অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, রবিবার, ২০শে জুন ২০২১ | ৬ই আষাঢ় ১৪২৮


ভোলায় যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১লা জুন ২০২১ রাত ১০:৫১

remove_red_eye

৪৫


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক  : ভোলায় তানিয়া আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূকে যৌতুকের জন্য পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত গৃহবধূ ভোলা সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ভেলুমিয়া গ্রামের গরীব কৃষক মোঃ রফিকুল ইসলামের মেয়ে।
গৃহবধূর বড় ভাই মোঃ রাশেদ অভিযোগ করে জানান, তার পিতা একজন গরীব কৃষক। ২০১৭ সালের দিকে সদরের পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের সদুর চর গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে মোঃ কামাল হোসেনের সাথে ছোট বোনের বিয়ে দেন। বিয়ের সময় কামাল হোসেনের পরিবার ২ লাখ টাকার স্বর্ণঙ্কার দাবি করলে আমরা অনেক কষ্টে সে দাবি পূরণ করি। বিয়ের কয়েক পর কামাল হোসেন আবারও দুই লাখ টাকা নগদ যৌতুক দাবি করেন। আর যৌতুকের তানিয়াকে বিভিন্ন সময় মারধর করতেন। আমরা অনেক কষ্টে কামালকে কিছু টাকা জোগার করে দেন। পরে বোনের একটি মেয়ে হওয়ার পূর্ণরায় আবারও বেশি যৌতুকের চাপ দিয়ে মারধর করতে থাকতো।
তিনি আরো জানান, গত ১৪ ফেব্রæয়ারি কামালের মা, কামালসহ তার ভাই বোনেরা যৌতুকের জন্য তানিয়াকে মারাক্তকভাবে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে মারধর করে রক্তাক্ত করে অজ্ঞান করে ফেলে। পরে তারা ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে আমাদের খবর দেয়। আমাদের পরিবারে সদস্য হাসপাতালে গেলে কামালসহ তার পরিবারের সদস্য পালিয়ে যায়। তানিয়ার অবস্থায় মারাক্তক খারাপ হওয়ায় ভোলা, বরিশাল ও ঢাকায় নিয়ে বিভিন্ন মানুষ ও এনজিওর থেকে ঋন নিয়ে প্রায় ৪ লাখ টাকা খরচ কের র্দীঘ ৩ মাস চিকিৎসা করি। পরে আমরা গত ২৪ মার্চ ভোলা আদালতে কামালসহ তার পরিবারে জনকের বিরুদ্ধে যৌতুক মামলা দায়ের করি। পরে গত ১৪ মে তানিয়া মারা যান। এ অবস্থায় তিনি তার বোনের হত্যাকারীদের কঠিন বিচারের দাবি করেন।
অভিযুক্ত মোঃ কামাল হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, যৌতুকের জন্য কখনো মারধর করেনি। তার স্ত্রীকে কুকুরে কামড় দিয়েছে। পরে শ^শুড় বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন। পরে তার মৃত্যু হয়েছে।
ভোলা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ এনায়েত হোসেন জানান, নিহতের লাশ ময়না তদন্ত করা হয়েছে। ময়না তদন্ত রিপোর্টে নির্যাতনে মৃত্যু আসলে  হত্যা মামলা দায়ের করা হবে।  
তিনি আরো জানান, ইতোমধ্যে  যৌতুকের জন্য নির্যাতন মামলায় একজন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকীদের দ্রæত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।