অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শুক্রবার, ১৮ই জুন ২০২১ | ৪ঠা আষাঢ় ১৪২৮


ফলন বাড়াতে প্রয়োজন উন্নত মানের নতুন জাতের ধান চাষ


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭ই মে ২০২১ রাত ০৯:৩১

remove_red_eye

৭০

বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক  : একই জাতের ধান বারবার একই জমিতে চাষ করে কৃষকরা প্রতিনিয়ত ক্ষতির মুখে পড়ে। তাই বিভিন্ন সময়ে গবেষনায় উদ্ভাবিত জাতের ধান চাষ করলে আর লোকশানে পড়তে হয়না কৃষকের। কৃষকের সফলতা ও উৎপাদন বাড়াতে নতুন উদ্ভাবিত জাত রোপন করা প্রয়োজন।
পরিবর্তনই নিয়ম। পরিবর্তনে আসে সাফল্য। ধান চাষের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য এই কথা। একই জাতের ধান বছরের পর বছর না লাগিয়ে পরীক্ষাগারে উদ্ভাবিত নতুন জাতগুলোর উপর জোর দিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো। আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি), বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন এগ্রি- ইরি প্রকল্পের আওতায় ভোলা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গবেষণা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সর্বশেষ উদ্ভাবিত ধানের জাতসমূহের ফলনের উপযোগিতা যাচাই এর জন্য প্রদর্শণী প্লট স্থাপন করা হয়। এবছর প্রদর্শিত জাতসমূহ হল ব্রি ধান ২৮ ও ব্রি ধান ২৯ এর তুলনায় ব্রি ধান ৯২, ব্রি ধান ৮৯, ব্রি ধান ৮৮, ব্রি ধান ৮৪, ব্রি ধান ৮১, ব্রি ধান ৭৪, ব্রি ধান ৬৭, ব্রি ধান ৫৮, বাউধান ৩ এবং বিনাধান-২৪ মাঠ পর্যায়ে কেমন ফলন দেয়।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, একই মাটি ও জলবায়ুতে বছরের পর বছর একই জাতের ধানের চাষাবাদ করলে ফলন কমতে বাধ্য। তখন চাষিরা অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করেন, যা মাটির স্বাস্থ্যের পক্ষে আরও ক্ষতিকর। তাই ফসলে বৈচিত্র না আনতে পারলেও অন্তত জাতে নতুনত্ব আনা জরুরি। আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি) এর বৈজ্ঞানিকদের তথ্যমতে, বর্তমানে যে সকল জাতের চাষাবাদ হচ্ছে তাতে রোগবালাই বেশি হওয়ার পাশাপাশি ফলনও কম। তাদের কথায়, নতুন উদ্ভাবিত জাতসমূহের ফলন পরীক্ষাগারে তুলনামূলক বেশি। তবে পরীক্ষাগার আর চাষির নিজের জমিতে চাষ এক নয়। পরীক্ষাগারের বাইরে চাষিদের ক্ষেতেও ওই ফলন হয় কিনা দেখার জন্য চলতি বছরের বোরো মৌসুমে ভোলা জেলার ৪টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করা হচ্ছে এই জাতগুলো।
রাজাপুর ইউনিয়নের কৃষক মো: তছির আহমেদ বলেন, অনেক আগ থেকেই আমাদের জমিতে ইরাটম, বেলম্বর ধানের চাষাবাদ করে আসছি। তিনি বলেন, “বিঘাপ্রতি খরচ হযে যায় প্রায় ১২-১৪ হাজার টাকা কিন্তু ফলন অত্যন্ত কম। আমরা আর নতুন জাত পাব কোথায়। এখন গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা নতুন জাতের বীজ দেয়ায় আমি খুব লাভবান। চলতি বছর থেকে চাষাবাদ শুরু করেছি।
গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার সহকারি পরিচালক কৃষিবিদ মো: আবু বকর বলেন, “ফলন বেশি ছিল বলেই পুরোনা দিনের ধানের জাতগুলিকে সরিয়ে একদিন জায়গা করে নিয়েছিল আধুনিক জাতগুলো। তাদের মধ্যে ব্রি ধান ৯২, ব্রি ধান ৮৯, ব্রি ধান ৮৮, ব্রি ধান ৮৪, ব্রি ধান ৮১, ব্রি ধান ৭৪, ব্রি ধান ৬৭, ব্রি ধান ৫৮, বাউধান ৩ এবং বিনাধান-২৪ মাঠ পর্যায়ে কেমন ফলন দিয়ে চাষিদের মন জয় করতে পারবে।