অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শুক্রবার, ২রা অক্টোবর ২০২০ | ১৬ই আশ্বিন ১৪২৭


স্মৃতির পাতায় প্রণব মুখার্জি:তুমি আমার নাতনীর বয়সী


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১লা সেপ্টেম্বর ২০২০ রাত ০১:৫১

remove_red_eye

১৪১

আসমা আক্তার সাথী: গভীর শ্রদ্ধা বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু প্রণব মুখার্জি।  আজ আপনার এই চির বিদায়ের ক্ষণে আমি বড় স্মৃতি কাতর হয়ে পড়লাম। মাত্র ২৬ বছর বয়সে আপনার মত একজন ব্যক্তিত্বের সাক্ষাতকার নিতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনেকরি ......। আজ খুব ইচ্ছে করছে স্মৃতির ঝাঁপি থেকে আপনাকে নিয়ে  কিছু কথা লিখতে। 
 
ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি, ২০০৬ সালের মার্চ মাসে যখন আমি আরটিভির রির্পোটার হিসাবে দিল্লীতে তাঁর সাক্ষাতকার নিয়েছিলাম, তখন তিনি ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। সত্যিকার অর্থে এক জন নেতা ছিলেন তিনি। তাঁর বণার্ঢ্য জীবনের খুব কমই আমি জানি। খুব অল্প সময়ে যতটুকুন আমি সামনাসামনি দেখেছি ততটুকুন আজ লিখে রাখছি। একজন রাজনীতিবিদ,  একজন রাজনৈতিক নেতা,  একজন মন্ত্রীর বাসা বা অফিস এবং তিনি নিজে কতটা নিরহংকার কতটা সাদামাটা কতটা জৌলুষহীন হতে পারেন তা প্রণব মুখার্জির ইন্টারভিউ না নিতে গেলে এই জীবনে জানা হতো না। আমরা ( আমি এবং হুদা ভাই) যখন তাঁর অপেক্ষায় তখনই তাঁর বসার ঘর দেখে যার পর নাই বিস্মিত হয়েছি। ছিমছাম পরিষ্কার কিন্তু অত্যন্ত সাদাসিধা। সাদা পর্দাগুলো দেখেই বোঝা যাচ্ছিল যে এগুলো বহু বহু বার ঘুরে এসেছে লন্ড্রী বাড়ি। চাকচিক্যহীন সোফাসেট শুধু বসার কাজ চালিয়ে নেয়ার জন্যই। সেন্টার টেবিলটির বার্ণিশটা পর্যন্ত প্রায় উঠে গেছে। ছোট্ট একটি ডিভান মত বসার স্থানে একটি সাদা চাদর যার এক কোনায় সুতো বেরিয়ে গেছে এবং এই চাদরটি জীবনে কত কত বার নীলের পানিতে চুবা খেয়েছে তা অনুমান করাও মুশকিল। এরপরে যখন তাঁর অফিস রুমে গেলাম সেই একই সাদাসিধে রূপ। যার প্রমাণ সাক্ষাতকার গ্রহণকালীন ছবিগুলো। এ কথাগুলো বলার কারণ একটাই, আসলে সাংবাদিকতার সুবাদে নিজের দেশের অনেক মন্ত্রী এমপির চোখ ধাঁদানো বাসা অফিসে তখন এত ঘুরেছি যে মন্ত্রীর বাসা মানেই তখন আমার কাছে চাকচিক্যময় চোখ ঝলসানো আগুন সৌন্দর্য্যের এক সমারোহ। যেখানে দামী দামী আসবাবপত্র, শোপিস, আর্টিফিশিয়াল ঝর্ণা, চেঞ্জিং গাছ, নানা রকম আলোর ঝলকানি। তাই চোখের আর কি দোষ, অভস্ত্যতার ব্যাপারটা এড়িয়ে প্রণব মুখার্জির বাসভবনের এই সাদামাটা সাজটা ঠিক নিতে পারছিল না আমার চোখ। তাই বিস্ময় কাটেনি আজও। কিন্তু মনটা ঠিকই পার্থক্যটা টের পেয়েছিল। নেতা যদি হয় তো এমনই হওয়া উচিৎ।
 
বিস্ময়ের ঘোর কাটতে না কাটতেই আবার খেলাম ধাক্কা। অবশ্য ধাক্কা আমি আগেই খেয়েছি।  যখন বিনা কসরতে মাত্র এক বার টেলিফোনের পর বাংলায় লেখা এক চিঠি ফ্যাক্স করে তাঁর অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেয়েছি। শুধুমাত্র বাংলাদেশী সাংবাদিক হবার সুবাদেই মনেহয় এই সুযোগটা পাওয়া।
দেখা হবার পর মূহুর্তেই জানলাম কি অমায়িক তাঁর ব্যবহার। আমার মত এক পুচকি সাংবাদিকের সাথেও কি বিনয়... আসলে ওনাদের মত নেতাদের কাছ থেকে শেখার আছে অনেক কিছু। মানে আপনা থেকেই মনের গহীন কোণে শ্রদ্ধা এসে যায়। 
যাইহোক এতবড় মাপের চৌকস প্রবীণ এক রাজনীতিবিদের সাক্ষাতকার নিব যখন ঠিক করেছি তখন দেশ থেকে যাবার আগে আমার দেশ পত্রিকা ঘেটেঘুঁটে বেশ কিছু স্টাডি করে গিয়েছিলাম তাঁর উপরে। এ কাজে সহযোগিতার জন্য মাহমুদ ভাইকে Mahmud Hasan ধন্যবাদ না জানালেই নয়। যাইহোক আমার অতি ক্ষুদ্র জ্ঞানে আমি দু'দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে যেমন পেরেছি সাক্ষাতকার নিয়েছি। 
 সাক্ষাতকার শেষে খুব মজার একটা কথা বললেন তিনি আমাকে " আমিতো ভেবেছিলাম বাংলাদেশ থেকে সে দেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রোগ্রাম কভার করতে এসেছেন, বেশ সিনিয়র, বয়স্ক কেউ হবে, এখনতো দেখছি তুমি আমার নাতনীর বয়সী!!!   কিন্তু তুমি খুব ভাল করেছ "। এ আমার ১১ বছরের সাংবাদিকতা জীবনের এক পরম পাওয়া। সাক্ষাতকার গ্রহণ শেষে তাঁর অফিস রুমের পাশেই একটি রুমে বসে স্ক্রিপ্ট লিখেছি, ক্যাসেটে ভয়েস দিয়েছি এবং প্লেনে করে সেই ক্যাসেট তখনই পাঠিয়ে দিয়েছি। আমরা দিল্লিতে থাকাকালীন সময়েই প্রণব মুখার্জির সাক্ষাতকার অন এয়ার হয়েছে। 
ফটো ক্রেডিট Md Shamsul Huda। শুধু তাই নয় এটা ছিল আমাদের যৌথ প্রয়াসের একটা ফল। হুদা ভাই আমাকে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন সব সময়।  কখনও আঙ্কেল হয়ে, কখনও বড় ভাই হয়ে। টিভি রিপোর্টিং যে একটা টীম ওয়ার্ক আমাদের প্রতিটি কাজ সে কথা বলে। ধন্যবাদ হুদা ভাই....। দেশে এবং বিদেশে প্রতিটি ট্যূরই আমি ভীষণ উপভোগ করেছি আপনার সাথে।