অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই ২০২৬ | ৬ই শ্রাবণ ১৪৩৩


যুব আন্দোলনে রণক্ষেত্র দিল্লি: এবার কি টলে যাবে মোদী সরকার?


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০শে জুলাই ২০২৬ সন্ধ্যা ০৬:৪১

remove_red_eye

৫১

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির আকাশ আজ মেঘলা। তবে প্রকৃতির এই মেঘের চেয়েও বড় রাজনৈতিক ঝড় উঠেছে দিল্লির রাজপথে। নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে এক অভূতপূর্ব আন্দোলনের সাক্ষী হচ্ছে ভারত। এর নেতৃত্ব দিচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সোমবার (২০ জুলাই) পার্লামেন্টের বাদল অধিবেশন শুরুর দিনই তারা ‘সংসদ চলো’ পদযাত্রার ডাক দেয়। এই পদযাত্রা কেন্দ্র করে দিল্লির রাজপথ কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

হাজার হাজার ছাত্র ও তরুণ সকাল থেকেই দিল্লির যন্তর মন্তরে জড়ো হতে থাকেন। তাদের লক্ষ্য ছিল পার্লামেন্ট ভবনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। কিন্তু দিল্লি পুলিশ এই পদযাত্রার অনুমতি দেয়নি। পার্লামেন্ট ভবনের কয়েক কিলোমিটার দূরেই পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর বিপুল সদস্য মোতায়েন করা হয়। তৈরি করা হয় বিশাল লোহার ব্যারিকেড।

দুপুরের দিকে আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর নির্মমভাবে লাঠিচার্জ শুরু করে। একই সঙ্গে ছোড়া হয় টিয়ারগ্যাসের সেল ও জলকামান। আন্দোলনকারীরা দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে ছুটতে থাকেন। প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়া এবং সংসদ মার্গের আশপাশের এলাকা ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। বহু ছাত্র এই সংঘর্ষে আহত হয়েছেন এবং অনেককে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেন্ট্রাল দিল্লির কিছু অংশে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি রাজীব চক ও সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েটের মতো পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

india

ক্ষোভের আগুন যেভাবে ছড়াল

এই আন্দোলনের সূত্রপাত গত মে মাসে। ভারতের সবচেয়ে বড় মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা নিটের প্রশ্নফাঁস হওয়ার পর দেশজুড়ে ক্ষোভের জন্ম হয়। প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এই একটি ঘটনায় অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র হতাশা তৈরি হয়। মানসিক চাপে অনেক শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বলে গণমাধ্যমে খবর আসে। এই ঘটনার প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ঝড় তোলে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে ইনস্টাগ্রামে তাদের অনুসারী সংখ্যা দুই কোটি ছাড়িয়ে যায়।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের এই ক্ষোভ গত মাসে মাঠে গড়ায়। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন। ২৮ জুন এই আন্দোলনে যোগ দেন বিখ্যাত সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। তিনি যন্তর মন্তরে আমরণ অনশন শুরু করেন। গত শনিবার তার অনশনের ২১তম দিনে পুলিশ তাকে জোরপূর্বক উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এই ঘটনাই মূলত জ্বলন্ত আগুনে ঘি ঢালার কাজ করেছে।

সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে পাঠানোর প্রতিবাদে এবং সোমবার সংসদের প্রথম দিন লক্ষ্য করে হাজার হাজার তরুণ দিল্লি অভিমুখে রওয়ানা হন।হাসপাতাল থেকে পাঠানো এক চিঠিতে সোনম ওয়াংচুক জানিয়েছেন, সরকার যদি এই প্রশ্নফাঁসের দায় স্বীকার করে অথবা সংসদ সদস্যরা যদি এই বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করার নিশ্চয়তা দেন, তবেই তিনি অনশন ভাঙবেন। অন্যথায় হাসপাতাল শয্যা থেকেই তার এই লড়াই চলবে।

মোদী সরকার কি সত্যিই টালমাটাল?

দিল্লির এই নজিরবিহীন যুব বিদ্রোহের পর রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এবার কি টলে যাবে মোদী সরকার? নরেন্দ্র মোদীর তৃতীয় মেয়াদের সরকারের বয়স মাত্র কয়েক মাস। আর এই অল্প সময়ের মধ্যে বর্তমান আন্দোলনকে সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় জনঅসন্তোষ ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলনের কারণে মোদী সরকারের পতন ঘটার কোনো আইনি বা সংসদীয় আশঙ্কা আপাতত নেই।

প্রথমত, ককরোচ জনতা পার্টি কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নয়। এটি মূলত তরুণ ও শিক্ষার্থীদের একটি সামাজিক ও নাগরিক আন্দোলন। ভারতের মতো একটি বিশাল গণতান্ত্রিক দেশে কেবল রাজপথের বিক্ষোভের কারণে একটি নির্বাচিত সরকার ভেঙে পড়ে না। মোদী সরকারের কাছে পার্লামেন্টের প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে সরকার পড়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

কিন্তু সরকার না টললেও মোদী সরকারের ভাবমূর্তি যে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ভারতের মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশেরও বেশি তরুণ। এই বিশাল তরুণ সমাজ দীর্ঘদিন ধরেই কর্মসংস্থানের অভাব এবং তীব্র বেকারত্বের কারণে ক্ষুব্ধ। তার ওপর শিক্ষাব্যবস্থার এই চরম দুর্নীতি ও প্রশ্নফাঁস তাদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছে। ফলে এই আন্দোলন কেবল প্রশ্নফাঁসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটি তরুণদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশে পরিণত হয়েছে।

india

ব্যাকফুটে সরকার ও আলোচনার টেবিলে সিজেপি

বর্তমানে আন্দোলনের তীব্রতা এতটাই বেশি যে, মোদী সরকার প্রথমদিকে একে বিরোধী দলের চক্রান্ত বলে উড়িয়ে দিলেও এখন নমনীয় হতে বাধ্য হয়েছে। সোমবার সকালেই সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ নিশ্চিত করেন, সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সিজেপির একটি প্রতিনিধি দল সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে।

একই সঙ্গে, পার্লামেন্টের ভেতরেও অধিবেশনের প্রথমদিনই বিরোধীরা এই ইস্যু নিয়ে ঝড় তুলেছেন। লোকসভা ও রাজ্যসভায় ইন্ডিয়া জোটের সংসদ সদস্যরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে স্লোগান দেন। হট্টগোলের কারণে সংসদের অধিবেশন বারবার মুলতবি করতে হয়। তৃণমূল স্তর থেকে শুরু করে সংসদ ভবন পর্যন্ত মোদী সরকারকে একযোগে চেপে ধরেছে সিজেপি এবং বিরোধী দলগুলো।

indiaরাজনীতিতে নতুন মোড়

বিশ্লেষকরা বলছেন, সিজেপির এই আন্দোলন ভারতের রাজনীতির চেনা ছক বদলে দিচ্ছে। এতদিন ভারতের রাজনীতি মূলত ধর্ম, জাতি ও আঞ্চলিকতার সমীকরণে আবর্তিত হতো। কিন্তু সিজেপি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এবং ব্যঙ্গাত্মক উপায়ে তরুণদের মৌলিক অধিকার, দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা ও কর্মসংস্থানের দাবি সামনে নিয়ে এসেছে। ককরোচ বা তেলাপোকা যেমন শত প্রতিকূলতার মধ্যেও টিকে থাকে, ভারতের তরুণ সমাজও এই দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে টিকে থেকে লড়াই করবে—এই প্রতীকী বার্তা তরুণদের গভীরভাবে আকর্ষণ করেছে।

দিল্লির এই আন্দোলন প্রমাণ করেছে যে, ভারতের জেন-জি (Gen-Z) বা নতুন প্রজন্ম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেমন সক্রিয়, প্রয়োজন হলে তারা রাজপথে এসেও নিজেদের অধিকার আদায় করতে পারে। মোদী সরকার হয়তো এই যাত্রায় টিকে যাবে, কিন্তু দেশের কোটি কোটি তরুণের এই অনাস্থা ও ক্ষোভ যদি সরকার দ্রুত প্রশমন করতে না পারে, তবে আগামী দিনে প্রতিটি নির্বাচনে বিজেপিকে এর চড়া মূল্য দিতে হবে।





ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা নিশ্চিতে নির্ভুল তথ্যভাণ্ডার গড়ার ওপর প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ

ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা নিশ্চিতে নির্ভুল তথ্যভাণ্ডার গড়ার ওপর প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ

সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখতে বিজিবিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ

সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখতে বিজিবিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ

মশা নিধনে দেশীয় প্রযুক্তির রাসায়নিক ব্যবহার সম্ভাবনাময় হতে পারে : মির্জা ফখরুল

মশা নিধনে দেশীয় প্রযুক্তির রাসায়নিক ব্যবহার সম্ভাবনাময় হতে পারে : মির্জা ফখরুল

মোজাফফরের বিচার হবে জেনারেল কোর্ট মার্শালে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মোজাফফরের বিচার হবে জেনারেল কোর্ট মার্শালে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন রাশেদ খাঁন

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন রাশেদ খাঁন

দেশজুড়ে আরও ৫ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস, সক্রিয় মৌসুমি বায়ু

দেশজুড়ে আরও ৫ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস, সক্রিয় মৌসুমি বায়ু

জিজ্ঞাসাবাদে মুখ খুলছেন খুনি মোজাফফর, উন্মোচন হতে পারে নানা রহস্যের জট

জিজ্ঞাসাবাদে মুখ খুলছেন খুনি মোজাফফর, উন্মোচন হতে পারে নানা রহস্যের জট

৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল

৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল

আরও...