অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বৃহঃস্পতিবার, ১৬ই জুলাই ২০২৬ | ১লা শ্রাবণ ১৪৩৩


ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাটে সিসি ব্লক ধ্বস


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫ই জুলাই ২০২৬ রাত ১০:৫৯

remove_red_eye

৬৪

ফেরিঘাটসহ শহর রক্ষা বাঁধ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকির মুখে

বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক : উজান থেকে নেমে আসা পানির তীব্র স্রোতে ভোলা সদর উপজেলার মেঘনা নদীর ইলিশা লঞ্চঘাট পয়েন্টে  সিসি ব্লক ধ্বস দেখা দিয়েছে। এতে করে হুমকির মুখে পড়েছে ইলিশা ফেরিঘাট, লঞ্চঘাট, মাছঘাটসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভাঙন ছড়িয়ে পড়তে পারে ভোলা শহর রক্ষা বাঁধ পর্যন্ত। এদিকে ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাটের পন্টুনে ব্র্যাকেট ক্ষতিগ্রস্ত ও ফাটল দেখা দেওয়ায় ঢাকা-ইলিশা নৌপথে চলাচলকারী যাত্রী ও নৌযান সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে ব্লক ধ্বসে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। 
স্থানীয়রা জানান, গত ১৪ জুলাই ভোররাত থেকে সদর উপজেলার ইলিশা লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকায় শুরু হয় সিসি ব্লকের ধ্বস। উজানের পানির চাপ ও তীব্র স্রোতে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে চার স্তরের প্রায় ২০ মিটার এলাকার শত শত সিসি ব্লক। মেঘনার তীব্র স্রোত বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে সিসি ব্লক ধসের মাত্রাও।  ইতোমধ্যে আরও প্রায় ১০ মিটার এলাকায় বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে, যা নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি করেছে। এতে করে বিচ্ছিন্ন রয়েছে ঢাকা ইলিশা লঞ্চঘাটের পল্টুন। ফলে এরই মধ্যে বিআইডব্লিউটিএ একটি লঞ্চ ঘাটে যাত্রী উঠানামা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বড় ধরনের ক্ষতি এড়াতে ভাঙ্গন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি এলাকাবাসির।  ভাঙনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো ঘাট এলাকায়। ঝুঁকিতে থাকা দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে । নদীভাঙনের মাত্র ২০ মিটার দূরেই রয়েছে ভোলা শহর রক্ষা বাঁধ। ফলে বেড়িবাঁধের ওপারে থাকা তিন ইউনিয়নের হাজারো মানুষের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। 


ইলিশা পয়েন্ট শুধু একটি নদীতীর নয়, এটি ভোলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র। এখানেই রয়েছে জেলার ভোলা-লক্ষ্মীপুর ফেরিঘাট, ভোলা-ঢাকা-লক্ষ্মীপুর লঞ্চঘাট, মাছঘাট এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা। ভাঙন অব্যাহত থাকলে যোগাযোগ ব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং নদীতীরবর্তী বসতি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের মতে, এর আগে ২০২৩ ও ২০২৪ সলে একাধিকবার এইকই পয়েন্টে সিসি ব্লকের ধসদেখা দেয়। শুধু জরুরি মেরামত নয়, নদীভাঙন ঠেকাতে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই প্রকল্প বাস্তবায়ন করার দাবি। অন্যথায় প্রতি বর্ষা মৌসুমেই ইলিশা পয়েন্টে একই ধরনের ভাঙন দেখা দেবে, যা একসময় ভোলা শহর রক্ষা বাঁধসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
এদিকে সোমবার (১৪ জুলাই) ভোলা নদী বন্দরের সহকারী বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা এবং অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক (নৌ-ট্রাফিক) নির্মল কুমার রায় স্বাক্ষরিত এক জরুরি নৌ-বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইলিশা লঞ্চঘাটের পন্টুনের পেছনের ব্র্যাকেট লম্বালম্বিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পন্টুনে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। ফলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ কারণে পন্টুনটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে মেরামত বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হওয়া পর্যন্ত যাত্রী ও নৌযান চলাচলে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিকে ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দীন আরিফ সাংবাদিকদের জানান, ঝুঁকিপূর্ন এলাকায় বৃহস্পতিবার থেকে ইমারজেন্সি জিওব্যাগ ডাম্পিং করা হবে।  ব্লক ধ্বসে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। 
উল্লেখ্য, মেঘনার ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষায় ২০২১ সালে ৩৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজাপুর ও ইলিশা ইউনিয়নের ৪ কিলোমিটার এলাকায়    ব্লক সহ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ দেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড । তাই ভাঙ্গন ঠেকাতে টেকসই ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি এলাকা বাসির।