অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, সোমবার, ৪ঠা মে ২০২৬ | ২১শে বৈশাখ ১৪৩৩


ভোলায় শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি জনজীবন বিপর্যস্ত


হাসনাইন আহমেদ মুন্না

প্রকাশিত: ১৩ই জানুয়ারী ২০২৪ বিকাল ০৫:৩৪

remove_red_eye

৩৮৬

হাসনাইন আহমেদ মুন্না :  ভোলায় গত দুই তিন দিন ধরে হিমেল হাওয়া ও শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত। পৌষের শেষ দিকে এসে দিনের বেলা রোদের দেখা মিলছে অল্প সময়ের জন্য। সকাল থেকেই কনকনে ঠান্ডাবাতাস ও কুয়াশায় ঢেকে থাকে চারপাশ। ব্যাঘাত ঘটছে মানুষের দৈনন্দিন স্বাভাবিককার্যক্রমে। গ্রামগঞ্জে অনেক আগুন জ্বালিয়ে ঠান্ডা থেকে রক্ষা পেতে উষœতার জন্য চেষ্টা করছে। শনিবার ভোলা জেলায় সর্বনিম্ন ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। শুক্রবার রেকর্ড করা হয়েছিলো ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এদিকে হাড়কাঁপানো শীতে বিপাকে পড়েছে নি¤œ আয়ের, শ্রমজীবী, খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে নদীর পাড় ও চরাঞ্চলগুলোতে শীতের প্রকোপ বেশি। ভোলা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত সমস্যা নিয়ে শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। অধিকাংশ দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বেলা করে খুলতে দেখা যায়। ইতোমধ্যে জেলায়শীতার্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকারিভাবে ৪৩ হাজার ৫’শ ৪০ পিস কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
ভোলা আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক মো: মাহবুব রহমান বলেন, ভোলার উপর দিয়ে মৃদ শৈত প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। শনিবার সকাল ৯ টায় জেলায় ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। তাপমাত্রা আরো হ্রাসপাওয়ার আশংকা রয়েছে। আরো কিছুদিন এমন অবস্থা বিরাজ করতে পারে বলে জানান তিনি।
শহরের নতুন বাজার সড়কের রিকশা চালক হায়দার হোসেন, সবুজআলম ও নিরব বলেন, রিকশায় দুপুর পর্যন্ত কিছু যাত্রী পাওয়া গেলেও বিকেলের পর থেকে আর যাত্রী পাওয়া যায়না। ঠান্ডার দাপটে মানুষজন রিকশায় উঠতে চায়না। আরশীতে তাদেরও কষ্টহয়। সদরের তুলাতুলি এলাকার মেঘনাপাড়ের জেলে রফিকুল ও হাসেম মাঝি বলেন, গত দুইদিন বাতাস বাড়াতে শীত বাড়ছে। মাছশিকারের অধিকাংশ সময় নদীতে থাকতে হয়। তাই গরম কাপড় গায় জড়িয়েই প্রতিক’ল পরিস্থিতির সাথে যুদ্ধ করেটিকে থাকতে হয়। তীব্র শীতের কারণে আবার অনেক জেলেই রাতে নদীতে যাচ্ছেনা।
এদিকে প্রচন্ড শীতে গরম কাপড়ের চাহিদা বেড়েছে। বিষেশ করে ফুটপাতের দোকান গুলোতে শীতের পোশাক কিনতে ক্রেতারা ভিড় করছেন। গ্রামীণএলাকার বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষজনকে আগুন জ্বালিয়ে অতিরিক্ত ঠান্ডা থেকে নিজেদের রক্ষাকরতে দেখাযায়।
ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেলহাসপাতালেরতত্তাবধায়ক মো: মনিরুল ইসলাম বলেন, ভোলায় তীব্র শীতে শিশুদের ঠান্ডাজানিত রোগ নিউমনিয়া বাড়ছে। আজকের শিশুওয়ার্ডে ৭৮ জনশিশু রোগীরমধ্যে ৫৯ জনই নিউমনিয়ায় আক্রান্ত। তাই শীতে সব সময় বাচ্চাদের গরম কাপড়ে ঢেকে রাখতে হবে। ঠান্ডা লাগার প্রথম পর্যায়ে যদি শিশুদের চিকিৎসা দেয়া হয় তাহলে নিউমনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশংকা থাকেনা। তাই বাচ্চাদের ঠান্ডা জানিত সমস্যা দেখাদিলে দ্রæতচিকিৎসকের পরমার্শ গ্রহণেরপরামর্শ দেন তিনি।