অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ৪ঠা এপ্রিল ২০২৬ | ২১শে চৈত্র ১৪৩২


ভোলায় সূর্যমুখীর হাসিতে সোনালি স্বপ্ন বদলে যাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য


এ আর সোহেব চৌধুরী

প্রকাশিত: ২রা এপ্রিল ২০২৬ সকাল ১১:১৯

remove_red_eye

৪৪

এআর সোহেব চৌধুরী, চরফ্যাশন  থেকে: সূর্যমুখী ফুল চাষাবাদে লাভের স্বপ্ন বুনছেন চরফ্যাশন উপজেলার কৃষকেরা। অল্প পুঁজিতে অধিক লাভজনক হওয়ায় সূর্যমুখী ফুলের চাষ বেড়েছে উপজেলার কৃষকদের মাঝে। সূর্যমুখী চাষ করা ক্ষেত এখন ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে। হাজার হাজার সূর্যমুখী ফুল পরিপূর্ণতায় বাতাসে দোলছে।  সবুজের মাঠে হলুদের সমারহে হলুদ প্রকৃতিকে করেছে আরও আন্দোলিত। যেন সূর্যমুখীর হাসিতে হাসছে পুরো মাঠ আর মহামিলন ঘটেছে হলুদ প্রান্তরে।
সরজমিন ঘুরে জানা গেছে, উপজেলার শশীভূষণ, রসুলপুর,মাদ্রাজ ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে এবার সূর্যমুখী চাষ করেছেন কৃষকরা। রসুলপুর উত্তর আইচা গ্রামের আবেদ হোসেন এক একর জমিতে সূর্যমুখী ফুল চাষ করেছেন। আবেদ হোসেন প্রতি বছর সূর্যমুখীর তেল বীজ চাষ করেন। চরফ্যাশন উপজেলা কৃষি অফিস থেকে এবার বীজ, সার সংগ্রহ করার পাশাপাশি কারিগরি সহায়তা পাওয়ায় সূর্যমুখী তেল বীজ থেকে আরও ভালো লাভের আশা করেন এ কৃষক। তিনি বলেন, প্রতি বছর আমার ভালোই লাভ হয়। সূর্যমুখী চাষ করে লোকসান হয়নি কখনো। এটা জানাজানি হওয়ায় এবার চরফ্যাশনের শতশত কৃষক সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হয়েছেন। এমাদ হোসেন আরও  বলেন, ‘সূর্যমুখি ফুল সকাল বেলা পূর্ব দিকে তাকিয়ে থাকে। কারণ সূর্য যেদিক থেকে উঠে সেই দিকেই ফুলের মুখ থাকে। বিকেল পর্যন্ত পশ্চিম দিকে মুখ থাকে।
তাই এটাকে সূর্যমুখী ফুল বা সানফ্লাওয়ার বলে। ’ আরেক সূর্যমুখী চাষি আবুল হাসান বলেন, এই ফুলের বীজ থেকে তেল ও  খৈল হয়। তেল বীজ ভেজে প্যাকেট করে পর্যটক অঞ্চলগুলোতেও বিক্রি হয়। এ ছাড়া ফুলের মাঠে মৌচাক বসিয়েও বাণিজ্যিকভাবে মধু সংগ্রহ করা যায় এবং শুকিয়ে যাওয়া গাছ জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। সূর্যমুখী বীজ বপনের ৩থেকে সাড়ে ৩মাসের মধ্যেই ফুল থেকে বীজ ঘরে তোলা যায়। কৃষকদের মতে, স্বল্প খরচে ও অতি অল্প সময়ে মধ্যে সূর্যমুখী চাষ করে বেশি মুনাফা  পাওয়া যায়। আগামীদিনগুলোতে চরফ্যাশন উপজেলায় সূর্যমুখী চাষ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন কৃষকরা।
এ ব্যাপারে চরফ্যাশন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হুদা বলেন, চরাঞ্চলীয় এলাকায় সূর্যমুখী চাষ কৃষকদের জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। সরকারি সাহায্য ও আধুনিক প্রযুক্তির কারণে মাঠ পর্যায়ে সূর্যমুখীর বীজের মূল্য নিশ্চিত করা গেলে গ্রাম পর্যায়ে এ বীজের চাষ আরও সসম্প্রসারিত হবে।
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের প্রশিক্ষণ,কীটনাশক সহায়তা ও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে কৃষি অফিস থেকে।

মোঃ ইয়ামিন