অচিন্ত্য মজুমদার
প্রকাশিত: ৯ই জানুয়ারী ২০২১ সকাল ১১:০৭
১৮০
অচিন্ত্য মজুমদার: মেঘনা আর বঙ্গোপসাগরের মিলনস্থলে ঢেউয়ের তোড়ে পলী জমে জেগে উঠেছে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ বালির সৈকত। এর পাশেই মাথা উচু করে থাকা সারি সারি কেওড়া গাছের সবুজের সমারোহের আর ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল। ওই বনে হরিণের ছুটে চলা, সৈকতে অতিথি পাখির উড়ে বেড়ানো যে কাউকে মুগ্ধ করবে। প্রকৃতি এমন অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে আপনাকে যেতে হবে বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের এক মাত্র দ্বীপ জেলা ভোলার বিচ্ছিন্ন উপজেলা মনপুরার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের রহমানপুরে।
বঙ্গোপসাগরের কোলঘষে জেগে উঠা দ্বীপকন্যার নীল আকাশ আর সাগরের ঢেউয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই বালির সৈকত দেখে মনে হবে কক্সবাজার অথবা কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। স্থানীয়রা যার নাম দিয়েছে “দখিনা হাওয়া, সী-বিচ”। যেখানে একই সঙ্গে দেখা মিলবে নীল আকাশের জলরাশি, ম্যানগ্রোভ বন, হরিণ, নানা প্রজাতির অতিথি পাখি আর সূর্য উদয় এবং সূর্যাস্তের অপরুপ দৃশ্য। রাতের অন্ধকারে “দখিনা হাওয়া, সী-বিচ” ভিন্ন রূপ ধারণ করে। এসময় তাবুতে রাত কাটানো, সাথে ক্যাম্প ফায়ার, বন্ধু-বান্ধব আত্মীয়-স্বজন নিয়ে হই হুল্লোর আর বারবিকিউ পার্টির মজাই আলাদা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য সাগর মোহনার মনপুরা দ্বীপের খ্যাতি রয়েছে অনেক আগে থেকেই। সেই সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে সাগরের ঢেউয়ে গা ভাসানোর সুযোগ।
এই “দখিনা হাওয়া, সী-বিচকে” ঘিরেই মনপুরা হতে পারে দেশের অন্যতম পর্যটন স্পট। এবছর শীত মৌসুমের শুরু থেকে এই পর্যটন স্পটে মানুষের ঢল নামে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিচারক, বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক, জেলা জজ, ইউএনওসহ সরকারের নানা পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সৈকতটির সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে আসেন। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলবেঁধে, অনেকে আবার লঞ্চ রিজার্ভ করে এই সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে আসছেন প্রতিনিয়ত। পিকনিক স্পোট হিসেবেও বিভিন্ন সংগঠন এই বিচটিকে বেছে নিয়েছে। সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপশি পর্যটকদের বিশ্রাম নেয়ার জন্য অর্ধশতাধিক ছাতা ও বেঞ্চ বসানো হয়েছে। আছে ছনের তৈরি একাধিক গোলঘর, বৈঠকখানা, দোলনা। পাশাপশি পর্যটকদের সুরক্ষায় ব্যবস্থা করা হয়েছে লাইফ জ্যাকেটের।
বিচে ঘুরতে আসা পর্যটক জসিম রানা, মাসুদা আক্তার ও হাসান মাহামুদ জানান, জায়গাটা খুবই ভালো। পরিবার ও পরিজনই নিয়ে ভালো সময় কাটানো যায়। “দখিনা হাওয়া সী-বিচ” সমুদ্র সৈকত হিসেবে এক অন্য রকম যায়গা। কক্সবাজার ও কুয়াকাটা সৈকত থেকেও আলাদা কিছু। তাই মনপুরাকে পর্যটন কেন্দ্র ঘোষনা এখন সময়ের দাবী বলে জানান ঘুরতে আসা এসব পর্যটক।
সরেজমিনে স্থানীয়দে সাথে আলাপ কালে জানা যায়, দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব অলি উল্লা কাজল ও তার সহধর্মিণী সাথী কাজলের উদ্যোগ ও ব্যাক্তিগত অর্থায়নে দক্ষিণা হাওয়া সী-বিচটির শোভা বর্ধনের কাজ শুরু হয়। কয়েক মাস আগেই এই সী-বিচের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অন্যান্য মাধ্যমে পর্যটকদের আকর্ষণীয় করতে শুরু হয় প্রচার-প্রচারণা। এছাড়াও ঘুরতে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তাসহ অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার জন্য ২০ সদস্যের স্থানীয় একটি তরুন সংগঠন স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।
এই ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান শেলিনা আকতার চৌধুরী জানান, স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে দখিনা হাওয়া সী-বিচের শোভাবর্ধনের পাশাপাশি সরকারি অনুদানে বিচের পাকা গেইট নির্মানের কাজ চলছে। সী-বিচের শোভা বর্ধনের জন্য ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে ১ কোটি ২০ লাখ টাকার একটি প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে “দখিনা হাওয়া সী-বিচকে” বাংলাদেশের মধ্যে অন্যতম একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
মনপুরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম মিয়া জানান, জেলা প্রশাসন থেকে গত সেপ্টেম্বরে ভোলার উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। সেখানে মনপুরা উপজেলাকে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তাব রয়েছে। মার্চের মধ্যে এই উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আনা হচ্ছে। এছাড়াও ঘুরতে আসা পর্যটকদের হয়রানি থেকে মুক্ত রাখার জন্য পুলিশ প্রশাসনসহ জন প্রতিনিধিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মনপুরায় পর্যটনের অপার সম্ভবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কীভাবে যাবেন :
ঢাকার সদরঘাট থেকে বিকেল ৫ টায় এমভি ফারহান ও সাড়ে ৫ টায় এফবি তাসরিফ লঞ্চে ডেকে ৩৫০ টাকা ও কেবিনে ১২০০ টাকায় সরাসরি মনপুরায় আসতে পারেন। এছাড়াও বরিশাল থেকে লঞ্চযোগে ভোলার ভেদুরিয়া হয়ে বাসযোগে তজুমুদ্দিন সীট্রাক ঘাট। সেখান থেকে লঞ্চ করে সন্ধ্যায় মনপুরায়। অপরদিকে ভোলার ভেদুরিয়া থেকে বাসযোগে চরফ্যাশন লঞ্চঘাট। সেখান থেকে লঞ্চ করে সরাসরি মনপুরার জনতা ঘাট হয়ে দখিনা হাওয়া সী-বিচে যেতে পারেন।
পর্যটকদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা :
সী-বিচ সংলগ্ন থাকার ব্যবস্থা নেই। তবে উপজেলা শহরে জেলা পরিষদের চারতলা ও দুই তলা দুইটি ডাকবাংলো ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের রয়েছে একটি ডাকবাংলো। এছাড়াও ব্যাক্তিগত উদ্যোগে গড়ে উঠেছে আধুনিক আবাসিক হোটেল। মনপুরা সদর থেকে অটোরিকশা ও ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল করে বিচে যাওয়া যায়। এখানকার খাবার হিসেবে- শীতের হাঁস, বন মোরগ, তাজা ইলিশ, রূপসী মাছ ও মহিষের দুধের টক দইয়ের বিশেষ চাহিদা রয়েছে। স্থানীয় হোটেলে খুব সহযেই মিলবে এসব খাবার। আর দামও হাতের নাগালে।
ভোলার সঙ্গীত গুরু দক্ষিণা মজুমদারের ২৪তম মৃত্যু বার্ষিকী
ভোলায় বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় মাছের জাতকে ধরে রাখতে অবহিতকরন কর্মশালা
চরফ্যাশনের চরমাদ্রাজ ইউপির চেয়ারম্যান প্রার্থী ডাঃ আব্দুল মান্নানের শোডাউন
জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উপলক্ষে বাংলা বাজারে সিপিপি সেচ্ছাসেবকদের র্যালী
ভোলার রাজাপুরে তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণ
বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের লক্ষ্যে ভোলায় প্রস্তুতি সভা
ভোলা পৌরসভার নব নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের পক্ষ থেকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে ফুলের শুভেচ্ছা
ভোলায় গ্রাম আদালত বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সভা
ভোলায় বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের মাঝে শিক্ষা উপকরন বিতরণ
চরফ্যাসনে সাংবাদিকদের কলম বিরতি
ভোলার ৪৩ এলাকা রেড জোন চিহ্নিত: আসছে লকডাউনের ঘোষনা
ভোলায় বাবা-মেয়ে করোনায় আক্রান্ত, ৪৫ বাড়ি লকডাউন
ভোলায় এবার কলেজ ছাত্র হত্যা, মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধার
ভোলায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন করোনা রোগী: এলাকায় আতংক
ভোলার চরফ্যাশনে করোনা উপর্সগ নিয়ে এক নারীর মৃত্যু
ভোলায় কুপিয়ে হত্যা করে ব্যবসায়ীর টাকা ছিনতাই, আটক এক
ভোলায় ব্যাংক কর্মকর্তাসহ আরও ৬ জনের করোনা শনাক্ত
ভোলায় উপজেলা চেয়ারম্যানসহ আরো ১০ জন করোনা আক্রান্ত
ভোলায় বাল্যবিয়ে কথা বলে চাঁদাদাবী : আটক হলো ২ কথিত সাংবাদিক
ভোলায় হাসপাতালের টেকনিশিয়ানসহ আরও ৩ জন করোনায় আক্রান্ত