অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই ২০২৬ | ২৩শে আষাঢ় ১৪৩৩


তজুমুদ্দিনে নারী-পুরুষকে জুতার মালা পরিয়ে হেনস্তার ভিডিও ভাইরাল , থানায় মামলা আটক ৪


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৭ই জুলাই ২০২৬ সন্ধ্যা ০৭:০৩

remove_red_eye

৫৪

বাংলার কন্ঠ প্রতিবেদক : ভোলার তজুমদ্দিনে  দুই নারী পুরুষকে গলায় জুতার মালা পড়িয়ে নির্যাতন ও মারপিটের ঘটনায় ৪ জনকে আটক করেছেন পুলিশ। এঘটনায় আজ ভুক্তভোগী মাহে আলম বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।৬ জুলাই সকাল ১১টার দিকে তজুমদ্দিন সোনাপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের সহিদ মেম্বারের বাড়িতে এই নির্যাতনের ঘটনা ঘটে

স্থানীয় ও মামলা সুত্র জানায়, সোনাপুর ৬নং ওয়ার্ডের দুলাল প্রধানের ছেলে মোঃ সজিব আবাসনে ঘর দিবে বলে একই এলাকার মৃত আঃ আলীর ছেলে মাহে আলম (৫৮)এর কাছে ২০ হাজার টাকা ও পরে একলক্ষ টাকা দাবী করেন। টাকা না দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে এক নারীর সাথে চারিত্রিক অপবাদ দিয়ে সবুজ গংরা মব সৃষ্টি করে দুই জনকে  বেঁধে নির্যাতন করে জুতার মালা পড়িয়ে এলাকায় ঘুড়িয়ে ফেজবুকে পোস্ট করেন। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৫১ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারী ও এক পুরুষকে আনন্দ বাজারে প্রকাশ্যে গলায় জুতার মালা পরিয়ে হেনস্তা করা হচ্ছে। এ সময় আশপাশে উপস্থিত লোকজনের কেউ ঘটনাটি দেখছেন, আবার কেউ মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছেন। পরে কয়েকজন যুবক ওই নারী-পুরুষকে এমন কাজ আর করবেন না বলে শপথ করান। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগী তাছলিমা বেগম অভিযোগ করেন, তার স্বামী একটি মামলায় কারাগারে রয়েছেন। অর্থাভাবে মামলার খরচ চালাতে না পেরে তিনি স্থানীয় সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য নুসরাত বেগমের স্বামী মো. শহিদুল্লাহর কাছ থেকে কিছু টাকা ধার নিতে তার বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, শহিদুল্লাহ বাড়িতে নেই। ওই সময় ঘরে শহিদুল্লাহর মা, বোন এবং মাহে আলম মাঝি নামে এক ব্যক্তি ছিলেন, যিনি পারিবারিক কাজে সেখানে গিয়েছিলেন। কিছুক্ষণ পর স্থানীয় কয়েকজন যুবক ঘরে ঢুকে অনৈতিক সম্পর্কের মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাদের মারধর করেন। পরে বাড়ি থেকে বের করে আনন্দ বাজারে নিয়ে শতাধিক মানুষের সামনে গলায় জুতার মালা পরিয়ে হেনস্তা করেন।

স্থানীয় সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য নুসরাত বেগমের স্বামী মো. শহিদুল্লাহ বলেছেন, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। মাহে আলম মাঝি জমিসংক্রান্ত কাজে এবং তাছলিমা বেগম আর্থিক সহায়তার জন্য তার বাড়িতে এসেছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে অনৈতিক কোনো কর্মকাণ্ডের অভিযোগের ভিত্তি নেই। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ তদন্ত করে যাওয়ার পর তথ্য দেওয়ার অভিযোগে রাত ১২টার দিকে একদল যুবক তার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছে এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করছে। অতীতেও তারা প্রকাশ্যে মানুষকে মারধরের মতো ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

তজুমদ্দিন থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান জানান, ফেজবুকে একটি ভিডিও দেখে এলাকা পরিদর্শন ও তদন্ত করার পর ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে মোঃ সজিব, রাকিব হোসেন ভুট্টো, রায়হান ও রাসেদ নামে চারজনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
 মামলা নং ০৩, তারিখ ০৭.০৭.২০২৬ ইং। আটকৃত সজিবের বিরুদ্ধে তজুমদ্দিন থানায় ডাকাতিসহ ৬ টি মামলা রয়েছে।