জুন্নু রায়হান : ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হওয়ার পর তিন দিনের সফরে প্রথমবারের মতো নিজ নির্বাচনী এলাকা ভোলায় আসলে তাকে পথে পথে ব্যাপক সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। এসময় হাজার হাজার নারী পুরুষের ঢল নামে। এসময় তিনি ফুলেল ভালোবাসায় সিক্ত হন।
সংক্ষিপ্ত পথসভায় গ্যাস ও বিদ্যুত সমস্যার কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেছেন,
আওয়ামী লীগ গত ১৭ বছরে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এমন করে গেছে; দেশের অর্থনীতির কোমড় ভেঙে দিয়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময়ে বাংলাদেশের দায়িত্ব নিয়েছেন। সেখান থেকে আমাদের উঠে আসতে হচ্ছে। গতকাল বুধবার দুপুরে ভোলার নতুন বাজার এক পথসভায় তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেছেন।
এসময় ভোলা-বরিশাল সেতুর প্রসঙ্গ টেনে তথ্যমন্ত্রী ব্যারিস্টার পার্থ বলেন, “ভোলা বরিশাল সেতুর জন্য ভোলার প্রতিটি মানুষ আন্দোলন করেছে। সেটার জন্য আমরা সবাই কাজ করেছি। সরকার সেটাও দেখছে। সরকার তার নিজস্ব অবস্থান থেকে সেটা বিবেচনা করছে।” পার্থ বলেন, “হিজলা মুলাদি, শরীয়তপুর হয়ে ঢাকায় গেলে ৪০ মিনিট সময় কম লাগে। সেটাও সরকার বিবেচনা করছে”।
মন্ত্রী আরও বলেন, “ভোলায় মেডিকেল কলেজের জন্য ১২ শত কোটি টাকা, নদী ভাঙন প্রতিরোধের জন্য সাত শত কোটি টাকা, সদর উপজেলার অভ্যন্তরীণ রাস্তাঘাট মরামতের জন্য পাঁচশত কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।” তিনি বলেন, আপনারা সবাই আমাকে সহাযোগিতা করেন যেন আমি সবাইর জন্য কাজ করতে পারি। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ভোলার উন্নয়নের ব্যাপারে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে এক থাকতে হবে।আর কোন মারামারি, হানাহানির রাজনীতি হবে না।আর কোন পিটাপিটি হবে না।
তিনি বলেন, “যে কাজ করে না, সে আমার লোক না।” আমার দলে কোন চোর নাই, সন্ত্রাসী নাই, টেন্ডারবাজ, চাঁদাবাজ নাই। আমার দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ যদি এসব করে, মনে রাখবেন তারা আমার দলের কেউ না। তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, “গত ছয় মাস আমি এমপি ছিলাম। কোন এক টাকার র্দুর্নীতির কথা শোনেন নাই। কোন মিথ্যা মামলা, কোন হয়রানি, চাদাবাজি, কোন ভাইগনা, কোন ভাতিজা শুনছেন আপনারা ? পার্থ বলেন, “কোন চোর, সন্ত্রাসী আমার দলের না। কোন টিআর, কাবিখা, কোন কমিশন এগুলি আমার রক্তে নাই। ”

ভোলা -১ সদর আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথমবার নিজ নির্বাচনী এলাকা ভোলায় এসেছেন। তাকে এক নজর দেখার জন্য পথে পথে মানুষের ঢল নামে। দলীয় নেতাকর্মী সমর্থকসহ দলমত নির্বিশেষে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়। সকাল থেকেই বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে দলীয় নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ ভোলার খেয়াঘাট থেকে শুরু করে নতুন বাজার, কালীনাথ রায় বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নিয়ে তাকে স্বাগত জানান। দুপুর ১২ টার দিকে বরিশাল থেকে স্পিডবোটে ভোলার উদ্দেশে রওনা দেন আন্দালিভ রহমান পার্থ। এ সময় ভোলার খালের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ হাত নেড়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান।
দুপুর সোয়া ১টার দিকে তিনি ভোলার খেয়াঘাটে পৌঁছালে জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ কাওসার, জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব গোলাম নবী আলমগীর, সদস্য সচিব রাইসুল আলম, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি ( বিজেপি)র সভাপতি আমিরুল ইসলাম রতন, সাধারণ সম্পাদক মোতাছিম বিল্লাহসহ বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি ও বিএনপির নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে তাকে বরণ করে নেন।
খেয়াঘাট থেকে উকিলপাড়ার বাসভবনে যাওয়ার পথে প্রায় ছয় কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো মানুষ তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এদিকে সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকার নেতাকর্মীরা বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঢোল-বাদ্য নিয়ে তাকে বরণ করতে সড়কের দুইপাশে অপেক্ষা করছিল।
এদিকে পথসভায় বক্তব্য শেষে উকিলপাড়ার বাসভবনে পৌঁছালে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।