অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শুক্রবার, ১৮ই জুন ২০২১ | ৪ঠা আষাঢ় ১৪২৮


ভোলায় ১৬ কিলোমিটার বেড়ি বাঁধ ঝুঁকিপূর্ন


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭শে মে ২০২১ রাত ১১:০৭

remove_red_eye

৬০

বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক : ঘুর্নিঝড় ইয়াসের প্রভাবে ভোলায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি ও দমকা ঝড়ো বাতাস বয়ে যায়।  মেঘনা নদীর জোয়ারের পানি দুপুরে বিপদ সমীরা ৬৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। জোয়ারের পানিতে ভোলার নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়।  ঢাল চর ও মনপুরায় কয়েক শত ঘর বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান,গবাদি পশু ,পুকুরের মাছের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সরকারি ভাবে দুর্গত এলাকায় শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু অনেকেই তা পায়নি বলেও জানিয়েছে। তবে বিধ্বস্ত ঘর বাড়ি মেরামতে প্রয়োজন জরুরী পুর্নবাসন।  এদিকে অস্বাভাবিক জেয়ারের ভোলা জেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের  ৫০টি স্পটে প্রায় ১৬ কিলোমিটার বাধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে মনপুরায় প্রায় ৫০ মিটার ভেঙ্গে যাওয়া বাধ পানি উন্নয়ন বোর্ড মেরামত করেছে। তবে ভোলায় ১৬ কিলোমিটার বেড়ি বাঁধ এখনো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান,চরফ্যাসন উপজেলার বিচ্ছিন্ন  বঙ্গপোসাগর মোহনার ঢাল চর ইউনিয়নে কোন বেড়ি বাধ না থাকায় জোয়ারের পানিতে বৃহস্পতিবার প্লাবিত হয়েছে। গত ৩ দিনের জোয়ারের পানিতে বিধ্বস্ত হয়ে  গেছে ঢালচরের ঘর বাড়ি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।  ২ বেলা জেয়ারে তারা উচু স্থান বা মাচায় অবস্থান করে। ঘরে চুলো জ্বালানোর অবস্থাও নেই। ঢালচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুস সালাম জানান,  সকাল থেকে জোয়ারের  ৪ ফুট উচ্চতার পানিতে প্রায় ৮/১০ হাজার লোক পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে। ভাটায় নেমে গেলেও ২ বেলা জোয়ারে মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।  তার এলাকায় মানুষের অসংখ্য গরু মহিষসহ গবাদি পশু মারা গেছে। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। ঘর বাড়ি ও দোকানপাট শতাধিক সম্পূর্ন বিধ্বস্ত হয়েছে। অংশিক ক্ষত্রি হয়েছে ৬/৭ শত ঘর বাড়ি।
অপর দিকে মনপুরা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুল মমিন টিটু ভূইয়া জানান, তার ইউনিয়নে প্রায় ৩ হাজার পরিবার আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সম্পূর্ন বিধ্বস্ত হয়েছে প্রায় ২৫০ পরিবার। তারা সেখানে শুকরা খাবার বিতরণ করেছেন। অন্যদিকে  ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মনপুরা উপজেলার  ২টি স্পটে ৫০মিটার ভেঙে যায়। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত তা বালির বোস্তা দিয়ে প্রাথমিক ভাবে মেরামত করা হয়েছে।
ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বাবুল আকতার জানান, বোরহানউদ্দিন উপজেলার হাসান নগরের বিধ্বস্ত বাধের ২টা স্পটে মেরামত হয়েছে। জেয়ারের পানিতে ভোলা জেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের  ৫০টি স্পটে প্রায় ১৬ কিলোমিটার বেড়ি বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে মনপুরায় প্রায় ৫০ মিটার ভেঙ্গে যাওয়া বাধ পানি উন্নয়ন বোর্ড মেরামত করেছে। তবে ভোলায় ১৬ কিলোমিটার বেড়ি বাঁধ এখনো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
এদিকে ভোলা জেলা প্রশাসক মো: তৌফিক ই লাহী চৌধুরী জানান, তারা ক্ষত্রিগ্রস্তদের তালিকা তৈরী করা হচ্ছে। এছাড়া দুর্গতদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।