অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বৃহঃস্পতিবার, ১৬ই জুলাই ২০২৬ | ১লা শ্রাবণ ১৪৩৩


আজ ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে যত আয়োজন


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ই জুলাই ২০২৬ সকাল ১১:০৫

remove_red_eye

১৪

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই। ছাত্রদের কোটাবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন রংপুরে পুলিশের গুলিতে মারা যান বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। দিনটিকে স্মরণে রেখে সাবেক অন্তর্র্বতী সরকার ১৬ জুলাইকে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ ঘোষণা করে।

ঘোষণা মতো গত বছরে দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হয়। বছরে ঘুরে আবার এসেছে ‘জুলাই শহীদ দিবস’। এ উপলক্ষে আজও (বৃহস্পতিবার) সারাদেশে দিবসটি উপলক্ষে রয়েছে নানা আয়োজন।

তথ্য মতে, আজ দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। এছাড়া জুলাই শহীদদের রুহের মাগফিরাতের জন্য সব মসজিদে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে তাদের আত্মার শান্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। 

দিবসের কর্মসূচির মধ্যে আজ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।

অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন কক্সবাজারের পেকুয়ায় শহীদ ওয়াসিমের বাড়িতে গিয়ে সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং চট্টগ্রামের মুরাদপুরে শহীদ ওয়াসিমের শাহাদাতস্থলে একটি স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

সব মাদরাসাতেও ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালনের নির্দেশ

এ বছরের জুলাই শহীদ দিবসে দেশের সব মাদরাসাতেও স্মরণসভা ও বিশেষ মোনাজাত আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড। এ বিষয়ে জারি করা নির্দেশনাকে ‘অতীব জরুরি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত সোমবার (১৩ জুলাই) মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস ২০২৬’ পালন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার কার্যবিবরণীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বোর্ডের আওতাধীন সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ কর্মসূচি পালন করতে হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়, প্রতিটি মাদরাসা নিজ নিজ সুবিধাজনক সময়ে জুলাই শহীদদের স্মরণে স্মরণসভা আয়োজন করবে। একই সঙ্গে শহিদদের রুহের মাগফিরাত এবং দেশের শান্তি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করতে হবে।

মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এ নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছে।

২০২৪ সালে শিক্ষার্থীদের সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন যখন চলছিল, ঠিক তখনই তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার আন্দোলন দমাতে ছাত্রদের ওপর নির্বিচার গুলি চালায়। সেই গুলির সামনে আবু সাঈদ যেভাবে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, তা দেখে স্তম্ভিত হয়ে যায় পুরো বিশ্ব। 

মূলত আবু সাঈদের মৃত্যুতেই পাল্টে গিয়েছিল আন্দোলনের গতিপথ। পুলিশের ছোড়া বুলেট ঝাজরা করে দিয়েছিল তার বুক। আবু সাঈদ ছাড়াও ১৬ জুলাই আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও তাদের সমর্থকদের হামলায় ছাত্রদলের ওয়াসিমসহ সারাদেশে শহীদ হন ছয়জন।

সেদিন শহীদ হওয়া অন্য চারজনের মধ্যে দুজন ঢাকার এবং বাকিরা চট্টগ্রামের। ঢাকায় শহীদ হন নিউমার্কেট এলাকার হকার মো. শাহজাহান এবং নীলফামারীর যুবক সবুজ আলী। চট্টগ্রামে এমইএস কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমদ শান্ত এবং স্থানীয় ফার্নিচার দোকানের কর্মচারী মোহাম্মদ ফারুক। আহত হয় অসংখ্য ছাত্র-জনতা। 

সেদিন জেলায় জেলায় সংঘর্ষ, বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে সারাদেশ। দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক-মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। একদিকে সমগ্র দেশের ছাত্র-জনতা, অন্যদিকে আওয়ামী সরকার, তাদের সমর্থক গোষ্ঠী ও প্রশাসন। 

আবু সাঈদের মৃত্যুর দৃশ্য দেখে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও এদিন আন্দোলনে যোগ দেয়। অবস্থা বেগতিক দেখে এবং আন্দোলন দমাতে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে তৎকালীন হাসিনা সরকার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সারাদেশে মোতায়েন করে সব ধরনের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। 

কিন্তু সরকারের এ দমনপীড়ন ঠেকাতে পারেনি আন্দোলনকারীদের। শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলন রূপ নেয় ছাত্র-জনতার সম্মিলিত এক দফা আন্দোলনে। সেই এক দফা হলো স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট সরকারের পদত্যাগ। এই এক দফা বাস্তবায়নে জীবন দেয় দেড় হাজারের বেশি ছাত্র-জনতা। গুরুতর আহন হন হাজার হাজার।

অবশেষে ছাত্র-জনতার প্রতিরোধের মুখে টিকতে না পেরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রিত্ব ছেড়ে সামরিক হেলিকপ্টারে করে ভারতে পালিয়ে যান ফ্যাসিস্ট হাসিনা। সেই থেকে তিনি দিল্লিতে দেশটির সরকারের রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।