অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ২৪শে জুলাই ২০২১ | ৯ই শ্রাবণ ১৪২৮


ভোলায় জমির বিরোধ নিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪ই জুন ২০২১ রাত ১২:০৭

remove_red_eye

১৬০

বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক :  ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়ন ৮ নং ওয়ার্ড  ছোট আলগী গ্রামে জমিজমার নোটিশ কে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্মুখে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়েছে।
রফিক হাওলাদারের ছেলে মোহাম্মদ হাসান হাওলাদার, অভিযোগ করে বলেন ১২ই জুন  শনিবার সন্ধ্যায় ছয়টায় ভোলা সদর মডেল থানার কর্মরত সাব ইন্সপেক্টর রঞ্জিত সরকার একটি নোটিশ নিয়ে আসেন । ওই নোটিশ আমরা দাঁড়িয়ে পড়তেছি ঠিক ঐ সময় আব্দুর রহমান,  পিতা মোহাম্মদ মনির, আমাদের নাম মেনশন করে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন, আমরা গালমন্দ করতে নিষেধ করলে মোহাম্মদ মনিরের ছেলে আব্দুর রহমান ইচ্ছাকৃত ঝগড়া বাধানোর জন্য আরও উচ্চস্বরে গালমন্দ করেন ।
এমন অবস্থায় মফিজুল ইসলামের হাতে থাকা লাঠি দিয়ে রফিক হাওলাদার কে পিছন থেকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এমন অবস্থায় রফিক হালাদারের  ডাকচিৎকার শুনে বাসা থেকে বশির পিতা মৃত মোস্তফা তালুকদারের ছেলে ছুটে আসেন এবং রফিক হাওলাদার ,হাসান হাওলাদার মোহাম্মদ বশির কে ভোলা সদর হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে জমির প্রকৃত মালিক আব্দুস সাত্তার বলেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সন্ত্রাসী লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে ওই জমিতে ঘর উত্তোলনেরও করে একটি গ্রুপ।
জমির প্রকৃত মালিক আব্দুল সাত্তার আরো বলেন, ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের আলগী গ্রামের জেএল ৫৭, মৌজা আলগী, এসএ খতিয়ান নং-১৯২, দাগ নং-১২২১ দাগে ৩৪ শতাংশ জমি ১৯৫৬ সালে ক্রয় করার পর থেকে ভোগ দখলে রয়েছেন। উক্ত জমিতে মালিক দাবি করে সম্প্রতি প্রতিবেশী সামছল হক পিতা: মৃত সুলতান আহমেদ ধনিয়া ইউনিয়ন পরষিদে অভিযোগ দিলে চেয়ারম্যান শালিশ বৈঠকের আয়োজন করে। একাধিক বার শালিশ বৈঠক করার পরও সামছল হক জমির মালিকানা প্রমাণ করতে পারেনি। এমতাস্থায় গত বৃহস্পতিবার ২১ জানুয়ারি ২০২১ইং তারিখে উক্ত জমিতে সামছল হক গং মাটি কেটে দখলের চেষ্টা করে। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো: এমদাদ হোসেন কবির এবং মেম্বার মো: আলমগীর ডাক্তারকে জানালে তারা মাটি কাটতে নিষেধ করেন। তখন সামছল হক গং জমিতে মাটি কাটা বন্ধ করে দেয়। এরপর হঠাৎ করে গতকাল শনিবার ৪০/৫০ জন ভাড়াটিয়া সন্ত্রসাী নিয়ে এলাকায় মহড়া দেয়। তারা এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে অন্যত্র বানিয়ে রাখা চালা বেড়া নিয়ে এসে  মুগডাল ও সয়াবিন বোনা চাষের জমিতে ঘর তুলে জবর দখলের চেষ্টা চালায়। তাৎক্ষণিক সংবাদ পেয়ে আব্দুস সাত্তার ভোলা থানায় দরখাস্ত দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ আসার সংবাদ পেয়ে সন্ত্রাসীরা সটকে পড়ে। এ সময় পুলিশ ঘর তোলার কাজ বন্ধ করে দিয়ে উভয় পক্ষকে কাগজপত্র নিয়ে স্থানীয় মেম্বারের মধ্যস্থতায় শালিস বৈঠকে বসে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের পরামর্শ দেয়।
এবিষয়ে ধনিয়া ৮নং ওয়ার্ডের স্থানীয় ইউপি সদস্য মো: আলমগীর ডাক্তার জানান, সামছল হক ও তার ছেলেরা দুষ্ঠ, সন্ত্রাসী এবং দাঙ্গাবাজ স্বভাবের। ইউনিয়ন পরিষদের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে তারা ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে অন্যের জমি জবর দখলের চেষ্টা করেছিল। তারা চেয়ারম্যান মেম্বার কিংবা শালিস বিচার মানে না। পুলিশ নিয়ে তাদের অপকর্ম বন্ধ করতে হয়েছে।
ধনিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: এমদাদ হোসেন কবির জানান, ২০১৫ সালের অন্য পক্ষের এক শালিস বৈঠকে দেখা যায় সামছল হক গং উক্ত ১২২১ দাগে সাড়ে ৬ শতাংশ জমি পাওনাদার হয়। তখন আপোস ও শান্তিরক্ষার্থে সামছল হক গংদেরকে সেখানে ৯ শতাংশ জমি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয় এবং তা রোয়েদাদ করে মেপে বুঝিয়ে দেয়া হয়। উক্ত সিদ্ধান্তের দীর্ঘ দিন পর হঠাত করে অতি সম্প্রতি সামছল হক গ্রুপ সেখানে আরও জমি দাবি করে অহেতুক ঝামেলার সৃষ্টি করলে উভয় পক্ষকে ডেকে মিমাংসার চেষ্টা করা হয়।
এ বিষয়ে ভোলা সদর মডেল থানায় কর্মরত সাব-ইন্সপেক্টর রঞ্জিত সরকারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান আমার সামনে হাতাহাতি হয়েছে কিন্তু মারামারি নয়। দুই পক্ষই, ভোলা সদর মডেল থানায় এসে অভিযোগ করেছে বিষয়টি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানিয়েছি তিনি বলেছেন ,তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ায়া হবে।