অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, রবিবার, ২০শে জুন ২০২১ | ৬ই আষাঢ় ১৪২৮


বিধ্বস্ত ভোলার রামদাসপুর টেকসই বাঁধ নির্মানের দাবী


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩০শে মে ২০২১ রাত ১১:১৭

remove_red_eye

৪৯

প্রধানমন্ত্রীর ত্রান পেলেন ২শ পরিবার

অমিতাভ অপু / কামরুল ইসলাম , রামদাসপুর থেকে ফিরে : ভোলা জেলা সদরের মেঘনা নদীর মোহনায় ঐতিহ্যবাহী রামদাসপুরের দুই হাজার পরিবার এখন নিঃস্ব। ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও জলোচ্ছ¡াসে ওই এলাকার মানুষের ঘরবাড়ির ভেটে মাটি ধুয়ে মুছে গেছে। মাচায় থেকে প্রাণে বাচঁলেও ঘরের সম্পদ রক্ষা করতে পারেন নি অনেকেই। টানা তিন দিন ছিলেন পানিতে বন্দি। জনপ্রতিনিধিরা কেউ খোঁজ নিতে আসেন নি। ওদের এখন একইটা দাবি চাই চেকসই বাঁধ। চাই সাইক্লোন সেল্টার । বিধস্ত পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ঘর চাই।
রবিবার ট্রলারযোগে মেঘনা পাড়ি দিয়ে ওই চরে গিয়ে জানা যায়, এমন দুর্বিসহ পরিস্থিতির কথা । এলাকায় নেই কোন রাস্তাঘাট, নেই কোন বাঁধ। নেই কোন সাইক্লোন সেল্টার। ভোটার সংখ্যা ৮ হাজার ৬শ। অনেকে শহরমুখি হলেও এলাকায় বাস করেন কম পক্ষে ৫ হাজার মানুষ । এলাকার এমন পরিস্থিতির খবর পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া দুই শ ত্রানের প্যাকেট নিয়ে ছুটে যান সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোঃ মিজানুর রহমান, ত্রান পূনর্বাসন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান ,  আমার বাড়ি আমার খামারের কর্মকর্তা মোঃ জসিম উদ্দিন, ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমান খান, ইউপি সদস্য মোঃ জলিল সরদার, ইউপি সদস্য জহুরুল ইসলাম জহির। ইউএনও জানান, পর্যপ্ত ত্রান সামগ্রির ব্যবস্থা রয়েছে। পরিকল্পনা নিয়ে এলাকার জন্য সকল কাজ করে দেয়া হবে। যাদেও ঘর পড়ে গেছে তাদের ঘরও করে দেয়া হবে। ঝড়ের দিন এলাকা পরির্দশন করেন বলেও জানান ইউএনও।  এলাকার তরিকুল ইসলামের স্ত্রী রানু বেগম, শাহাজালের স্ত্রী রেহানা বেগম, জাহাঙ্গীরের স্ত্রী বিলকিস বেগম, ইয়াছিনের স্ত্রী বিলকিস জাহান, রফিজলের স্ত্রী তাসলিমা বেগম জানান, নদী পাড়ে যদি রাস্তা কাম সিসি ভেড়ি ( বাঁধা) তৈরী হতো। তাহলে তাদের এমন দুর্ভোগ পোহাতে হতো না। গত ৪ দিন তারা পানির মধ্যেই ছিলেন। তাদের খোঁজ নিতে কেউ আসে নি। ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমান অবশ্য দাবি করেন তিনি ঝড়ের দিনও ঝুঁকি নিয়ে ওই এলাকায় ছুটে গেছেন। ত্রানের ব্যবস্থা করেছেন। রাজাপুর ইউনিয়নের ৩টি ওয়ার্ড নিয়ে এই রামদাসপুর এলাকা। এক সময় এই এলাকাটি ঐতিহ্যবাহী এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল। কয়েক দফা নদী ভাঙনের কবলে পড়ায় এটি হারিয়ে ফেলে ঐতিহ্য। এর পর থেকে গত ৫ বছরে আর কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে নি এলাকায় এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। জেলা প্রশাসক মোঃ তৌফিক ই লাহী চৌধুরী জানান, অতি গুরুত্ব বিবেচনা করে শিগগিরই এখানে একটি সাইক্লোন সেল্টার  ও বাধঁ কাম পাকা সড়ক নির্মানের প্রকল্প গ্রহণের ব্যবস্থা করবেন।