অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, সোমবার, ৪ঠা মে ২০২৬ | ২১শে বৈশাখ ১৪৩৩


ভোলায় এক সপ্তাহে ৬৯১ জন আক্রান্ত শিশু হাসপাতালে ভর্তি


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৪শে নভেম্বর ২০২৩ রাত ১০:৫৭

remove_red_eye

২৫১

মলয় দে : ঋতু পরিবর্তনের  সাথে সাথে দ্বীপজেলা ভোলায় নিউমোনিয়া,জ্বর ও ডায়রিয়াসহ ঠান্ডা জনিত নানা রোগে শিশুদের আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। অতিরিক্ত কয়েক রোগীর কারনে ভোলা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে সিট সংকুলান হচ্ছে না। এতে করে রোগীরা চরম দুভোর্গে রয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে  শিশু ওয়ার্ডের ভেতরে ও বাহিরে মেঝেতে ঢালা বিছানায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে শত শত শিশু রোগীদের। গত ৭ দিনে ডায়রিয়াতে ৪৪৯ জন ও নিউমোনিয়াতে ২৪২ রোগী জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছন। অতিরিক্ত রোগীর চাপে বাধ্য হয়ে ডাক্তার ও নার্সরা চিকিৎসা দিতে গিয়ে রীতিমত হিমসিম খাচ্ছেন।

ভোলা সিভিল সার্জন অফিসের এক পরিসংখ্যানে জানাযায়, গত ২৪ ঘন্টয় ভোলায় জেলায় ৭৪ জন ডায়োরিয়া ও ২৬ জন  নিউমোনিয়া রোগী আক্রান্ত হয়ে ভোলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এছাড়াও গত এক সপ্তাহে ডায়োরিয়া ও নিউমেনিয়াতে ৬৯১ জন ও গত ১ মাসে এক হাজার চার ৪২৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছে এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে।

ভোলায় শীতের শুরুতে শিশুদের ডায়োরিয়া,নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডা জনিত রোগ হঠাৎ করেই বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিদিন প্রায় একশত রোগী ভোলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন যে  ভোলার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে অতিরিক্ত রোগীর কারনে সিট পাচ্ছে না। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের মাত্র ৩০টি সিট রয়েছে। তাই  একাধিক রোগ কে গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিচ্ছে। সিট না পেয়ে অনেক অসুস্থ শিশু মেঝেতে ও বারান্দায় বিছানা বিছিয়ে নিতে হচ্ছে চিকিৎসা সেবা।  এতে করে  ঠান্ডায় অসুস্থ বাচ্চারা আরো অসুস্থ হয়ে পড়ছে। তাদের দুর্ভোগের কোন শেষ নেই। পাশাপাশি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ঔষধ সামগ্রী না পাওয়ায় রোগীর স্বজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ভোলা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু)ডাঃ মোঃ সালাউদ্দিন জানান, প্রতিবছর ঋতু পরিবর্তনের কারনে ভাইরাসজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। তাই নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াসহ ঠান্ডাজনীত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায় ।  বর্তমানে শিশুদের ডায়রিয়া রোগের সংখ্যা বেশী বৃদ্ধি পেয়েছে।  তাই  সর্তক থাকার পরামর্শ দেন অভিবাবকদের।
 ভোলা ২৫০ শয্যার হাসপাতালের তত্ত¡াবধায়ক মু: মনিরুল ইসলাম জানান, তার হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ সবচেয়ে বেশী। এই ওয়ার্ডে প্রতিনিয় ২০০-২৫০ জন রোগী ভর্তি থাকায় বাধ্য হয়ে এক বেডে একাধিক রোগী দিতে হচ্ছে। চিকিৎসক কম থাকায় রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তার পরও সল্প সংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে সাধ্যমতো চিকিৎসা সেবা দেয়ার পাশাপাশি ঔষধ সংকট দ্রæত নিরসন হয়ে যাবে বলে জানান তিনি।