বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১লা মার্চ ২০২৬ দুপুর ১২:১২
৯৮
জেলার বাইরের পাইকারী বাজারে ৩হাজার টাকা পর্যন্ত মন বিক্রি হয়েছে
নেয়ামতউল্যাহ : শশার ভালো দাম পেয়ে খুশি ভোলার মেঘনা নদীর মাঝে জেগে ওঠা চরের কৃষক হাসান কেরানী(৫৬)। ফলন কিছুটা কম হলেও রোজার শুরু থেকে ভালো দাম পাওয়ায় খরচ বাদে ভালো লাভে থাকবেন বলে আশা করছেন।
তিনি বলেন, গাছের বয়স অনুয়ায়ী ঈদের মার্কেট ধরতে পারবেন আশা করছেন।
ভোলার বাজারে রোজার শুরুতে শশার কেজি বিক্রি ছিল ৮০-৯০টাকা। এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০টাকা। হাসান কেরানী জানান, এ বছর খেত থেকেই শশা বিক্রি করেছেন ৬০টাকা। এখন চলছে ২৫টা। ঢাকা ও আশাপাশের জেলার বাজার অনুযায়ী শশার দাম ওঠানামা করে। তাই পাইকার তেমন একটা কৃষককে ঠকাতে পারে না। যদি ঈদের বাজার ৬০টাকা পান তাহলে ৭-৮লাখ টাকা বিক্রি নামবে।
তবে এ বছর শশার উৎপাদন কম হওয়ায় কৃষকরা কিছুটা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। দাম ভালো পাওয়ায় এখন চাঙাভাব অনুভব করছেন বলে জানান ভোলার কৃষকরা।
গত কয়েক দিন সরেজমিন দেখা যায়, ভোলার তীর সংরক্ষণ বাঁধের বাইরে, বাঁধের গায়ে, নদীর মধ্যে জেগে ওঠা চরাঞ্চল এখন সবুজ আর সবুজ। সেখানে সব দামী সবজি আবাদ হচ্ছে। সেই সবজির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হারে আবাদ হচ্ছে শশা। ধরতে গেলে পরিত্যক্ত জমিতে, অন্য ফসলের সাথী ফসল হিসাবে, মোটা টাকা খরচ করে কৃষক এসব ফসল ফলাচ্ছে। এ বছর অতিরিক্ত শীত কম হওয়ার কারণে ফলন মাঝারি মানের হলেও, বাজারে শশার দাম আকাশ ছোঁয়া। সারা দেশে একই অবস্থা হওয়ার কারণে বরিশাল, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ঢাকার মোকামসহ ভোলার বাইরের জেলাগুলোর পাইকারীবাজারে ৩হাজার টাকা পর্যন্ত মন বিক্রি হয়েছে। কোনো কোনো বছর যা বিক্রি হয় মাত্র ৫-৬টাকায় কেজি। এক কেজি শশার উৎপাদন খরচ দাঁড়ায় ১২-১৫টাকা। সঙ্গে আছে বহন খরচ। তবে এবার পাইকার ভোলার খেত থেকেই সংগ্রহ করছে শশা। তাই বহন খরচ দরকার হচ্ছে না। নির্বাচনের বছর হিসাবে পথের চাঁদাবাজিও ছিল না।
ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুরের কৃষক কাঞ্চন বেচু বলেন, ‘এ বছর ১২গন্ডা (৯৬শতাংশ) জমিতে শশার আবাদ করেছেন। এ বছর তিনি দুইবারে ২২গন্ডা(১৭৬শতাংশ) শশার আবাদ করেছেন। প্রথমবার আশ্বিনে ৮০শতাংশ জমিতে শশার আবাদ করেছিলেন, এরমধ্যে ৬৪শতাংশ জমির ফসল ভাইরাসে নষ্ট করে ফেলেছে। তাঁরমতো অনেকেরই ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। ওই সময় শশার ভালো দাম ছিল, কিন্তু তিনি ক্ষতির শিকার হয়েছেন। এ ভাইরাসের নাম, মাটির ভাইরাস। মাটি শোধন করেছি, অনেক ওষুদ দিয়েছি । তারপরেও ক্ষতি হয়ে গেছে। ওষুধের ডিলার, কৃষিবিদরা বলেছেন, ভাইরাসের কোনো ওষুধ নাই। ওই সময় বাকী ৮শতাংশের ফসলে কোনো রকম খরচ চালিয়ে নিতে পারলেও ব্যাপক ক্ষতি হয়। পরে আবার অগ্রহায়নের শেষ দিকে আবার ৯৬শতাংশ আবাদ করেছিলেন। তাই রোজার মধ্যে বিক্রি করেছেন। এখন আল্লাহ চাইলে পুরো খরচ উঠে আসবে।
ভোলার সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজাপুর থেকে চর মোহাম্মদ পর্যন্ত, ইলিশার মুরাদ সফিউল্যাহ থেকে দৌলতখান উপজেলার চরপাতা পর্যন্ত প্রায় এক হাজার একর জমিতে শশার আবাদ করেছে কৃষক। রাজাপুরের কৃষক জাকির হোসেন সরদার, বেলাল সরদার, কালু সরদার, আব্দুল জলিল সরদার, আব্দুর রহিম সরদারসহ একাধিক কৃষকের ভাষ্য, মাত্র ৪৫দিনে শশার ফলন আসে। এ কারণে অন্য ফসলের সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা সাথীফসল হিসাবে শশার আবাদ করেন। যাতে শশা বেচে অন্য ফসলের খরচ জোগাতে পারেন। কিন্তু এ বছর চাষের শুরুতে শশার খেতে ভাইরাস আক্রমন করেছে অনেক কৃষক। ফলে ঋণের বোঝা আরও মাথায় নিতে হয়েছে। তবে যাদের ভাইরাস আক্রমন করেনি, তাঁরা শশা বিক্রির টাকায় বাকী চিচিঙ্গা, করল্লা, ঝিঙ্গা, মরিচ, ক্যাপসিকাম চাষের খরচ বহন করেছেন। ফলনের শুরুতে কেজি ৭০-৮০টাকা দাম পেয়েছেন।
রাজাপুর ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ডের ইউপিসদস্য মাসুদরানা আবাদ করেন, মেঘনার মাঝে জেগে ওঠা কানিবগার চরে। এ বছর তিনি ১২একর জমিতে পর্যায়ক্রমে শশার আবাদ করেছেন। ওই জমিতেই একই সঙ্গে করল্লা, চিচিঙ্গা ও ঝিঙ্গা আবাদ করেছেন। মাসুদরানা বলেন, ‘আল্লার রহমতে এ বছর শশার মন পেয়েছেন ৩হাজার টাকা। মৌসুমের শুরু থেকে শশা বিক্রির টাকায় সার, বীজ, সেচ, দিনমজুরদের টাকাসহ সকল খরচ চালাচ্ছেন। ঈদে ও ঈদের পরেও তিনি শশা বিক্রি করতে পারবেন আশা করছেন। শশা বিক্রি শেষ না হতে অন্য ফসল বিক্রি করবেন।
ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসেবে ভোলায় এ বছর প্রায় সাড়ে ৫ হাজার একর জমিতে শশার আবাদ হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে আবাদের পরিমান অনেক বেশি। কারণ সরেজমিন দেখা যায়, এমন কোনো জমি নেই যেখানে বাড়তি ফসল হিসাবে শশা আবাদ হচ্ছে না।
কৃষকদের ভাষ্য, জমির লগ্নিমূল্য, বীজ, সার, ওষুধ ও চাষাবাদের খরচ বেড়ে যাওয়ায় এক কানি (এক একর ৬০শতাংশ)জমিতে শশার আবাদ করতে তিন লাখ টাকা খরচ হচ্ছে। ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে হেক্টরে ২৫-৩০মেট্রিকটন ফলন হলেও এ বছর আবহাওয়া অনূকূলে না থাকায় ফলন হয়েছে ২২-২৩মেট্রিকটন। গড়ে ৩০টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও দাম আসে ৬-৭লাখ টাকা। তাতে কমপক্ষে প্রায় অর্ধেক লাভ হয়েছে।
ভোলা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, এ বছর তাঁদের সদর উপজেলায় ৯৫ হেক্টরে শশার আবাদ হয়েছে। ফেব্রুয়ারীতে শীত কম থাকায় ২৫-৩০টনের স্থলে ফলন হয়েছে ২২-২৩ মেট্রিকটন। যারা সেচ দিতে পেরেছে তাঁদের ফলন ভালো হয়েছে। ভাইরাস আক্রমনের ব্যাপারে জানতে চাইলে কৃষিবিদ বলেন, কুমড়া জাতীয় যতো ফসল আছে, সেগুলোতে ভাইরাস আক্রমন করে গোড়া পঁচা রোগ হবেই। তাছাড়া বাজারে শশার কিছু নতুন জাত এসেছে। সেগুলো আবাদ হচ্ছে। এগুলো মাটির সঙ্গে খাপখাওয়াতে পারছে না। এতে ফলন কম হয়েছে। তবে দাম ভালো পাওয়ায় কৃষক লাভে আছে।
ভোলা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা(উপপরিচালক) মো. খায়রুল ইসলাম মল্লিক বলেন, এবার শশার ফলন ভালোই। ফলন খারাপ না। দামও ভালো পাচ্ছে। তবে সিভিয়ার আকারে ভাইরাস আক্রমন করেছে, এটা আমাদের জানা ছিল না। আমরা খোঁজ নিয়ে দেখব। আসলে ভাইরাসের কোনো ওষুধ নাই। আমরা ভাইরাস বাহক পোকা মারি। বাহক পোকা মারলে আর রোগটি ছড়ায় না। লেগে গেলে ওষুধ না দিয়ে গাছটি তুলে পুড়িয়ে ফেলতে হয় বা নদীতে ফেলে দিতে হয়। তবে কৃষক শশা আবাদ করে ক্ষতি হয়নি। ভারো লাভে আছে।
ভোলাশিবপুরে গৃহবধূ হত্যার প্রধান আসামি গ্রেফতার, ছুরি উদ্ধার
মনপুরায় গ্রেফতারী পরোয়ানা নিয়ে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত পিআইও
লালমোহনে বাজার ও মসজিদের জমি গোপনে চান্দিনা ভিটির নামে ডিসিআর প্রদানের অভিযোগ
ভোলা -৪ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ মোস্তফা কামালের ইন্তেকাল
ভোলায় গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক
ভোলায় যৌথ অভিযানে নকল সিগারেট জব্দ
ভোলায় ২০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুক কর্নার স্থাপনে বুকশেলফ বিতরণ, উপকৃত প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থী
মনপুরায় খেলতে গিয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু
ভারতীয় হাই কমিশনের পহেলা বৈশাখ উদযাপন
রাত ৩টা পর্যন্ত অফিশিয়াল কাজ করেছেন প্রধানমন্ত্রী
ভোলায় বিষের বোতল নিয়ে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকা
ভোলায় পাঁচ সন্তানের জননীকে গলা কেটে হত্যা
ভোলার ৪৩ এলাকা রেড জোন চিহ্নিত: আসছে লকডাউনের ঘোষনা
উৎসবের ঋতু হেমন্ত কাল
ভোলায় বাবা-মেয়ে করোনায় আক্রান্ত, ৪৫ বাড়ি লকডাউন
ভোলায় এবার কলেজ ছাত্র হত্যা, মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধার
ঢাকা-ভোলা নৌ-রুটের দিবা সার্ভিসে যুক্ত হলো এমভি দোয়েল পাখি-১র
জাতীয় সংসদে জাতির পিতার ছবি টানানোর নির্দেশ
কাশফুল জানান দিচ্ছ বাংলার প্রকৃতিতে এখন ভরা শরৎ
ভোলায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন করোনা রোগী: এলাকায় আতংক