অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শুক্রবার, ১৮ই জুন ২০২১ | ৪ঠা আষাঢ় ১৪২৮


ক্ষতিগ্রস্থ কিন্ডারগার্টেনের জন্য বাজেটে আর্থিক বরাদ্ধসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার দাবীতে ভোলায় প্রতীকী অনশন


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০ই জুন ২০২১ রাত ১২:০৯

remove_red_eye

৫৯

বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক : ভোলা ও লালমোহনে করোনা ভাইরাসের মহাদুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ কিন্ডারগার্টেন এর জন্য বাজেটে আর্থিক বরাদ্দ এবং অবিলম্বে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে সারা দেশের ন্যায় ভোলা ও লালমোহন উপজেলায় প্রতীকী অনশন কর্মসূচী পালন করেছেন বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন ভোলা জেলা শাখা। বুধবার (৯জুন) সকাল ১১ টায় ভোলা প্রেস ক্লাব চত্তরে ভোলা জেলার বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেন এর প্রায় শতাধিক শিক্ষক, শিক্ষিকা এই প্রতীকী অনশনে অংশগ্রহণ করেন।
প্রতীকী অনশনে বক্তারা বলেন, স্কুল বন্ধ থাকায় সকল শিক্ষকরা এখন কর্মহীন।কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষকরা সবাই মধ্যবিত্ত পরিবারের, তাই তাদের অভাব-অনটনের কথা মুখ ফুটে কাউকে বলতে পারছে না। কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষকরা স্কুলে শিক্ষকতার পাশাপাশি টিউশনির ওপর নির্ভরশীল। এ সময় তারা ক্ষতিগ্রস্থ কিন্ডারগার্টেন এর জন্য বাজেটে আর্থিক বরাদ্দ এবং অবিলম্বে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার দাবি জানান।
এ সময় বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন ভোলা জেলা শাখার সভাপতি মোঃ আব্বাস উদ্দিনের নেতৃত্বে প্রতীকী অনশনে বক্তব্য রাখেন ,বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন ভোলা জেলা শাখার সাধারন সম্পদাক আব্দুল্লাহ মোঃ তাহের, দপ্তর সম্পাদক ফয়জুন নেছা সোহেলি, ভোলা প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ রায় অপু, এন টিভির স্টাফ রিপোর্টার অফজাল হোসেন, দৈনিক আজকের পএিকার জেলা প্রতিনিধি শিমুল চৌধুরী।
এ ছাড়াও শিক্ষা সম্পাদক ইসরাফিল আলম, আর্দশ একাডেমি কিন্ডারগার্টেন এর সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ হাসনাইন, মোঃ রাশেদ প্রমূখ বক্তব্য রাখেন। পরে শরবত খাইয়ে অনশন ভঙ্গ করানো হয়।
লালমোহন প্রতিনিধি জানান, জাতীয় বাজেটে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষকদের জন্য অনুদান বরাদ্দ ও আগামী ১৩ জুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে সরকার ঘোষণা বহাল রাখার দাবিতে ভোলার লালমোহনে প্রতিকী অনশন করেছেন লালমোহন উপজেলা কিন্ডার গার্টেন ও প্রাইভেট স্কুল এ্যাসোসিয়েশন। বুধবার সকাল ১১ টায় লালমোহন পৌর শহরের চৌরাস্তায় এ অনশন কর্মসূচি পালন করেন তারা।
এসময় সরকারের ঘোষণানুযায়ী আগামী ১৩ জুন স্কুল খুলে দেওয়া ও মহামারি করোনায় কিন্ডার গার্টেন ও প্রাইভেট স্কুল বন্ধ থাকার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষকদের জন্য জাতীয় বাজেটে অনুদান বরাদ্দ রাখার দাবি জানানো হয়।
প্রতিকী অনশনে একাত্মতা প্রকাশ করে অংশগ্রহণ করেন উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ গিয়াস উদ্দিন আহমেদ। তিনি শিক্ষকদের দাবিগুলো মেনে নিতে সরকারের কাছে অনুরোধ জানান। পরে শিক্ষকদেরকে জুস পান করিয়ে প্রতিকী অনশন সমাপ্ত করান উপজেলা চেয়ারম্যান।
অনশনে কিন্ডার গার্টেন এ্যাসোসিয়েশনের আহবায়ক মোঃ রুহুল আমিন,  যুগ্ম আহবায়ক ও সাংবাদিক জসিম জনি, ফরহাদ হোসেন, সদস্য সচিব আজিম উদ্দিন খান, উপজেলার সকল কিন্ডার গার্টেন ও প্রাইভেট স্কুলের শিক্ষকগণ অংশগ্রহণ করেন।
অনশনে থাকা শিক্ষকরা বলেন, সরকারকে শিক্ষা খাতে গুনগত শিক্ষার মান উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করছে কিন্ডার গার্টেন ও প্রাইভেট স্কুলগুলো। মহামারী করোনা শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় দেড় বছর হলো দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। সরকারের অনান্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ বেতনভাতা পেলেও কিন্ডার গার্টেন ও প্রাইভেট স্কুলগুলোর শিক্ষকগণ প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় কোন বেতন ভাতা বা সুয়োগ সুবিধা পাচ্ছে না। ফলে কিন্ডার গার্টেন ও প্রাইভেট স্কুলের শিক্ষকগণ তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাই বর্তমান সরকারের কাছে কিন্ডার গার্টেন ও প্রাইভেট স্কুলের শিক্ষকদের জন্য বর্তমান বাজেটে আলাদা বরাদ্দ রাখার জন্য দাবী জানানো হয়।  
উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেন, মহামারী করোনার কারণে বর্তমান সরকার শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার কথা চিন্তা করে সারা দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় রয়েছেন কিন্ডার গার্টেন ও প্রাইভেট স্কুলগুলো এবং এমপিও না হওয়া স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়ালেখারও ব্যাপক ব্যাঘাত হচ্ছে। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলব-কিন্ডার গার্টেন ও এমপিও না হওয়া স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের জন্য এই বছরের বাজেটে আর্থিক বরাদ্দ রাখার পাশাপাশি সরকারের পূর্বঘোষিত আগামী ১৩ জুন শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে স্বাস্থ্যসুরক্ষা বজায় রেখে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া উচিত।