অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বুধবার, ৮ই জুলাই ২০২৬ | ২৩শে আষাঢ় ১৪৩৩


ভোলায় জনপ্রিয় হচ্ছে নাগা মরিচের চাষ


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭ই জুলাই ২০২৬ রাত ০৯:৫৫

remove_red_eye

৩৭

সফলতা দেখে আগ্রহী নতুন উদ্যোক্তারা


বাংলার কন্ঠ ডেস্ক : কম খরচে অধিক লাভ, বাজারে ভালো চাহিদা এবং আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির কারণে ভোলায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বোম্বাই মরিচের চাষ। দেশের বিভিন্ন এলাকায় নাগা মরিচ বা ফোটকা মরিচ নামেও পরিচিত এ জাতের মরিচ এখন জেলার অনেক কৃষকের কাছে লাভজনক ফসলে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে চরফ্যাশন উপজেলায় সর্জান পদ্ধতিতে চাষ করে ভালো ফলন পাওয়ায় কৃষকেরা অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে এ মরিচের আবাদে ঝুঁকছেন। সফল চাষিদের দেখে নতুন উদ্যোক্তারাও এ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চরফ্যাশনে মোট ৮৫ হাজার ১৯২ হেক্টর আবাদি জমি রয়েছে। চলতি রবি মৌসুমে উপজেলার ১০ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে চর মাদ্রাজ, জাহানপুর, চর মনিকা, নীলকমল ও রসুলপুর ইউনিয়নে মরিচের আবাদ তুলনামূলক বেশি।

উপজেলার জিন্নাগর ইউনিয়নের উত্তর চর মাদ্রাজ গ্রামের কৃষক আবদুর রহিম বোম্বাই মরিচ চাষে সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ছয় বছর আগে সীমিত পরিসরে চাষ শুরু করলেও বর্তমানে তিনি চার একর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে বোম্বাই মরিচের আবাদ করছেন। চরাঞ্চলের জোঁ-বাঁধা জমিতে পানি নিষ্কাশনের সুবিধা নিশ্চিত করে সর্জান পদ্ধতিতে চাষ করায় তাঁর জমিতে ফলনও ভালো হয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, প্রতি হেক্টরে এ মরিচের ফলন প্রায় ৮ থেকে ১০ টন পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে।

কৃষক আবদুর রহিম জানান, ২০২৪ সালে প্রায় এক লাখ টাকা ব্যয়ে চার একর জমিতে বোম্বাই মরিচের আবাদ করে তিনি প্রায় ১৬ লাখ টাকার মরিচ বিক্রি করেছেন। তাঁর ভাই মো. সেহাগ বলেন, চলতি মৌসুমে তাদের ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকা আয় হতে পারে বলে আশা করছেন।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজ বোম্বাই মরিচে ভরা গাছ। স্থানীয় শ্রমিকেরা নিয়মিত মরিচ সংগ্রহ, বাছাই ও পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ক্ষেতজুড়ে সবুজ মরিচের সমারোহ এবং কর্মচাঞ্চল্য নতুন উদ্যোক্তাদেরও আকৃষ্ট করছে।

চাষিরা জানান, অগ্রহায়ণ মাসের শুরুতে চারা রোপণ করা হয় এবং প্রায় তিন মাস পর গাছে মরিচ ধরা শুরু করে। সর্জান পদ্ধতিতে চাষ করায় বর্ষা মৌসুমেও গাছের গোড়ায় পানি জমে না, ফলে দীর্ঘ সময় ধরে ফলন পাওয়া যায়। এ সময় বাজারে সরবরাহ কম থাকায় মরিচের দামও তুলনামূলক বেশি থাকে।

স্থানীয় কৃষক আব্দুস সাত্তার ফারুক বলেন, “স্বাদ ও ঝাঁজের কারণে বোম্বাই মরিচের বাজার চাহিদা ভালো। কম পুঁজিতে লাভ বেশি হওয়ায় অনেক কৃষক এখন সর্জান পদ্ধতিতে চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।”

স্থানীয় তরুণ কৃষক আবদুল্লাহ বলেন, “যারা আগে বোম্বাই মরিচ চাষ করে সফল হয়েছেন, তাদের দেখে আমিও এ চাষে আগ্রহী হয়েছি। ভবিষ্যতে আরও জমিতে আবাদ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।”

পাশের ইউনিয়নের তরুণ উদ্যোক্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের অনেকেরই পতিত জমি রয়েছে। প্রয়োজনীয় সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা পেলে আরও অনেক নতুন উদ্যোক্তা এই লাভজনক কৃষিখাতে যুক্ত হতে পারবেন।”

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, ভোলার উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম মল্লিক বলেন, “কৃষি বিভাগের পরামর্শ এবং বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে বীজ, সার, কীটনাশক ও কারিগরি সহায়তা দেওয়ায় কৃষকেরা সর্জান পদ্ধতিতে উচ্চমূল্যের ফসল আবাদে আগ্রহী হচ্ছেন। ভোলা জেলার যেসব কৃষকের অতিরিক্ত জমি রয়েছে, তারা ধান চাষের পাশাপাশি কিছু অংশে সর্জান পদ্ধতিতে উচ্চমূল্যের ফসল চাষ করলে আর্থিকভাবে আরও লাভবান হতে পারবেন।”

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, সঠিক প্রযুক্তি, বাজারসংযোগ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে ভোলার চরাঞ্চলে শুধু বোম্বাই মরিচ নয় প্রায় সকল উচ্চ মূলের ফসল বাণিজ্যিক চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে। এতে কৃষকদের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।





আরও...