বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩ই জানুয়ারী ২০২৬ রাত ১০:৩৪
৭৬
বাংলার কন্ঠ প্রতিবেদক : বাংলাদেশে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ভয়াবহ বাস্তবতা মোকাবিলায় ভোলায় শুরু হয়েছে একটি নতুন প্রযুক্তিগত উদ্যোগ। দীর্ঘ গবেষণা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে বিশেষ একটি ‘চাইল্ড সেফটি ডিভাইস’ উদ্ভাবন করেছেন ভোলার মনপুরা উপজেলার তরুণ উদ্ভাবক মো. তাহাসিন। মঙ্গলবার দুপুরে ভোলা শহরের পৌর সভার পুকুরে তা পরীক্ষামূলকভাবে সকলকে দেখানো হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ১৪ হাজার শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। পরিসংখ্যান বলছে, অন্যান্য বিভাগের তুলনায় বরিশাল বিভাগে এই হার প্রায় দ্বিগুণ। বিশেষ করে ভোলা, পটুয়াখালীসহ উপকূলীয় জেলাগুলোতে শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এই নির্মম বাস্তবতা মো. তাহাসিনের ব্যক্তিগত জীবনেও গভীর প্রভাব ফেলেছে। চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি তার আপন খালাতো বোন পানিতে ডুবে মারা যায়। এর আগেও একই পরিবারের আরও একটি শিশু একইভাবে প্রাণ হারায়। এসব মর্মান্তিক ঘটনা তাকে সমস্যাটির কার্যকর সমাধান খুঁজতে অনুপ্রাণিত করে।

মনপুরার হাজিরহাট ইউনিয়নের সোনারচর গ্রামের বাসিন্দা, শিক্ষক কারি আবদুল হালিমের তৃতীয় সন্তান মো. তাহাসিন ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির মেকানিক্যাল বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি জানান, ২০২৩ সালের ১ ডিসেম্বর তার এলাকায় এক শিশুর পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনার পর বিষয়টি তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। এরপর প্রায় আট থেকে নয় মাস গবেষণা ও প্রযুক্তিগত প্রচেষ্টার মাধ্যমে তিনি ‘চাইল্ড সেফটি ডিভাইস’টি তৈরি করেন।
উদ্ভাবিত ডিভাইসটি মাত্র দুই গ্রাম ওজনের এবং লকেটের মতো করে শিশুর গলায় পরানো যাবে। শিশুটি পানিতে পড়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে বাড়িতে স্থাপন করা একটি রিসিভার ডিভাইসে উচ্চ শব্দে সাইরেন বাজবে। একই সঙ্গে অভিভাবকের মোবাইলে তাৎক্ষণিক কল যাবে। এছাড়া জিপিএস প্রযুক্তির মাধ্যমে শিশুটি কোন পুকুর বা স্থানে পড়েছে, সেটিও শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
উদ্ভাবক মো. তাহাসিন বলেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর হাজার হাজার শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়, অথচ এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো প্রযুক্তিগত সমাধান নেই। আমি চাই, এই ডিভাইসটি যেন সাধারণ মানুষের কাছে সহজে পৌঁছায় এবং শিশু মৃত্যুর এই মর্মান্তিক সংখ্যা কমাতে ভূমিকা রাখে।

এ বিষয়ে ভোলা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, উদ্ভাবককে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুভকামনা জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতাও করা হবে। পাশাপাশি এই ডিভাইসের প্রচার ও প্রসারে সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
ভোলা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মনিরুল ইসলাম জানান, ডিভাইসটি আরও ছোট ও ব্যবহারবান্ধব করা গেলে এর কার্যকারিতা বাড়বে। এ উদ্যোগের সঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা ও ব্যাপক উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হলে এই ‘চাইল্ড সেফটি ডিভাইস’ উপকূলীয় এলাকাসহ সারা দেশে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
জনগণের শক্তিতেই দেশ পুনর্গঠন করবে বিএনপি: তারেক রহমান
নির্বাচনে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হচ্ছে আগামীকাল
শুক্রবারের মধ্যে নির্বাচনের ফল প্রকাশ: ইসি
সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান-শফিকুর রহমান
সংসদ নির্বাচন: আগামীকাল রাত ১২টা থেকে মোটর সাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা
ভোটের দিন তিন বাহিনীর ড্রোন উড়বে আকাশে
নিজ এলাকার বাইরে ৮১ ঘণ্টা কোনো ব্যক্তির অবস্থান নয়
৭৭ শতাংশ ভোট পাবে বিএনপি, আসন ২২০: জরিপ
ভোটকেন্দ্রে কারা কারা মোবাইল ফোন নিতে পারবেন
ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধ করা নব্য ফ্যাসিজম: সাদিক কায়েম
ভোলায় বিষের বোতল নিয়ে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকা
ভোলায় পাঁচ সন্তানের জননীকে গলা কেটে হত্যা
ভোলার ৪৩ এলাকা রেড জোন চিহ্নিত: আসছে লকডাউনের ঘোষনা
উৎসবের ঋতু হেমন্ত কাল
ভোলায় বাবা-মেয়ে করোনায় আক্রান্ত, ৪৫ বাড়ি লকডাউন
ভোলায় এবার কলেজ ছাত্র হত্যা, মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধার
ঢাকা-ভোলা নৌ-রুটের দিবা সার্ভিসে যুক্ত হলো এমভি দোয়েল পাখি-১র
ভোলায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন করোনা রোগী: এলাকায় আতংক
জাতীয় সংসদে জাতির পিতার ছবি টানানোর নির্দেশ
কাশফুল জানান দিচ্ছ বাংলার প্রকৃতিতে এখন ভরা শরৎ