অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, মঙ্গলবার, ১২ই মে ২০২৬ | ২৯শে বৈশাখ ১৪৩৩


শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটনের খুনিদের ‘ছকের ভেতর’ আনা হয়েছে: ডিবিপ্রধান


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ই মে ২০২৬ বিকাল ০৪:৪৩

remove_red_eye

রাজধানীর নিউমার্কেটে শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িত খুনিদের ‘ছকের ভেতর’ আনা হয়েছে।

এমনটাই জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘টিটন হত্যা মামলা তদন্তাধীন। তদন্তের স্বার্থে আসামিদের অবস্থান প্রকাশ করতে চাচ্ছি না। আমরা চেষ্টা করছি।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘খুনিদের মোটরসাইকেল রায়েরবাজার পর্যন্ত গেছে, এটা শনাক্ত করা গেছে। রায়েরবাজার পর্যন্ত যেহেতু শনাক্ত করা গেছে, আপনারা (সাংবাদিক) ধরে নেন আমরা মোটামুটি একটা ছকের ভেতর নিয়ে আসছি। আমরা একটি নির্দিষ্ট টার্গেট নিয়ে এগোচ্ছি।’

গত ২৮ এপ্রিল রাত পৌনে ৮টার দিকে নিউমার্কেটের পশ্চিম পাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনের বটতলায় টিটনকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

২০০১ সালে সরকারঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকার দুই নম্বরে টিটনের নাম ছিল। পুলিশের ধারণা, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অন্তঃকোন্দলের জেরে তাকে হত্যা করা হয়।

এর আগে গত বছরের ১০ নভেম্বর বেলা পৌনে ১১টার দিকে পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের সামনে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় পুলিশের একসময়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাঈফ মামুনকে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যার নেপথ্যে ছিলেন টিটনের ভগ্নিপতি আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমন।

পুলিশ জানায়, টিটন ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে অপরাধজগতে প্রবেশ করেন। তিনি প্রথমে স্থানীয় অপরাধী চক্রের সদস্য ছিলেন এবং ধীরে ধীরে অপরাধজগতে নিজের পরিচিতি বাড়াতে থাকেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে টিটন তার অপরাধ কার্যক্রম বিস্তৃত করেন। তিনি একাধিক হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেন। টিটন অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন এবং তার নেতৃত্বে অস্ত্রের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে।

টিটনের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা ছিল, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ব্যবসায়ী বাবর এলাহী হত্যা। ২০০৪ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। তিনি ২০১৪ সালে বাবর এলাহী হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন। তবে ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট তিনি কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান।