অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, মঙ্গলবার, ১২ই মে ২০২৬ | ২৯শে বৈশাখ ১৪৩৩


জুলাই স্মৃতি জাদুঘর বিশ্বের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে: স্পিকার


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ই মে ২০২৬ বিকাল ০৪:৫৩

remove_red_eye

৩২

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।

তিনি বলেন, আজ আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনে এসেছি।

আমরা এই জাদুঘরটি দেখে অভিভূত হয়েছি। এখানে বর্ণিত হয়েছে বাঙালির দীর্ঘদিনের সংগ্রামের মহান ইতিহাস।
 
স্বাধীনতা যুদ্ধ ও বিভিন্ন সময়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন এবং সর্বশেষে জুলাই-আগস্টের মহান গণঅভ্যুত্থানের চিত্র অত্যন্ত চমৎকারভাবে এখানে ধারণ করা হয়েছে। বর্তমান বিএনপি সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
তারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাসকে জনসম্মুখে তুলে ধরার জন্য। এটি দেখলে অশ্রু সংবরণ করা অত্যন্ত কঠিন।
যেভাবে এ দেশের তরুণ-কিশোর-শিশুরা জীবন দিয়েছে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য। এটি শুধু বাংলাদেশের নয়, সারা বিশ্বের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

 

মঙ্গলবার (১২ মে) জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। পরিদর্শনকালে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল জাদুঘরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশ ঘুরে দেখেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, এই জাদুঘর এবং জুলাই-আগস্টের যে মহান গণঅভ্যুত্থান, এটি বাংলাদেশের মানুষকে যুগ যুগ ধরে অনুপ্রাণিত করবে। এখানে শহীদদের লেখা কয়েকটি চিঠি আছে। যাদের বুক পকেটে এ চিঠি ছিল, তারা তাদের বাবা-মায়ের উদ্দেশে চিঠি লিখে গিয়েছেন। গণভবনের উদ্দেশে ছুটে আসা লাখো মানুষের রাজপথের চিত্রও অত্যন্ত মুন্সিয়ানার সঙ্গে ধারণ করা হয়েছে। এর উদ্যোগদাতাদের ধন্যবাদ জানাই।

তিনি আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় মাফিয়া শেখ হাসিনা তার খুনিদের সরাসরি হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন, তার কলরেকর্ডও গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান যুগ যুগ ধরে বাঙালিদের অনুপ্রাণিত করবে।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রমাণ করবে, গণতন্ত্রের জন্য মানুষ হাসিমুখে জীবন দিতে পারে। এ জাদুঘর হবে বাংলাদেশের মানুষের জন্য বিশাল সম্পদ।

এ সময় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, জুলাই ও আগস্টে যারা গুম হয়েছিলেন, শহীদ হয়েছিলেন, তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর শতাব্দীর জন্য শিক্ষণীয়। ফ্যাসিবাদ থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করে দেশের দামাল ছেলেরা কীভাবে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছেন, এই জাদুঘর তারই প্রতিবিম্ব। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনকে উজ্জীবিত রাখাসহ আগামী প্রজন্মের জন্য এটি শিক্ষণীয় বিষয় হয়ে থাকবে। আপনারা শুনেছেন, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর সবার জন্য খুলে দেওয়া হবে।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক সময়ের বাসভবন গণভবনকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ করা হয়েছে।