অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শুক্রবার, ৪ঠা ডিসেম্বর ২০২০ | ২০শে অগ্রহায়ণ ১৪২৭


অপসাংবাদিকতা রোধে নিবন্ধনের দাবি ভোলার পেশাদার সাংবাদিকদের


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২শে নভেম্বর ২০২০ সন্ধ্যা ০৭:৫০

remove_red_eye

১২১


বার কাউন্সিলের মত  প্রেসকাউন্সিলের  হস্তক্ষেপ কামনা

হাসনাইন আহমেদ মুন্না : কখোনো হাতে ডিএসএলআর ক্যামেরা, কখোনো দামী মোবাইল সেট, আবার মোটর সাইকেলের সামনে বা পেছনে বড় করে লেখা প্রেস। এমন একদল যুবক সাংবাদিক পরিচয়ে ভোলা জেলা শহর দাবরে বেরাচ্ছে। তারা ব্যবহার করছে নাম সর্বস্ব পত্রিকার কার্ড অথবা পকেট অনলাইন মাধ্যমকে। বিভিন্ন শ্রেণি পেশা থেকে আসা স্বল্প শিক্ষিত এসব ভুয়া সাংবাদিকদের টার্গেট থাকে মূলত বাল্য বিয়ে, জায়গা-জমিনের বিরোধ, নদীর ইলিশ, কিছু দপ্তরসহ গ্রামগঞ্জের সাধারণ মানুষ। এই পেশাকে পূঁজি করে খুব অল্প সময়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার সহজ মাধ্যম হিসাবে পরিণত করেছে তারা। দিন দিন এক শ্রেণির যুবক যারা মুদি দোকানী, ব্যাটারি বিক্রেতা, মেইকার, ড্রাইভার, এনজিও কর্মী, ঔষধ বিক্রেতাসহ বিভিন্ন পেশা-গোষ্ঠী থেকে এসে ডুকে পড়ছে মহান এই সাংবাদিকতা পেশায়। যাদের নেই নূন্যতম যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা। ধান্দাবাজিই থাকে তাদের মূল উদ্দেশ্য। কলংকিত করছে গণমাধ্যমকে। মূল ধারার সংবাদকর্মীদের কোন সংবাদ বা প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার সাথে সাথেই ধান্দাবাজরা কপি করে নিজের প্রচার মাধ্যমে পেস্ট করে তৃপ্তির ঢেকুর তোলে। এতে করে পেশাদার সাংবাদিকদের বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। শুধু তাই নয় বিভিন্ন সময় ভুয়া ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে দিয়েও বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে। মূলত এদের উদ্দেশ্যই থাকে যেকোন প্রকারে হোক স্বার্থ হাসিল করা।
আর তাই একের পর এক গজিয়ে উঠছে মানহীন অনলাইন গণমাধ্যম এবং গণমাধ্যম সংক্রান্ত  বিভিন্ন সংগঠন। যাদের অধিকাংশরই সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতাতো দূরের কথা সাধারণ প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতাও নেই। মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজীসহ নানান অভিযোগে নামধারী এসব সাংবাদিকরা জড়িয়ে পড়ছে। অতি সাম্প্রতি এদের উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে স্থানীয়রা। গত ১৬ নভেম্বর বাল্যবিয়ের কথা বলে চাঁদাবজির অভিযোগে ২ কথিত সাংবাদিক পুলিশের হাতে আটক হয়। এর আগে চর দখলের অভিযোগে আরেক কথিত সাংবাদিককে আটক করে পুলিশ। তারও আগে মাদকসহ নামধারী এক সাংবাদিক আটক হয় পুলিশের জালে। এসব ঘটনায় পেশাগত দ্বায়িত্ব পালনে চরম বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়তে হচ্ছে জেলার প্রকৃত গণমাধ্যমকর্মীদের।
ভোলা প্রেসক্লাবের ক্রীড়া সম্পাদক ও ৭১ টিভির জেলা প্রতিনিধি মো: কামরুল ইসলাম বলেন, অতি সাম্প্রতিককালে জেলায় অপসাংবাদিকতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিছুদিন আগে মনপুরা উপজেলা সমাজসেবা অফিসারের কাছ থেকে ৭১ টিভি পরিচয়ে চাঁদা দাবি করা হয়। পরবর্তিতে জানা যায় সে একজন অপসারণকৃত টিভি সাংবাদিকের ক্যামেরাপরসন। বর্তমানে সে ব্যাক্তি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিচ্ছে। বিষয়টি পেশাজীবী সাংবাদিকদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক।
স্থানীয় প্রথম আলোর প্রতিনিধি নেয়ামতউল্লাহ জানান, অপসাংবাদিকতা রোধে সম্পাদকবৃন্দ  গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করতে পারেন। সাংবাদিক নিয়োগের ক্ষেত্রে আরো যাছাই-বাছাই করে পরিচয় পত্র দিতে হবে। সর্বপরি স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিকদের আরো জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রেসক্লাবের আরো জোরালো ভুমিকা পালন করা দরকার।
জনকণ্ঠ ও মাছরাঙা টিভির ভোলা জেলা প্রতিনিধি সিনিয়র সাংবাদিক হাসিব রহমান মনে করেন, অপসাংবাকিতা রোধে প্রথমেই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে সরকারকে। ইচ্ছা করলেই অযোগ্য অথবা অনভিজ্ঞ কোন ব্যক্তি গণমাধ্যমের অনুমোদন যাতে না পায়। একইসাথে কোন গণমাধ্যম সম্পাদক বা মালিক পক্ষ ইচ্ছে করলেই যে কাউকে সাংবাদিকতার পরিচয় পত্র দিতে না পারে। তিনি আরো বলেন, কোন ব্যাক্তিকে সাংবাদিক হিসাবে নিয়োগ দিতে হলে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার প্রমাণ পত্র সরকারিভাবে যাচাই বা অনুমোদনের মাধ্যমে দেওয়া হলে তৃণমূলের অপসাংবাদিকতা রোধ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি সরকারিভাবে গণমাধ্যম কর্মীদের নিবন্ধনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি তাদের ন্যয্য বেতন বা ভাতাও নিশ্চিত করতে হবে।
সমকাল ও সময় টিভির প্রতিনিধি সাংবাদিক নাসির লিটন বলেন, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর হলে অপ-সাংবাদিকতার কোন সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে পেশাদার সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে এদের প্রতিহত করা উচিৎ। একইসাথে এদের চিহিৃত করে  সামাজিকভাবে বয়কট করা যেতে পারে। অনেক সময় দেখা যায় প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের জন্মদিন বা অন্য অনুষ্ঠানে এরা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। এটাও বন্ধ করা দরকার বলে মনে করেন তিনি। একইসাথে হলুদ সাংবাদিকদের তালিকা প্রস্তুত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে দেয়ার অভিমত ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ প্রতিদিন ও নিউজ-২৪ এর জেলা প্রতিনিধি দৈনিক বাংলার কণ্ঠের বার্তা সম্পাদক জুন্ন ু রায়হান জানান, রাজধানী থেকে প্রত্যন্ত চরাঞ্চল এক কথায় এখন সারা দেশেই এ ধরণের অপসাংবাদিকতা ছড়িয়ে পড়েছে। এর জন্য নিম্মমানের কিছু সংবাদ মাধ্যমও দায় এড়াতে পারবে না। তবে সময় এসেছে এখনই এর রাশ টানতে হবে। আর এ জন্য বার কাউন্সিলের মত প্রেস কাউন্সিলকেও সক্রিয় করে গড়ে তুলতে হবে। সাংবাদিকতা পেশায় আসার জন্য সনদ ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়ার জায়গা তৈরি করতে হবে। আবার অভিযোগ প্রমাণ হলে সনদ বাতিলের ব্যবস্থাও রাখতে হবে। তা হলে হয়তো অপসাংবাদিকতা রোধ করা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।
স্থানীয় দৈনিক আজকের ভোলা পত্রিকার সম্পাদক আজহাজ্ব মুহাম্মদ শওকাত হোসেন বলেন, সাংবাকিতা একটি পবিত্র পেশা। বিভিন্ন ভালো ভালো পেশায় যেমন কিছু ধান্দাবাজ ডুকে পেশাকে নষ্ট করছে, তেমনি এই সাংবাদিকতাকেও এক শ্রেণির চাঁদাবাজ তথা খারাপ লোক কলুষিত করতে চাচ্ছে।  কেউ কেউ আবার নিজের প্রয়োজনে অপসাংবাকিতাকে পৃষ্ঠপষোকতা দিচ্ছেন। এরা যেমন সাংবাদিকতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, তেমনি সমাজকেও ক্ষতি করছে। যা খুবই দুখ:জনক একটা ব্যাপার। তিনি আরও বলেন, মূলত অপসাংবাদিকতার ব্যাপকতা বাড়ছে এক ধরণের মানহীন অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে। অনেকেই এটা করে নিজেকে সম্পাদক দাবি করছে। তাই এসব বন্ধে তথ্য মন্ত্রণালয় তথা সাংবাদিকতার নিয়ন্ত্রক মাধ্যমগুলাতে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে জেলা পর্যায়ে প্রেসক্লাবকে আরো শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
প্রবীণ সাংবাদিক ও বিটিভি’র জেলা প্রতিনিধি এম এ তাহের বলেন, এক শ্রেণীর বেকার যুবক সাম্প্রতিককালে সাংবাদিকতার নামে অপসাংবাদিকতা করে বেরাচ্ছে। তারা লেখা-পড়া জানেনা। যার ফলে আমাদের প্রকৃত সাংবাদিকদের দ্বায়িত্ব পালনে অনেক ক্ষেত্রে বেগ পেতে হচ্ছে। তাই এসব বন্ধে সকল পেশাদার সাংবাদিককে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
ভোলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ অপু বলেন, অপসাংবাদিকতা, ভুয়া সাংবাকিতা বা ভুঁইফোড় সাংবাকিতার মাধ্যমে প্রকৃত সাংবাদিকতা বিনষ্ট করা হচ্ছে। এ কারণে যেকোন অপসাংবাদিকতা রোধ করা প্রয়োজন। এরা সাংবাদিকতার সম্মানটাকে নষ্ট করছে এবং এদের জন্য প্রকৃত সাংবাদিকদেরকে অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। এর জন্য যখনই কোন ভুয়া সাংবাদিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হয় তখন আমরা কঠোর অবস্থানে থাকি।
প্রেসক্লাব সভাপতি এম. হাবিবুর রহমান জানান, বর্তমান সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অপসাংবাকিতা রোধ করা। সে ক্ষেত্রে তথ্য মন্ত্রণালয় তথা প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করতে পারে। প্রয়োজনে প্রেসক্লাব তাদের সহযোগিতা করবে। তিনি আরও জানান, ক্লাবের কোন সদস্য যদি ক্লাবের গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কাজে লিপ্ত হয়, সেক্ষেত্রে ক্লাব তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে। অপর দিকে যারা অপসাংবাদিকতায় লিপ্ত তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর আইনী ব্যবস্থা নিলে ক্লাব সার্বিক সহযোগিতা করবে।
 এ ব্যাপারে ভোলার পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বলেন, জেলার অনলাইন মাধ্যমগুলোকে আমরা নজরদারীর মধ্যে রাখছি। কেউ যদি রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকাР পরিচালনা করে সে ব্যাপারে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





ভোলায় জঙ্গীবাদ ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন

ভোলায় জঙ্গীবাদ ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন

তজুমদ্দিন হাসপাতালে বিষ পানের রোগীকে চিকিৎসা না দেয়ার অভিযোগ

তজুমদ্দিন হাসপাতালে বিষ পানের রোগীকে চিকিৎসা না দেয়ার অভিযোগ

ভোলায় আরও ৪ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত

ভোলায় আরও ৪ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত

ভোলা-লক্ষীপুর নৌ রুটে লঞ্চ প্রতি অতিরিক্ত ঘাট টোল নেয়ার অভিযোগ

ভোলা-লক্ষীপুর নৌ রুটে লঞ্চ প্রতি অতিরিক্ত ঘাট টোল নেয়ার অভিযোগ

প্রধানমন্ত্রী কৃষিতে নানা উদ্যোগ নেওয়ায়   দেশ খাদ্যে স্বয়ং সম্পন্ন : এমপি শাওন

প্রধানমন্ত্রী কৃষিতে নানা উদ্যোগ নেওয়ায় দেশ খাদ্যে স্বয়ং সম্পন্ন : এমপি শাওন

ভোলায় সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও সমাবেশ

ভোলায় সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও সমাবেশ

তজুমদ্দিনে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে ঘর বিতরণ

তজুমদ্দিনে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে ঘর বিতরণ

দৌলতখানে দুই হোটেল মালিককে জরিমানা

দৌলতখানে দুই হোটেল মালিককে জরিমানা

যেকোনো ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করা হবে:এমপি শাওন

যেকোনো ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করা হবে:এমপি শাওন

দৌলতখানে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ

দৌলতখানে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ

আরও...