অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ২৪শে জুলাই ২০২১ | ৯ই শ্রাবণ ১৪২৮


ভোলায় প্রতারকের খপ্পড়ে পড়ে নিঃস্ব এক অসহায় পরিবার


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ই জুন ২০২১ রাত ১১:২৮

remove_red_eye

১১২

টাকা ফেরত পেতে মামলা করায় ভয়ভীতি প্রদর্শন প্রতারক চক্রের

ভোলা প্রতিনিধি : ভোলার ভেদুরিয়ায় চাকুরির ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে অসহায় কাঞ্চন আলীর কাছ থেকে ৬ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তিন প্রতারক। তিন প্রতারকের খপ্পড়ে পড়ে চাকুরি জীবনের শেষ সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে বিআইডবিøউটিএর অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী কাঞ্চন আলীর পরিবার। বহু চেষ্টা করেও টাকা ফেরত না পেয়ে আদালতের স্বনাপন্ন হন অসহায় ওই পরিবারটি। ৩১-০৩-২০২১ইং তারিখে আদালতে প্রতারনা মামলার করায় কাঞ্চন আলীর পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকিÑধামকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে তিন প্রতারক খোকন চৌধুরী, মনিরুল ইসলাম, জিয়াউল হক। এই প্রতারক চক্রের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম চরকালী গ্রামের বাসিন্দা বিআইডবিøউটিএর অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী মোঃ কাঞ্চন আলীর পরিবারের সাথে পৌরসভার কালীবাড়ী রোডের বাসিন্দা মোঃ খোকন চৌধুরীর সাথে সুসম্পর্ক তৈরি হয়। পরিবারিক সম্পর্কের কারণে কাঞ্চন আলীর বাড়িতে খোকন চৌধুরীর যাতায়াত শুরু হয়। এই সম্পর্কের রেস ধরেই খোকন চৌধুরী জরুরী কাজে লাগবে বলে কাঞ্চন আলীর ছেলে মোঃ ইসমাইলের কাছে ৭ লক্ষ টাকা ধার চায়। এক পর্যায়ে ইসমাইল তার পিতার সাথে খোকন চৌধুরীর বিষয়টি আলাপ করলে তিনি তাতে সম্মতি দেন। নিজের একাউন্টে রাখা পিতার পেনশনের টাকা ইসমাইল ২৮-১১-১৯ইং তারিখে আইএফইসি ব্যাংক ভোলা শাখা থেকে চেকের মাধ্যমে ৭ লক্ষ টাকা খোকন চৌধুরীকে প্রদান করেন। ৬ মাসের মধ্যে টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রæতি দেয় খোকন। প্রতিশ্রæতির সময় পেরিয়ে গেলে ইসমাইল তার ধার দেওয়া টাকা ফেরত চাইলে তালবাহান শুরু করেন খোকন চৌধুরী। এরই মধ্যে কাঞ্চল আলীর ছেলে মোঃ মহিউদ্দিনকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে ‘মেস ওয়েটার’ পদে চাকুরি পাইয়ে দেওয়ার কথা জানান খোকন চৌধুরী। প্রতারক পৌরসভার কালীবাড়ী রোডের খোকন চৌধুরী, দক্ষিণ চরনোয়াবাদের ৯নং ওয়ার্ডের নুরুল ইসলামের ছেলে মোঃ মনিরুল ইসলাম, একই এলাকার মজনু সর্দারের ছেলে জিয়াউল হক (বাবলু) সর্দারের সাথে ছেলে মহিউদ্দিনের চাকরির বিষয়ে কথা হয় কাঞ্চন আলী। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘মেস ওয়েটার’ পদে মহিউদ্দিনের চাকুরি হলে খোকন চৌধুরীর কাছে পাওনা ৭ লক্ষ টাকা চাকুরী বাবদ ওই তিন জনকে দেওয়া হবে বলে কাঞ্চন আলীর পরিবারের সাথে মৌখিক চুক্তি হয়। এর কিছুদিন পরে চাকুরিপ্রার্থী মহিউদ্দিনকে খোকন চৌধুরীর মাধ্যমে ঢাকায় নিয়ে যায় মোঃ মনিরুল ইসলাম ও জিয়াউল হক (বাবলু)। ঢাকায় নিয়ে মিরপুরে সেনাবাহিনীর একটি মেডিকেলে মহিউদ্দিনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়। মনিরুল ইসলাম স্বাস্থ্য পরীক্ষার কথা বলে ইসমাইলের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা নেয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে মহিউদ্দিনকে ভোলায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এর কিছুদিন পরে খোকন চৌধুরী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মেস ওয়েটার পদে মোঃ মহিউদ্দিনের চাকুরীর নিয়োগপত্র এনে দেয়। যার স্মারক নং-৪৬.০৯৫.১৪.০৬.১৩.০৭.২০১৯। পরে মহিউদ্দিন নিয়োগপত্র নিয়ে যোগদানের জন্য কর্মস্থলে গেলে দেখতে পান তার নিয়োগপত্রটি ভূয়া। পরে মহিউদ্দিন ও তার পরিবার খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন প্রতারক খোকন চৌধুরী, মোঃ মনিরুল ইসলাম, জিয়াউল হক (বাবলু) জাল-জালিয়াতী করে মন্ত্রণালয়ের সীল, স্বাক্ষর দিয়ে ভূয়া নিয়োগপত্র তৈরি করেছে। প্রতারনার শিকার হয়ে কাঞ্চন আলী খোকন চৌধুরীকে জিজ্ঞাসা করলে ভূয়া নিয়োগপত্রের বিষয়টি স্বীকার করে। নিয়োগপত্র ভূয়া হওয়ায় কাঞ্চন আলী তার ৭ লক্ষ টাকা ফেরত চাইলে খোকন চৌধুরীসহ ওই তিন প্রতারক বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দেয়। এক পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করা হলে খোকন চৌধুরী ১ লক্ষ টাকা ফেরত দিয়ে বাকী টাকা পর্যায়ক্রমে দিবে বলে জানায়। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবৎ টাকা ফেরত না দেওয়ায় কাঞ্চন আলী পরিবার বাধ্য হয়ে আদালতের স্বরনাপন্ন হয়। কাঞ্চন আলীর ছেলে মহিউদ্দিন বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে প্রতারক খোকন চৌধুরী, মোঃ মনিরুল ইসলাম, জিয়াউল হক বাবলুর বিরুদ্ধে একটি প্রতারনা মামলা দায়ের করে। মামলার পর থেকে ওই তিন প্রতারক কাঞ্চন আলী পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে। প্রতারক চক্র প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের ভয়ে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটছে অবসর জীবনে পেনশনের শেষ সম্বল হারানো অসহায় কাঞ্চন আলীর পরিবার।
কান্নাজড়িত কন্ঠে ভুক্তভোগী অসহায় কাঞ্চন আলী বলেন, খোকন চৌধুরী আমাদের কাছ থেকে ৭ লক্ষ টাকা নিয়ে প্রতারনা করেছে। আমি প্রতারক খোকন, জিয়াউল, বাবলুর কাছ থেকে ৬ লক্ষ টাকা ফেরত পেতে ভোলার অভিভাবক তোফায়েল আহমেদ এমপি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার মহোদয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মনিরুল ইসলাম বলেন, আমি নিজেও এই প্রতারনা শিকার হয়েছে। ঢাকায় যার মাধ্যমে চাকরী দেওয়ার কথা ছিলো সে আমার সাথে প্রতারনা করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আগামী ৩ মাসের মধ্যে আমি পুরো টাকা পরিশোধ করে দিবো বলে ইসমাইলকে জানিয়েছি।
আরেক অভিযুক্ত বাবুল বলেন, আমিও চাই ইসমাইলের পরিবার এই টাকা ফেরত পাক। যারা এই পরিবারের সাথে প্রতারনা করেছে তাদের উপযুক্ত শাস্তি হোক।
এ ব্যাপারে প্রধান অভিযুক্ত খোকন চৌধুরী বলেন, বিষয়টি দ্রæত মিমাংসার চেষ্টা করছি।
ভোলা থানার ওসি মোঃ এনায়েত হোসেন বলেন, যদি এ ব্যাপারে আসামীদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট হয়ে থাকে তাহলে তাদেরকে দ্রæত গ্রেফতার করা হবে।