অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বৃহঃস্পতিবার, ৪ঠা জুন ২০২৬ | ২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


ভোলায় ভাড়া ফ্যাট বাসা থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, স্বামী ও তা স্বজন পলাতক


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৪ঠা জুন ২০২৬ সন্ধ্যা ০৭:৩৩

remove_red_eye

বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক : ভোলার সদর উপজেলার উকিলপাড়া এলাকার একটি ফ্ল্যাটের ভাড়া বাসা থেকে সুমাইয়া আক্তার মিতু নামে ২৫ বছর বয়সী এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উকিলপাড়া গোরস্থান মাদ্রাসা সংলগ্ন একটি পাঁচতলা ভবনের ভাড়া ফ্যাট বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকেই নিহতের স্বামী সোহাগ ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছেন।
 
নিহতের পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়; বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। 
মিতুর মা আয়শা বেগম জানান, সকালে সোহাগ ফোন করে তাকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। ফোনে তিনি বলেন, “আম্মু, মিতুর সাথে রাগারাগি হয়েছে, আপনি খালাম্মাকে নিয়ে তাড়াতাড়ি আসেন।” এতে সন্দেহ হলে তিনি সোহাগকে বলেন, “তুমি আমার মেয়েকে মেরে এখন আমাকে খবর দিচ্ছ।” এ কথা বলার পরই ফোন কেটে দেন সোহাগ।
খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসার বিছানার ওপর মিতুর মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
নিহতের বাবা বশির অভিযোগ করে বলেন, সোহাগের সঙ্গে মিতুর দাম্পত্য জীবনে দীর্ঘদিন ধরে কলহ চলছিল। এ নিয়ে একাধিকবার বিচার-সালিশও হয়েছে।
 তিনি আরও দাবি করেন, সোহাগ আগেও একটি বিয়ে করেছিলেন এবং সেই স্ত্রীর মৃত্যুও রহস্যজনক ছিল।
স্বজনদের ভাষ্য, “এটি আত্মহত্যা হলে মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যেত। কিন্তু আমরা বিছানার ওপর মরদেহ পেয়েছি। তাই এটি পরিকল্পিত হত্যা বলেই আমাদের ধারণা।”
নিহত সুমাইয়া আক্তার মিতুর আড়াই থেকে তিন বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বামী সোহাগ ভোলা সদরে একটি গ্লাসের দোকান পরিচালনা করতেন।
 
স্বামী সোহাগের বাড়ি দৌলতখান উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের ঘুইংগারহাট এলাকার মাস্টার বাড়িতে। নিহত মিতুর বাড়ি একই উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মিয়ারহাট এলাকার কবিরাজ বাড়ি। পাঁচ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়।
 
স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মিতুর সঙ্গে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের পারিবারিক বিরোধ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশও হয়েছে। প্রায় দেড় মাস বাবার বাড়িতে থাকার পর ঈদের আগের দিন স্বামী সোহাগ তাকে আবার ভোলার উকিলপাড়ার ভাড়া বাসায় নিয়ে আসেন। এর পরই ঘটে এই ঘটনা।স্বজনরা আরও অভিযোগ করেন, সোহাগের আগের স্ত্রীর মৃত্যুও রহস্যজনক ছিল। 
 
মিতুর এমন মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
 
খবর পেয়ে ভোলা সদর মডেল থানা পুলিশ ও র‍্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ করেন। 
ভোলা সদর মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. জিয়া উদ্দিন জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তদন্ত চলছে।