অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শুক্রবার, ১৮ই জুন ২০২১ | ৪ঠা আষাঢ় ১৪২৮


ভোলায় বাসের চাপায় অটোরিক্সার আরো এক যাত্রীর নিহত


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭শে মে ২০২১ রাত ১১:০৪

remove_red_eye

৬০

আহতকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে বাসের  চাপায় একই বাড়ির ৪ জন নিহত

বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক : ভোলায় যাত্রীবাহি বাসের চাপায়  মোঃ ইউসুফ (৪২) নামে আরো এক অটোরিক্সার যাত্রী নিহত হয়েছেন। তিনি ভোলার উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের কমর উদ্দিন গ্রামের মৌলভী বাড়ির বাসির বাসিন্দা এবং ওই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক। আজ বৃহস্পতিবার (২৭ মে) সন্ধ্যায় বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় তিনি নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করে উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মঞ্জুর আলম।
তিনি আরো জানান, এর আগে এ ঘটনায় মোঃ আজিজুল ইসলাম, মোঃ মিরাজ উদ্দিন সিরাজ ও সোহাগ নামে তিনজন ঘটনাস্থলে নিহত হন। এদেরমধ্যে আব্দুল মাজেদের ছেলে মিরাজ উদ্দিন সিরাজ (৩৫) ও  মোঃ সালামের ছেলে সোহাগ (১৮) ও অটোরিক্সা চালক মোঃ আজিজুল ইসলাম (৫০) ভোলার উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের কমর উদ্দিন গ্রামে মৌলভী বাড়ির বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর দেড় টার দিকে ওই বাড়ির মোঃ মালামের ছেলে মোঃ সোহাগ (১৮) তাদের বাড়ির পাশের একটি গাছ থেকে পড়ে আহত হন। পরে তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে মিরাজ উদ্দিন সিরাজ, ইউসুফ, মনির ও ঈমন অটো ড্রাইভার আজিজুল ইসলামের অটোরিক্সায় করে ভোলা সদর হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। তাদের অটোরিক্সাটি ঘুইংগারহাট বাজার এলকায় আসলে ভোলা থেকে চরফ্যাশন গামী বিসমিল্লাহ্ পরিবহন নামে যাত্রীবাহি বাসটি নিয়ন্ত্রন হারিয়ে অটোরিক্সাটিকে চাপা দেয় এবং একটি যাত্রীবাহি বোরাকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তার বাহিরে ফেলে দেয়। এতে ঘটনাস্থলে অটোরিক্সা চালক আজিজুল ইসলাম, যাত্রী মোঃ মিরাজ উদ্দিন সিরাজ, সোহাগ নিহত হন। পরে স্থানীয়রা অটোরিক্সার ও বোরাকের ৫ জন গুরুতর আহত যাত্রীকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
তারা আরো জানান, আহতদের মধ্যে মোঃ ইউসুফ ও মনিনের অবস্থা বেশি গুরুতর হওয়ায় তাকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এদের মধ্যে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় ইউসুফ নিহত হন।
এদিকে এ ঘটনার পর স্থানীয়রা জনতা ভোলা-চরফ্যাশন সড়কের ঘুইংগারহাট এলাকার সড়ক অবরোধ করে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে প্রায় ২ ঘন্টা বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিন ও স্থানীয় জন প্রতিনিধিরা তাদের বুঝিয়ে বললে স্থানীয় জনতা অবরোধ তুলে নেয়।
ভোলা পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে বাসটিকে জব্দ করেছে। বর্তমানে সড়কে যানবাহন চলাচল করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
অন্যদিকে  ভোলা সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোঃ মিজানুর রহমান জানান, নিহত প্রত্যেক পারিবারকে সরকারিভাবে ২০ হাজার টাকা ও আহতদের চিকিৎসার জন্য ১৫ হাজার টাকা আর্থিক সহযোগীতা করা হবে।