানে ভাড়া থাকেন। 

শহরের ওয়েস্টর্নপাড়া ডাক্তারবাড়ি এলাকায় ক্রয় করেছেন ১০ শতাংশ জমি। এ ছাড়া ঢাকার মোহাম্মদপুর ঢাকা উদ্যান এলাকায় ভায়রা ভাইয়ের পাশপাশি নিজে ক্রয় করেন ৮ কাঠা জমি। এ ছাড়া ভোলা –বরিশাল রুটের ভেদুরিয়া ঘাটে রয়েছে জ্বালানী তেলের ব্যবসা।  ৮টি স্পিডবোটের মালিক। রয়েছে নাভানা ও ফ্রেস এলপি গ্যাস এজেন্সি, সিএনজি ডিলারশিপ, দুটি ট্রাকের মালিক, ঢাকা ও বরিশালে বাড়ি।   সব মিলি আলাউদ্দিনের রয়েছে প্রায় কয়েক কোটি টাকার সম্পদ। যা শুনে অনেকেই হক চকিয়ে যান।  সম্প্রতি স্পেডবোট বিদ্রোহ দেখা দিলে আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে অস্বীকার করেন বেশিরভাগ মালিক ও চালকরা।  সমিতির সদস্যেদের ৪০ লাখ টাকা তার পকেটে। এ ছাড়া   ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর  বিএনপির শ্রমিক নেতা হালে আওয়ামী লীগ বনে যান। ওই ঘাটে ৬০ জন মালিকের ১০৫টি স্পিডবোট রয়েছে। আলাউদ্দিনের নিজ নামে ৫টি ও ভাইর নামে তিন টিন, ভগ্নিপতির নামে ২টি  মালিক হলেও তিনি ৪০ নামের সিরিয়ালের টাকা হাতিয়ে নিতেন।

ঘাটের লাইনম্যান মনজরুল ইসলাম মনজু জানান, আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে তিনি বাদি হয়ে মামলা থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।

প্রতিবন্ধী ( পা নেই) হেলাল উদ্দিন জানান, তিনি ছোট বেলা থেকে ওই ঘাটে। ১২ বছর ধরে স্পিডবোট চালান। দুর্ঘটনায় তার একটি পা হারান। তাকে কোন সহায়তা করা হয় নি। তিনি একটি স্পিডবোট ক্রয় করেন। বোটটি ওই ঘাট থেকে ছাড়তে দেয় নি আলাউদ্দিন। 

রুবেল ও বাবুল জানান, স্পডবোট দেয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা নিয়ে তা বুঝে দেন নি।   স্পিডবোট মালিক মোসলেউদ্দিন, নিজামউদ্দিন, রফিকুল ইসলাম, জানান আলাউদ্দিন ঘাটে রাম রাজত্ব করতেন। এখন গা ঢাকা দিয়েছেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ভেদুরিয়া ঘাটে তেলের ব্যবসার পাশপাশি মাদকের ব্যবসার সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েন তিনি। কয়েক দিন পর পর একটি মাইক্রোবাস ওই দোকানে আসে। কিসের যেন প্যাকেট তাতে তোলা হয়। এতদিন আলাউদ্দিনের দাপটে কেই এ সব বিষয়ে মুখ খুলতে সাহস পান নি। এখন অনেকেই মুখ খুলতে শুরু করেছেন।

ভোলার গোয়েন্দা সংস্থার ডিবি’র ওসি সহিদুল ইসলাম জানান, আলাউদ্দিনের বিষয়ে তারা তদন্ত করছেন। একই কথা জানান ভোলা থানার ওসি এনায়েত হোসেন।