অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শুক্রবার, ১৮ই জুন ২০২১ | ৪ঠা আষাঢ় ১৪২৮


ভোলায় ঘুর্ণিঝড় ইয়াসে গবাদিপশু ও মৎস্য সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২রা জুন ২০২১ রাত ১১:৫২

remove_red_eye

১২৪

দ্রুত বিধ্বস্ত পরিবার গুলোর পুনর্বাসনের দাবী

বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক : ঘুর্ণিঝড় ইয়াস চলে গেলেও ভোলার উপকূলীয় দুর্গম চরাঞ্চলে তার ক্ষত বিক্ষত চিহ্ন রয়ে গেছে।  দুর্গত এলাকায় ইয়াসের প্রভাবে জলোচ্ছাসের আঘাতে পড়ে রয়েছে অসহায় মানুষ গুলোর ধ্বংসযজ্ঞ ঘর বাড়ি দোকানপাট। শুধু ঘর বাড়িই নয়  বিধ্বস্ত জনপদে মানুষের আয় উপার্যনের গবাদিপশু, মাছের খামার থেকে শুরু করে  সর্বস্ব হারা মানুষ গুলোর মধ্যে শুধুই হাহাকার চলছে।  কি ভাবে তারা নতুন করে ঘুরে দাড়াবে সেই চিন্তায় চোখের ঘুম হারাম হয়ে গেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোর।  এমন চিত্র ভোলার দুর্গম অন্তত ২৩টি চরে।
স্থানীয় সূত্র গুলো জানিয়েছে, ঘুর্নিঝড় ইয়াসের প্রভাবে দ্বীপজেলা ভোলায় সাগর ও নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারের পানি আঘাতে  দুর্গম অন্তত ২৩ টি চরের বাসিন্দারা সবচাইতে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রায়  ১ লক্ষ ৭০ হার মানুষ দুর্যোগে আক্রান্ত হয়। এদের কেউ হারিয়েছে, মাথাগোজার ঠাই। কেউ বা আয়ের একমাত্র অবলম্বন গবাদি পশু, মাছের খামার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। আবার কারোর ঘরে জামা কাপড়,চাল,ঢাল সব ভাসিয়ে নেয়। এমন ক্ষয়ক্ষতির হাহাকারের কথা জানান,দুর্গম চরাঞ্চলের অসহায় মানুষ গুলো। ক্ষতিগ্রস্তরা বলছে,তাদের যে ক্ষতি হয়েয়ে তা দ্রæত পুনবার্সনের জন্য জরুরী সরকারি সহায়তা প্রয়োজন। তা না হলে মানবেতর জীবনযাপন করতে হবে তাদের।
 প্রাথমিক এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, ভোলার সাত উপজেলার ৫১ ইউনিয়নের ৬৫৯টি গ্রামের ১১ হাজার ৩০৯টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৫৭৯ পরিবার গৃহহারা হয় এবং  আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ ৭ হাজার ৭৩০ পরিবার। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ৫০টি স্থানে প্রায় ১৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বন্যার পানিতে প্রায় ৬৩ হাজার ৮৯৫টি গরু মহিষ ছাগল , মুরগি,হাঁস আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে  ২৮টি গরু, ৫৬টি মহিষ , ৩০টি ছাগল, ২০টি ভেড়া, ৬ হাজার ৮৪৮টি মুরগি  ও  ৪৩২টি হাঁস। এছাড়াও ৩ হাজার ৯৩৬ একর চারন ভূমি ক্ষতি হয়েছে। প্রাণী সম্পদ দপ্তরের মতে,  প্রায় ১ কোটি ৪ লক্ষ ৫৪ হাজার ৬৮০ টাকার প্রাণী সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ৩ হাজার ১৬টি মাছের খামারের ৬৮৩ টন মাছ ও ১৬ লাখ মাছের পোনা জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে। এতে করে অবকাঠামোসহ প্রায় ৩২ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
 জেলা ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তা কর্মকর্তা মো. মোতাহার হোসেন জানান, দুর্গত এলাকায় ইতিমধ্যে ৫ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। ৪০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে অনকে স্থানে বিতরণ শেষে হয়েছে। অনেক স্থানে চলছে। ২ কোটি টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো: তৌফিক ই-লাহী চৌধুরী জানান, ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনের কাজ চলছে। প্রকৃত অবস্থা জানতে পারলে পরবর্তীতে সেই অনুযাযী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা সরকারের পক্ষ থেকে নেয়া হবে।