অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শুক্রবার, ৫ই জুন ২০২০ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭


ভোলায় এবার আউশ আবাদের লক্ষমাত্রা প্রায় এক লাখ হেক্টর জমিতে


হাসনাইন আহমেদ মুন্না

প্রকাশিত: ৩০শে এপ্রিল ২০২০ সন্ধ্যা ০৭:০১

remove_red_eye

৮৯

হাসনাইন আহমেদ মুন্না :: জেলায় চলতি মৌসুমে ৯৭ হাজার ২২৩ হেক্টর জমিতে আউশ ধান আবাদ করা হবে। যা গত বছরের চাইতে ১৪ হাজার ২২৩ হেক্টর জমি বেশি। বৈশ্বিক মহামারি করোনা’র প্রভাবে যাতে দেশে খাদ্য সংকট না হয় সে কারণে এবার আবাদির জমির পরিমান বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া আউশ আবাদে কৃষকদের উৎসাহিত করতে জেলায় ১৭ হাজার প্রান্তিক কৃষকের মাঝে উন্নত বীজ ও সার বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। সরকারিভাবে প্রত্যেককে ৫ কেজি উচ্চফলনশীল জাতের বীজ, ২০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার প্রদান করা হয়েছে।

নির্ধারিত জমি থেকে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৫১১ মে:টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। মোট আউশের মধ্যে উচ্চ ফলন শীল (উফশী) রয়েছে ৭৩ হাজার ২৭৩ হেক্টর জমি, স্থানীয় ২৩ হাজার ৯৪০ ও হাইব্রীড রয়েছে ১০ হেক্টর জমিতে।

কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, আউশ ধানের চারা রোপনের জন্য মোট বীজতলা করা হয়েছে ৫৫৩ হেক্টর জমিতে। আর গতকাল পর্যন্ত আবাদ হয়েছে প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে। আবার অনেক কৃষক সরাসরি মাটিতে সামান্য গর্ত করে বীজ পুতে দিচ্ছে। তাই চলতি বর্ষায় মাটি নরম হওয়ায় কৃষকদের চারা রোপনে বাড়তি সুবিধা হচ্ছে। আগামী জুন মাস পর্যন্ত এই জেলায় আউশ আবাদ চলবে।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো: হুমায়ুন কবির বাসস’কে জানান, জেলার মোট আউশ আবাদের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে সদরে রয়েছে ১৮ হাজার ৪৪০ হেক্টর জমিতে, দৌলতখানে ১০ হাজার ৯৮০, বোরহানউদ্দিনে ৭ হাজার ৬৯০, তজুমদ্দিনে ৪ হাজার ৮৯০, লালমোহনে ১৪ হাজার ৪৫৫, চরফ্যাশনে ৩৪ হাজার ৬১০ ও মনপুরায় ৬ হাজার ১৫৮ হেক্টর জমি রয়েছে।

উপজেলা সদরের দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামের কৃষক কামরুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান ও বেলায়েত হোসেন বলেন, তারা ৪ একর জমিতে আউশের আবাদ করছেন। জমি প্রস্তুত শেষে এক সপ্তাহ হলো চারা রোপন শুরু করেছেন। কৃষি বিভাগ থেকে সব ধরনের পরামর্শ পাচ্ছেন বলেও জানান তারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হরলাল মধু বাসস’কে বলেন, গত বছর এই জেলায় ৮৩ হাজার হেক্টর জমিতে আউশের আবাদ হলেও এবার তা বৃদ্ধি করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে যাতে দেশে খাদ্য সংকট দেখা না দেয় সে ব্যাপারটা আমাদের মাথায় রয়েছে। একইসাথে এবার বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে ৫০০ প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে চাষীরা ব্যাস্ত সময় পার করছে চারা রোপনে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা কৃষকদের সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রাখছে। চারা রোপন, সুসম মাত্রায় সার প্রয়োগসহ সব ধরনের পরামর্শ কৃষকদের দেয়া হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে অঅউশ আবাদ লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে এই অঞ্চলে আউশের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনার কথা বলেন তিনি।




আজকের সাহরীর ও ইফতারে সময় সূচী ভোলা জেলার জন্য